ঢাকা, মঙ্গলবার,২৩ জানুয়ারি ২০১৮

তুরস্ক

সকলেরই স্রষ্টার সৃষ্টির প্রতি ভালোবাসা দেখানো উচিত : এরদোগান

নয়া দিগন্ত অনলাইন

১০ জানুয়ারি ২০১৮,বুধবার, ১৭:০৩


প্রিন্ট
সকলেরই স্রষ্টার সৃষ্টির প্রতি ভালোবাসা দেখানো উচিত : এরদোগান

সকলেরই স্রষ্টার সৃষ্টির প্রতি ভালোবাসা দেখানো উচিত : এরদোগান

কামাল আতাতুর্কের পর তুরস্কের সবচেয়ে শক্তিশালী নেতায় পরিণত হয়েছেন রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান। চার চারটি নির্বাচনে জয়লাভের মাধ্যমে তুর্কি নেতা এরদোগান তার পার্টির রাজনৈতিক কর্তৃত্বকে সফলভাবে পরিচালিত করতে এবং তুরস্কের প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার পরিচয় ও সার্বভৌমত্বকে চিহ্নিত সক্ষম হয়েছেন। 

তুরস্কসহ মুসলিম বিশ্বের জন্য এরদোগান আশাব্যঞ্জক কিছু আনতে পারেন যা তার ইসলামি শিকড়কে গর্বিত করবে। তরুণদের উদ্দেশে দেয়া ভাষণে এরদোগান বলেছেন, ‘তুরস্ক তার নীতিমালা, স্বাধীনতার মূল্যবোধের আদর্শকে অগ্রাধিকার দেয় এবং বিশ্বের দুর্বল ও নিপীড়িত মানুষের পক্ষে কথা বলে। ইসলামি নীতিসমূহ বলছে যে সর্বশক্তিমান আল্লাহ তায়ালার জন্য স্রষ্টার সৃষ্টির প্রতি সকলকে ভালোবাসা দেখানো উচিত।’

এরদোগান বলেছিলেন, বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন স্থানেই মুসলিম দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। পাকিস্তান ও ইরানের মতো একই ধরনের হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে ইরাক, সিরিয়া, লিবিয়া, তিউনিসিয়া, সুদান ও শাদে। খেয়াল করে দেখুন, এসবই মুসলিম দেশ।

এরদোগান বলেছেন, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্য নিন্দনীয় ও ভিত্তিহীন। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রামে পাকিস্তান যে ত্যাগ স্বীকার করেছে সেটার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করতে হবে। আফগানিস্তানে তৎপর সন্ত্রাসীদের প্রতি পাকিস্তান সমর্থন দিচ্ছে বলে ট্রাম্প যে অভিযোগ করেছেন তার কোনো ভিত্তি নেই। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রামে পাকিস্তানের যেসব নাগরিক প্রাণ বিসর্জন দিয়েছেন এবং ক্ষতির শিকার হয়েছেন তাদের সবার প্রতি সম্মান রেখে কথা বলা উচিত। যে কোনো বিপদে তুরস্ক বন্ধুরাষ্ট্র পাকিস্তানের পাশে থাকবে।

ইতোপূর্বেও এরদোগান মুসলিম দেশগুলোর ব্যাপারে স্পষ্ট অবস্থান ও ভূমিকা রেখেছেন। তিনি বলেছিলেন, সুন্নি বা শিয়া নামে কোনো ধর্ম নেই, আমাদের ধর্ম একটাই, সেটা হলো ইসলাম।পশ্চিমা দেশগুলো মুসলমানদের বিভক্ত করার চেষ্টায় লেগে আছে। পাশ্চাত্যের মিডিয়াগুলো আমাকে এবং তুরস্ককে সুন্নি মুসলমানদের দেশ হিসেবে ডাকে। কিন্তু আমরা সুন্নি বা শিয়া নামের বিভক্তির অংশ হব না। কারণ আমরা কেবল ইসলামকেই ধর্ম মনে করি। এমন চক্রান্তমূলক খেলা থেকে খুবই সতর্ক থাকা জরুরি।

তিনি আরো বলেছেন, জেরুসালেম ইস্যু মুসলিম উম্মাহর জন্য একটি নতুন পরীক্ষা। একই সাথে এটি তুর্কি জাতি, এই অঞ্চল এবং দুনিয়ার নিপীড়িত জনগোষ্ঠীগুলোর জন্যও পরীক্ষা। আঙ্কারা তার পররাষ্ট্রনীতিকে আরো দৃঢ় করতে একটি ‘সাহসী ও ঝুঁকিপূর্ণ’ নীতি গ্রহণের জন্য প্রস্তুত রয়েছে।মধ্যপ্রাচ্য এবং জেরুসালেম ইস্যুতে তুরস্ক সক্রিয় ভূমিকা পালন করে যাবে। এই অঞ্চলের বিদ্যমান সমস্যার সমাধান না করে তুরস্ক তার ভবিষ্যৎ রক্ষা করতে সক্ষম হবে না। এসব সমস্যা আমাদের আরো সক্রিয়, সাহসী পররাষ্ট্রনীতির দিকে পরিচালিত করছে এবং প্রয়োজন হলে আমরা আরো ঝুঁকিপূর্ণ নীতির দিকে অগ্রসর হবো। এই অঞ্চলের বিষয় নিয়ে আঙ্কারা আন্তর্জাতিক অঙ্গনের অন্যান্য নেতার সাথে আলোচনা করবে না এবং বিশেষভাবে মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে যাবে। তুরস্কের সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলো দেশটিকে আঞ্চলিক শক্তিগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালনের সক্ষমতা দিয়েছে। এই অঞ্চলের উত্তেজনা হ্রাস করতে বছরজুড়ে আমরা সিরিয়ার ইদলিবে অপারেশন পরিচালনা করেছি এবং শেষ পর্যন্ত ইরাকে আঞ্চলিক সরকারের স্বাধীনতার দাবি বাতিল করাতে সক্ষম হয়েছি। আর তা সম্ভব হয়েছে আমাদের দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণের কারণে।

এরদোগান বলেছিলেন, ইসরাইল ও ক্ষুদ্র কয়েকটি রাজ্য ছাড়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপে কোনো রাষ্ট্র সমর্থন দেয়নি। বিপরীতে ফিলিস্তিনের রাজধানী হিসেবে জেরুসালেমের স্বীকৃতি অর্জনে তাদের পদক্ষেপ একটি অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করেছে।

 

 

অন্যান্য সংবাদ

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫