ঢাকা, বুধবার,১৭ জানুয়ারি ২০১৮

প্রকৃতি ও পরিবেশ

৩৭ বছর পর বরফে ঢাকল সাহারা মরুভূমি

নয়া দিগন্ত অনলাইন

১০ জানুয়ারি ২০১৮,বুধবার, ১৫:২২


প্রিন্ট
৩৭ বছর পর বরফে ঢাকল সাহারা মরুভূমি

৩৭ বছর পর বরফে ঢাকল সাহারা মরুভূমি

মরুভূমিতে বরফ! শুনতে অনেকটা সোনার পাথর বাটির মতো লাগলেও প্রকৃতির খেলায় তাও সম্ভব হয়েছে। দুধ সাদা তুষারে আবৃত হয়েছে সাহারা মরুভূমি। যেন সাদা চাদরে মোড়া শীতের সাহারা। তবে, এই প্রথম নয়। ৩৭ বছর আগেও একবার এমনটা হয়েছিল। সেই স্মৃতি প্রবীণদের মনে থাকলেও নতুন প্রজন্মের কাছে সাহারার এই আশ্চর্যজনক ঘটনা একদম নতুন।
সাধারণত গরমের সময় আফ্রিকার সাহারায় তাপমাত্রা ১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি পৌঁছে যায়। নির্দিষ্ট কয়েকটি ছোট ঝোপঝাড় ছাড়া আর কিছুই যেখানে মাথা তুলতে পারে না। মরুভূমির কোথায় শুরু, কোথায় শেষ, তাও এক রহস্য। তেমনই বিশ্বের অন্যতম উষ্ণ এলাকায় তুষারপাত আরও বড় একটি রহস্য। প্রকৃতির এক অদ্ভূত খেলায় ১৯৭৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি তুষারঝড়ের হাত ধরে বরফে ঢেকে গিয়েছিল সাহারা। তারপর ২০১৬ সালে সাহারার আলজেরিয়ার অইন সেফ্রা শহরে বড়দিনের শুরুতে একবার বরফ পড়েছিল। ফের ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে হলো।
স্থানীয় হাওয়া অফিস বলছে, উত্তর আফ্রিকা থেকে শীতল হাওয়া নীচের দিকে নেমে আসছে। যার জেরে কমছে তাপমাত্রা। প্রায় ১৬ ইঞ্চি বরফে ঢেকে গিয়েছিল সাহারার বিস্তীর্ণ অঞ্চল। কোথাও কোথাও ৪০ সেন্টিমিটারের বেশি তুষারপাত হয়েছে। গত রোববার সকাল থেকে তুষারপাত শুরু হয়। দ্রুত হলদেটে বালি সাদা হয়ে যায়। প্রতি বছরই এই সময় সাহারা ভ্রমণে যান চিত্রগ্রাহক কারিম বইচেটাটা। মরুপ্রান্তরেই তাঁবু খাটিয়ে থাকেন। রোববার রাতে একটা ঝড় এসেছিল। সকালে হিমশীতল পরিবেশে ঘুম ভাঙে তার। তাঁবু থেকে বেরিয়ে তিনি অবাক হয়ে যান। প্রথমে কিছুটা থতমতও খেয়ে বোঝার চেষ্টা করেন, তিনি এখন কোথায়? হিমালয়ে না সাহারায়? বিশ্বের অন্যতম গরম এলাকা এখন বরফে ঢাকা। তিনি জানান, আমরা সত্যিই অবাক হয়ে গিয়েছিলাম। এত বরফ! সারাদিন বরফে ঢাকা ছিল চারিদিক। বিকেলের দিকে আস্তে আস্তে গলে যায়। বরফ গললেও রোমাঞ্চটা রয়েই যাচ্ছে। সাহারা মরুভূমি তুষারে ঢাকা। ফের কবে এই দৃশ্য দেখা যাবে, তা জানা নেই। তবে সাহারা যে নতুন শিহরণ তৈরি করল, তা নিশ্চিত করে বলাই যায়।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫