ঢাকা, শনিবার,২০ জানুয়ারি ২০১৮

সিলেট

সিলেটে ছাত্রলীগের বিরোধ চরমে আট বছরে ১১ নেতাকর্মী খুন

এনামুল হক জুবের সিলেট ব্যুরো

০৯ জানুয়ারি ২০১৮,মঙ্গলবার, ১৬:৩২ | আপডেট: ০৯ জানুয়ারি ২০১৮,মঙ্গলবার, ১৬:৪৩


প্রিন্ট
 নিহত

নিহত

সিলেটে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড থেমে নেই। নগরী ও জেলার বৃহৎ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে তারা যা ইচ্ছে তা-ই করে যাচ্ছে। নানা গ্রুপ-উপগ্রুপে বিভক্ত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা এখন নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্ব-সঙ্ঘাতে লিপ্ত। তাদের অপতৎপরতায় সাধারণ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় রয়েছেন। ক্ষমতাসীন দলের সাথে সংশ্লিষ্ট থাকায় অপকর্মে জড়িত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা না নেয়ার অভিযোগ রয়েছে নানা মহল থেকে।

সিলেট নগরীতে ছাত্রলীগ এখন বেপরোয়া। গত বৃহস্পতিবার এমসি কলেজে প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনায় কেউ গ্রেফতার হয়নি। ওই দিনের বিরোধের রেশ ধরেই গত রোববার রাতে খুন হয়েছেন তানিম খান নামে এক ছাত্রলীগকর্মী। নিহত তানিম সিলেট সরকারি কলেজের বিএ পাস কোর্সের ছাত্র এবং ছাত্রলীগের রঞ্জিত গ্রুপের অনুসারী।

হামলাকারীরা আজাদ গ্রুপের অনুসারী। তানিম খানের গ্রামের বাড়ি ওসমানীনগর উপজেলার বুরুঙ্গা ইউনিয়নের নিজ বুরুঙ্গা গ্রামে। তার বাবার নাম ইসরাইল খান। তানিম সিলেট শহরতলীর মেজরটিলা এলাকায় একটি মেসে থাকতেন। এই খুনের ঘটনাসহ গত আট বছরে সিলেটে ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে খুন হয়েছেন ১১ নেতাকর্মী।

বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ২৫ নভেম্বর বিয়ানীবাজারে ছুরিকাঘাতে আনোয়ার হোসেন নামে এক ছাত্রলীগ কর্মী নিহত হন। আনোয়ার পৌরসভার সুপাতলা গ্রামের সিরাজ উদ্দিনের ছেলে। তিনি উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক জামাল হোসেন গ্রুপের কর্মী। ঘটনার দিন সকালে পৌরশহরের মোকাম মসজিদের একটি পান দোকানের সামনে দাঁড়িয়েছিলেন আনোয়ার।

হঠাৎ এক যুবক এসে কোনো কিছু না বলে তার বুক বরাবর ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। সাথে সাথে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে আনোয়ারকে বিয়ানীবাজার সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এর আগে ১৬ অক্টোবর সিলেট নগরীর টিলাগড় এলাকায় নিজেদের মধ্যে বিরোধে প্রাণ হারিয়েছেন ওমর আহমদ মিয়াদ নামে এক ছাত্রলীগ কর্মী। মিয়াদ এমসি কলেজে বিএসএস এবং লিডিং ইউনিভার্সিটিতে আইন বিষয়ের ছাত্র ছিলেন। তিনি শাহপরান থানার সদর উপজেলার বালুচর এলাকার বাসিন্দা আবুল মিয়ার ছেলে। তার গ্রামের বাড়ি সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে। এরও আগে গত ১৩ সেপ্টেম্বর নগরীর শিবগঞ্জে খুন হন জাকারিয়া মোহাম্মদ মাসুম (২২) নামে এক ছাত্রলীগ কর্মী।

ছোট ভাইকে জিম্মি করে মোবাইল ফোনে ডেকে এনে নিজ দলের ক্যাডাররা তাকে খুন করে। ১৭ জুলাই দুপুরে সিলেটের বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজের শ্রেণিকক্ষের ভেতরে পাইপগানের গুলিতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন জেলা ছাত্রলীগের আপ্যায়নবিষয়ক সম্পাদক পাভেল গ্রুপের কর্মী খালেদ আহমদ লিটু (২৩)। ২০১৬ সালের ১৯ জানুয়ারি সিলেট নগরীতে নিজ দলের কর্মীদের হাতে খুন হন কাজী হাবিবুর রহমান হাবিব নামে এক ছাত্রলীগ কর্মী।

অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের জের ধরে ওই দিন দুপুরে হাবিবকে বেধড়ক পিটিয়ে গুরুতর আহত করে ছাত্রলীগের কর্মীরা।

রাত ১২টার দিকে নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। হাবিব কুমিল্লা জেলার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়নের রানীঘাট গ্রামের কাজি সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে ও সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির বিবিএ চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি সিলেট নগরীর কানিশাইল এলাকায় একটি মেসে থেকে লেখাপড়া করতেন এবং ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন।

এই খুনের ঘটনার ছয় মাস পর একই বছরের ১০ জুলাই নগরীর পাঠানটুলায় একটি বাসার দখল নিয়ে ছাত্রলীগ ক্যাডারদের হামলায় খুন হন স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা আবদুল্লাহ অন্তর। ২০১৫ সালের ১২ আগস্ট দুপুরে নগরীর মদন মোহন কলেজে ছাত্রলীগ ক্যাডাররা ছুরিকাঘাতে তাদেরই এক কর্মীকে খুন করে। নিহত আবদুল আলী (১৯) ওই কলেজের দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্র ছিলেন।

চাকরির জন্য দেয়া ঘুষের টাকা ফেরত চাওয়ায় আলীকে খুন করা হয়। ২০১৪ সালের ২০ নভেম্বর শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে বন্দুকযুদ্ধে গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাণ হারান সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ কর্মী সুমন চন্দ্র দাস। ২০১৪ সালের ২৯ জুন টমটম স্ট্যান্ড দখলকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় নিহত হন ছাত্রলীগ কর্মী মোহাম্মদ ইব্রাহিম কচি। ২০১০ সালের ১২ জুলাই অভ্যন্তরীণ বিরোধের জের ধরে টিলাগড়ে খুন হন এমসি কলেজের গণিত বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ও ছাত্রলীগ কর্মী উদয়েন্দু সিংহ পলাশ।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫