ঢাকা, মঙ্গলবার,২৩ জানুয়ারি ২০১৮

রংপুর

এসএসসি পরীক্ষার্থী শাহরিয়ারের সাহায্যে এগিয়ে আসুন

সরকার মাজহারুল মান্নান, রংপুর অফিস

১০ জানুয়ারি ২০১৮,বুধবার, ১৪:৫৭


প্রিন্ট

হাসিখুশি ডানপিটে শাহরিয়ার হোসেন। আর কদিন পরেই তার এসএসসি পরীক্ষা। জেএসসিতে সে পেয়েছে জিপিএ ফাইভ। কিন্তু ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে এখন সে শয্যাসয়ী। পড়ার টেবিলে বই খাতা থাকলেও সে পড়তে লিখতে পারছে না। বার বার বই খাতার দিকে তাকিয়ে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকছে। চিকিৎসক বলছেন, তার চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন প্রায় ১২ লাখ টাকা। তিস্তার গর্ভে জমি-জিরেত বিলীন হয়ে যাওয়া একটি বেসরকারী স্কুলের সহকারী শিক্ষক পিতার পক্ষে এতো টাকা ব্যবস্থা করা কোনভাবেই সম্ভব হচ্ছে না।
রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসাপাতালের চিকিৎসক ক্যান্সার বিভাগের বিভাগীয় ডা. কামরুজ্জামান জানান, শাহরিয়ার হোসেন ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ক্যান্সার ইউনিটে ভর্তি আছে। তার নিয়মিত ক্যামোথেরাপী দেয়া প্রয়োজন। তার সু- চিকিত্সার জন্য ৮ থেকে ৯ লাখ টাকা প্রয়োজন।
শাহরিয়ার এবার রংপুর মহানগরীর খটখটিয়া বহুমূখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করবে। জেএসসি পরীক্ষায় সে জিপিএ ফাইভ পেয়েছিল। গোল্ডেন জিপিএ ফাইভ পাওয়ার টার্গেট নিয়ে পড়াশুনা চলছিল তার। এরই মধ্যে দুরারোগ্য ক্যান্সারে আক্রান্ত হলো সে।
শাহরিয়ারের পিতা গঙ্গাচড়া উপজেলার লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের শংকরদহ নতুন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক দেলদার হোসেন জানান, গঙ্গাচড়ার লক্ষীটারী ইউনিয়নের জয়রামওঝা গ্রামে এক সময় আমাদের বাড়ি ভিটে জয়গা জমি ছিল। কিন্তু তিস্তা সব কিছু কেড়ে নিয়েছে। এখন রংপুর মহানগরীর পান্ডারদীঘি পাকার মাথায় ভাড়া বাড়িতে থাকেন। স্কুলের বেতন দিয়ে কোনমতে ৫ জনের সংসার চালাচ্ছেন। এরই মধ্যে তার বড় পুত্র শাহরিয়ার এই রোগে আক্রান্ত হওয়ায় দিশেহারা আমি। জমি জমাও সব নদীতে । বাড়তি আয়ও নেই। কিভাবে আমি এখন শাহরিয়ারের চিকিত্সা করাই। সরকার এবং বিত্ববানদের সহযোগিতা চেয়ে এই স্কুল শিক্ষক বলেন, প্লিজ আপনারা আমার মেধাবী পুত্রের পাশে দাড়ান। তাকে পড়ার টেবিলে ফেরান। সে খুব মেধাবী ছাত্র। গোল্ডেন জিপিএ ফাইভ পাওয়ার টার্গেট পূরণ করুন আপনারা।
শাহরিয়ারের মা সান্তনা আখতার জানান, ছেলেটির দিতে তাকাতে পারছি না। যে ছেলে আমার সারাদিন বই খাতা নিয়ে বসে থাকতো। ভালো ফলাফল করে মানুষের মতো মানুষ হয়ে আমাদের সংসারের অভাব পূরণের স্বপ্ন দেখতো। সে এখন বিছানায়। পড়ার টেবিলে সব বই পড়ে আছে। ফ্যাল ফ্যাল করে বই খাতার দিকে তাকিয়ে থাকে। মা হিসেবে আমি কিছুই করতে পারছি না। মাস্টার পিতার পক্ষে টাকা জোড়ার করে তার চিকিত্সা করানোও সম্ভব হচ্ছে না। তিনি সরকার ও বিত্ববানদের সহযোগিতা চান তার পুত্রের জন্য।
শাহরিয়ারকে সাহায্য পাঠানোর ঠিকানা, সোনালী ব্যাংক রংপুর কাচারী বাজার শাখার হিসাব নং-৩৪০১৬৯৪৬ অথবা বিকাশ নং- ০১৭৭০৯৩০১৭০। প্রয়োজনে দৈনিক নয়া দিগন্তের রংপুর অফিস ইনচার্জের মোবাইল নম্বর ০১৭১২১১১১৪১৯ নম্বরেও যোগাযোগ করে তাকে সাহায্য পাঠানো যাবে।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫