ঢাকা, বুধবার,২৫ এপ্রিল ২০১৮

খুলনা

স্কুল ছাত্রীকে উত্যক্ত করায় ৫ পুলিশ কনস্টেবল ক্লোজড

খুলনা ব্যুরো

০৯ জানুয়ারি ২০১৮,মঙ্গলবার, ২০:৫১


প্রিন্ট
স্কুল ছাত্রীকে উত্যক্ত করায় ৫ পুলিশ কনস্টেবল ক্লোজড

স্কুল ছাত্রীকে উত্যক্ত করায় ৫ পুলিশ কনস্টেবল ক্লোজড

খুলনায় এক স্কুল ছাত্রীকে উত্যক্ত এবং তার ভাইকে মারপিট করার অভিযোগে বটিয়াঘাটা থানার বাইনতলা পুলিশ ফাঁড়ির ৫ কনস্টেবলকে ক্লোজ করা হয়েছে। 

মঙ্গলবার সকালে বটিয়াঘাটা উপজেলার খারাবাদ বাইনতলা গ্রামে স্কুলে যাওয়ার পথে ওই ছাত্রীকে উত্যক্ত করা ও মারপিটের ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত পুলিশ কনস্টেবলরা হলেন : মো. নাঈম, মামুন, রিয়াজ, আবির ও জাহিদ।

প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানায়, বটিয়াঘাটা উপজেলার আমীরপুর ইউনিয়নের নারায়ণখালী গ্রামের মুজিবর রহমানের মেয়ে ও তার ছেলে তরিকুল ইসলাম একসাথে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে নয়টায় বাইনতলা খারাবাদ কলেজিয়েট স্কুলে যাচ্ছিলেন। পথে কনস্টেবল নাঈম মেয়েটিকে উত্যক্ত করে। ছাত্রীর ভাই তরিকুল এই ঘটনার প্রতিবাদ জানালে পুলিশ কনস্টেবল নাঈম তাকে ফাঁড়িতে ধরে নিয়ে গিয়ে শারীরিকভাবে নির্যাতন করে থানার গারদে আটকে রাখে। খবর পেয়ে গ্রামবাসী ফাঁড়িতে গেলে পুলিশের সঙ্গে তাদের ধ্বস্তাধস্তি হয়। উত্তেজিত গ্রামবাসী ফাঁড়ি ঘেরাও করে রাখে। খবর পেয়ে বটিয়াঘাটা থানার ওসি মোজাম্মেল হক মামুন ও আমীরপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান গোলদার মিলন সেখানে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। ঘটনাটি উর্ধতন পুলিশ কর্মকর্তারা জানার পর ফাঁড়ির ৫ পুলিশ কনস্টেবলকে ক্লোজ করা হয়।

ছাত্রীর পিতা মুজিবুর রহমান বলেন, ‘আমার মেয়ে বাইনতলা স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির ছাত্রী। খারাবাদ-বাইনতলা পুলিশ ফাঁড়ির সামনে থেকে কোচিংয়ে যাওয়ার সময় কনস্টেবল নাঈম, মামুন, রিয়াজ, আবির ও নায়েব জাহিদ প্রায়ই তাকে উত্যক্ত করে। মঙ্গলবার সকালেও স্কুলে যাওয়ার সময় তারা একই কাজ করে। আমার মেয়ে পুলিশ ফাঁড়ির সামনে আমার দোকানে বসা তার ভাই তারেক মাহমুদকে বিষয়টি বলে। তারেক ক্যাম্প ইনচার্জ এএসআই তারেকুজ্জামানকে বিষয়টি জানাতে যায়। কিন্তু তিনি ক্যাম্পে না থাকায় সে দোকানে চলে আসে। পরে ৫ পুলিশ দোকানে এসে তাকে মারধোর করে থানায় নিয়ে যায়। যাওয়ার আগে তারা আমার দোকান ভাঙচুর করে। তিনি জানান, নির্যাতনের শিকার ছেলেকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে মামলা করা হবে।

আমিরপুর ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান গোলদার মিলন বলেন, খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিষয়টি ওসিকে জানাই।
এ ব্যাপারে বটিয়াঘাটা থানার ওসি মোজাম্মেল হক মামুন বলেন, ছাত্রীকে উত্যক্তের অভিযোগ সত্য নয়। তবে তরিকুল নামে এক ছাত্র পুলিশের সঙ্গে তর্ক করলে তার সঙ্গে একজন কনস্টেবলের হাতাহাতি হয়। পরে তাকে ফাঁড়িতে নিয়ে মারধরের অভিযোগ করা হলে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তপক্ষকে জানানো হয়। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ওই পাঁচ কনস্টেবলকে ক্লোজ করেন।

খুলনার পুলিশ সুপার নিজামুল হক মোল্যা বলেন, বটিয়াঘাটার বাইনতলায় পুলিশের একটি অস্থায়ী ফাঁড়ি রয়েছে। পাঁচজন নয়, ওই ফাঁড়িতে দায়িত্বরত ১২ পুলিশ সদস্যকেই প্রত্যাহার করা হবে। এছাড়া উত্যক্তের অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ী পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫