ঢাকা, মঙ্গলবার,২৩ জানুয়ারি ২০১৮

নিত্যদিন

কিশোর মুসা রবিনের অভিযান

রকিব হাসান

১০ জানুয়ারি ২০১৮,বুধবার, ০০:০০


প্রিন্ট

সাতচল্লিশ.

যতই বাড়িটার কাছে যেতে লাগলাম, আমার হৃৎপিণ্ডের গতি বেড়ে যেতে লাগল। উজ্জ্বল রোদের আলোয়ও বাড়িটার দিকে তাকিয়ে শুক্রবার রাতের মতোই গা ছমছম করতে লাগল আমার। সেই একই রকম শূন্য জানালা, যেন মড়ার খুলির কোটর থেকে তাকিয়ে আছে, অযতেœ বেড়ে ওঠা আগাছাগুলোরও কোনো পরিবর্তন নেই। গলা, মুখ এমনভাবে শুকিয়ে যাচ্ছে আমার, ঢোক গিলতে পারছি না।
দেখো, তুমি মানসিক রোগী, সবই তোমার অতিকল্পনা, ধমক দিয়ে নিজেকে বোঝানোর চেষ্টা করলাম, কিন্তু লাভ হলো না। মনকে বোঝাতে পারলাম না। সাইকেল থামাল মুসা। নেমে গিয়ে লোহার গেটটায় ঠেলা দিলাম। আগেরবারের মতোই খুলে গেল ওটা। ফিরে তাকিয়ে মুসাকে বললাম, ‘তুমি এখানেই থাকো। আধা ঘণ্টার মধ্যে যদি না ফিরি, বাড়িতে ঢুকো।’ ভেতরে ঢুকেই একটা পরিবর্তন টের পেলাম। সব কিছুই খুব চাপচাপ।
রাস্তায় শুধু আমার পায়ের শব্দ।
বারান্দায় উঠে কলিংবেলের বোতামের দিকে হাত বাড়াতে গিয়ে দেখি হাতটা কাঁপছে।
একবার দ্বিধা করে বোতাম টিপলাম। বাড়ির ভেতর ঘণ্টার শব্দ হলো। আগেরবারের মতো। তীক্ষè কণ্ঠে চিৎকারের মতো শব্দ।
তবে এবার কেউ দরজা খুলতে এলো না। আবার বেল বাজালাম। এলো না কেউ। আবারও বাজালাম। এবারো যখন কেউ খুলল না, দরজায় জোরে জোরে কিল মারতে লাগলাম।
খুলে গেল দরজার পাল্লা। অন্য কেউ খোলেনি। আমার হাতের ঠেলায় খুলেছে।
দরজাটায় ছিটকানিও লাগানো ছিল না, তালাও না, বুঝতে পারলাম। দাঁড়িয়ে রইলাম দরজায়। কী করব বুঝতে পারছি না। (চলবে)

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫