ads

ঢাকা, শুক্রবার,২০ এপ্রিল ২০১৮

তুরস্ক

আরো শক্তিশালী হচ্ছে তুরস্কের সেনাবাহিনী : নতুন কিছু করার ইঙ্গিত এরদোগানের

নয়া দিগন্ত অনলাইন

১০ জানুয়ারি ২০১৮,বুধবার, ১৬:৫২


প্রিন্ট
আরো শক্তিশালী হচ্ছে তুরস্কের সেনাবাহিনী : নতুন কিছু করার ইঙ্গিত এরদোগানের

আরো শক্তিশালী হচ্ছে তুরস্কের সেনাবাহিনী : নতুন কিছু করার ইঙ্গিত এরদোগানের

২০১৮ সালে ৪৩ হাজার সেনা সদস্য নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে তুরস্ক। দেশটির সেনাবাহিনীর ইতিহাসে এক সাথে এত বড় নিয়োগ প্রক্রিয়া এই প্রথম। এই বিশাল সংখ্য সেনার মধ্যে প্রায় ৪ হাজার কমিশনড অফিসার থাকবেন। এছাড়া নন-কমিশনড অফিসার নিয়োগ পাবেন ৫ হাজারের বেশি।

স্পেশাল সার্জেন্ট পদে নিয়োগ দেয়া হবে ১৩ হাজার এবং চুক্তিভিত্তিক অফিসার নিয়োগ পাবেন ২০ হাজারের বেশি। সর্বশেষ ব্যর্থ সেনা অভ্যুত্থানে কয়েক হাজার সেনা কর্মকর্তা ও সদস্যকে বরখাস্ত করা হয়। অনেকে এখন বিচারের মুখোমুখি। তবে বরখাস্ত অফিসারের সংখ্যার চেয়ে নতুন নিয়োগ দেয়া সংখ্যাটি অনেক বেশি। এর মাধ্যমে সেনাবাহিনীকে আরো শক্তিশালী করার ইঙ্গিত দিলেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান।

বর্তমানে তুরস্কের সেনারা দেশের বাইরেও অভিযান চালাচ্ছে। এছাড়া কাতার, সোমালিয়াসহ বিভিন্ন জায়গায় নতুন নতুন ঘাঁটি করছে তুরস্ক। ফলে সেনাবাহিনীতে আরো বেশি লোকবল দরকার। অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে আরো সাহসী ও দৃঢ় পদক্ষেপ নেবে তুরস্ক- এমন ঘোষণা দিয়েছে তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান। এরদোগান বলেন, এখন থেকে যত ঝুঁকিই থাকুক না কেন- তুরস্কের পররাষ্ট্রনীতি আরো সাহসী এবং আরো সক্রিয় হবে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন প্রভাব কমতে শুরু করেছে। নানা সময়ে ভুল সিদ্ধান্ত নেয়ার কারণে কমছে মার্কিন মিত্র সৌদি আরবের প্রভাবও। উল্টো দিকে তুরস্ক তার প্রভাব বাড়িয়ে চলেছে। ইরান ও রাশিয়ার সাথে যৌথভাবে সিরিয়া সংকটের সমাধানে অগ্রগামী ভূমিকায় আছে আংকারা। এছাড়াও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশে বাণিজ্যিক, কূটনৈতিক এমনকি সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি করছে। এরদোগানের এই ঘোষণায় আরো বড় কিছু ইঙ্গিত রয়েছে। বিশেষ করে সুদানের সুয়াকিন দ্বীপ নিজেদের হাতে নেয়ার মাধ্যমে গত বছর শেষ করায় অনেকের ঔৎসুক্য তৈরি হয়েছে।

তুরস্কের বৃহত্তম সামরিক প্রশিক্ষণ স্থাপনা কাতারে

দেশের বাইরে কাতারে সবচেয়ে বড় সামরিক প্রশিক্ষণ স্থাপনা তৈরি করেছে তুরস্ক। রবিবার কাতারে এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটির উদ্বোধন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে মূলত নিজেদের আরো বেশি শক্তি বৃদ্ধি করল তুরস্ক। দেশ দু’টির কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হচ্ছে এই অঞ্চলের দেশগুলোর নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার বিষয়টি।

কাতারের প্রতিরক্ষাবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী খালিদ বিন মোহাম্মদ আল আতিয়াহ এবং তুরস্কের জাতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রী নুরেত্তিন কানিক্লি প্রশিক্ষণ স্থাপনাটির উদ্বোধন করেন। এতে কাতারের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, তুরস্ক ও অন্যান্য দেশের কূটনীতিকরা উপস্থিত ছিলেন। প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটিতে হেলিকপ্টার ফ্লাইট সিমুলেশনের সুবিধাও থাকবে।

কাতারের সরকার ও জনগণ তুরস্কের এই সহযোগিতার প্রশংসা করছে এবং এটি ভবিষ্যতে দেশটির সামরিক বাহিনীর সদস্যদের প্রশিক্ষণে অনেক ভূমিকা রাখবে। অনুষ্ঠানে সামরিকভাবে শক্তিশালী করতে কাতারের প্রতি তুরস্কের এই সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়।

এ সামরিক প্রশিক্ষণ স্থাপনাটি নির্মিত হবে তুরস্ক সরকার, বিমান প্রতিরক্ষা এবং সেনা সফটওয়্যার কোম্পানি হ্যাভেলসান এর যৌথ উদ্যোগে। অত্যাধুনিক প্রশিক্ষণ সরঞ্জামের পাশাপাশি উৎকর্ষ প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটানো হবে। সময়োপযুগী ও মানসম্মত প্রশিক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা থাকবে।

তুরস্কের জাতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রী নুরেত্তিন কানিক্লি বলেন, তুরস্ক-কাতারের মধ্যে রয়েছে ভ্রাতৃপ্রতিম সম্পর্ক, কৌশগত ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বেশ জোরদার। আমরা দিন দিন প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রকে শক্তিশালী করার চেষ্টা করছি। সামরিক শক্তি বৃদ্ধির উদ্দেশ্যেই নতুন প্রশিক্ষণের সুযোগ-সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছি।

যেসব দেশ তাদের প্রতিরক্ষা সেক্টরকে অবহেলা করছে, দীর্ঘমেয়াদে তাদের অস্তিত্বই হুমকির মুখে পড়ছে। তুরস্ক প্রতিরক্ষা সামর্থ্যে যথেষ্ট অগ্রসর। বিশেষ করে ড্রোন প্রযুক্তিতে তুরস্ক বেশ এগিয়ে রয়েছে। ভবিষ্যতে ড্রোনের মাধ্যমেই সামরিক বিমান-হেলিকপ্টার পরিচালিত হবে।

ইতোমধ্যেই কাতার বিমান বাহিনীর ৫৫ জন পাইলট এবং ৪০ জন ইঞ্জিনিয়ার গুরুত্বপূর্ণ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছে। তুরস্কই কাতারের সেনা সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখে চলেছে। কাতার সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সামরিক শক্তি উত্তরোত্তর বৃদ্ধি করতে সক্ষম হয়েছে।

২০১৫ সালে সামরিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করে দুই দেশ। সম্পাদিত সামরিক সহযোগিতা চুক্তির মধ্যে ছিল অপারেশনের অভিজ্ঞতা ও প্রশিক্ষণ বিনিময়, সামরিক শিল্পের উন্নয়ন, প্রয়োজনের সময়ে উভয় দেশে যৌথ সেনাবাহিনী ফের মোতায়েন ও যৌথ সামরিক মহড়া। এই চুক্তি এই অঞ্চলে তুরস্কের জন্য কৌশলগত ক্ষেত্র প্রদান করেছিল। এই চুক্তি কাতারে তুরস্কের সশস্ত্রবাহিনী মেতায়েনকে অনুমোদন করেছিল একইভাবে কাতার ও তুরস্কের ভূমিতে তার সশস্ত্রবাহিনী মোতায়েন করতে পারবে বলে উল্লেখ করা হয়েছিল।

২০১৪ সালে চুক্তি বাস্তবায়নের মাধ্যমে তুরস্ক কাতারে সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করে। সেখানে বর্তমানে তুর্কি সেনা মোতায়েন রয়েছে। কাতার শুরুতে পদাতিক সেনা, পরে নৌবাহিনীর সদস্য এবং এফ-১৬ যুদ্ধবিমান মোতায়েন করে। এই সামরিক ঘাঁটি উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা প্রদানকারী।

উল্লেখ্য সামরিক সক্ষমতার দিক থেকে বিশ্বে অন্যতম শক্তিধর দেশ তুরস্ক। জনশক্তি, যুদ্ধাস্ত্র, প্রযুক্তি-প্রশিক্ষণ ও সামরিক ব্যয়সহ বিভিন্ন দিক থেকে তুর্কি সামরিক বাহিনী বিশ্বের সেরা বাহিনীগুলোর একটি। ১৯৫২ সাল থেকেই দেশটি বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক জোট ন্যাটোর সদস্য।

সূত্র : ডেইলি সাবাহ

 

ads

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫