ads

ঢাকা, শনিবার,২১ এপ্রিল ২০১৮

সাতরঙ

বিয়ের আয়োজন : বিশেষ আয়োজন

এ কে রাসেল

০৯ জানুয়ারি ২০১৮,মঙ্গলবার, ০০:০০ | আপডেট: ০৯ জানুয়ারি ২০১৮,মঙ্গলবার, ০৬:৪৯


প্রিন্ট

বিয়ে মানেই বেনারসি শাড়ি। লাল টকটকে একটা বেনারসি শাড়ি পরে থাকবে নববধূ। এক সময়ে বেনারসি ছাড়া বিয়ে তো ভাবাই যেত না! অন্তত একটি শাড়ি চাই-ই চাই। কিন্তু কালের বিবর্তনে আজ অনেক কিছুই হারিয়ে যেতে বসেছে। কারো কারোর কাছে লেহেঙ্গা, গাউন এখন বিয়ের পোশাক। আর বরদের কাছে কোট-টাই। তবে এ সংখ্যা নেহাতই কম। এখনো নববধূ আর শাড়ি, বর আর পাঞ্জাবি-পাগড়ি, শেরোয়ানিই বিয়ের জন্য সেরা পোশাক হিসেবে পছন্দ। বিয়ের শাড়ি মানেই বেনারসি। আর বেনারসি মানেই ঢাকাই বেনারসি। আর ঢাকাই বেনারসি মানেই চলে আসে মিরপুর বেনারসি পল্লীর কথা। আন্তর্জাতিক খ্যাতি লাভ করে বাংলাদেশের বেনারসি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আজো রয়ে গেছে। নেই শুধু যেন বাংলাদেশেই। বেনারসি আছে; কিন্তু তাতে ব্র্যান্ড লাগানো অন্যদেশের। কেননা এই ব্র্যান্ডের চাহিদাই বেশি দেশী বাজারে।
নি¤œমানের হলেও কিনছেন অনেকেই ব্র্যান্ডের কারণে। অথচ বাংলাদেশেই তৈরি হচ্ছে নজরকাড়া বাহারি ডিজাইনের নানা ধরনের বেনারসি। এর মধ্যে রয়েছে, ফুলকলি কাতান, দুলহান কাতান, মিরপুরি রেশমি কাতান, মিলেনিয়াম কাতান, বেনারসি কসমস, অরগ্যান্ডি কাতান, ব্রোকেট কাতান, প্রিন্স কাতান, রিমঝিম কাতান, টিস্যু কাতান, মিরপুরি গিনি গোল্ড কাতান, জর্জেট গিনি গোল্ড কাতান, চুনরি কাতানের মতো মনকাড়া নানা রঙ ও ডিজাইনের সব শাড়ি। বেনারসি পল্লীতে জুট নেট ও জুট সিল্কের সমন্বয়ে তৈরি প্র্রায় ৫০টি বাহারি ডিজাইনের শাড়ি রয়েছে।
বেনারসি পল্লীতে তৈরি প্রতিটি শাড়িতেই রয়েছে আভিজাত্যের ছাপ। এসব শাড়ির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো পাকা রঙ আর ওজনে হালকা। বাজেটেও কুলোয়। তাই কনের প্রথম পছন্দ হতে পারে মিরপুর বেনারসি পল্লীর শাড়ি।
বেনারসি পল্লীর শাড়ির দামদর
মসলিন বেনারসি ৮ থেকে ১৭ হাজার টাকা, কাতান বেনারসি ১৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা, ব্রোকেট বেনারসি ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা, কার্পেট বেনারসি ৫ থেকে সাড়ে ৫ হাজার টাকা, মসলিন ২-৩ হাজার টাকা, নেট জুট সাড়ে ৪ থেকে ৮ হাজার টাকা, বিয়ের গর্জিয়াস শাড়ি ১৫ থেকে ৫০ হাজার টাকা, সফট সিল্ক ৪ থেকে ৪২০০ টাকা, ঢাকাই জামদানি ৪ থেকে ৩০ হাজার টাকা, রেডি কোচা ৬ হাজার থেকে সাড়ে ৬ হাজার টাকা, জুট হাফ সিল্ক আড়াই হাজার থেকে ৩ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া হানিকোট বেনারসি সাড়ে ৪ হাজার টাকা, রাজকোট বেনারসি ৫ হাজার টাকা, সুতি বালুচরি ১ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা, টিস্যু জুট সিল্ক জামদানি ৩ থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা, পিয়ান ও খাদি বেনারসি ৭ থেকে ১২ হাজার টাকা, কাঁথা স্টিচ ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা, টাঙ্গাইল সুতি জামদানি ১ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা, মাসলাইস কাতান ৫ থেকে সাড়ে ৫ হাজার টাকা, শাটিন বেনারসি ৪ হাজার থেকে সাড়ে ৪ হাজার টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।
বেনারসি শাড়ির নানা বিষয় নিয়ে কথা হয় বেনারসি পল্লীর বিভিন্ন দোকান মালিকের সাথে।
বেনারসি কুঠির স্বত্বাধিকারী আবদুর রউফ বলেন, মিরপুরের বেনারসি শাড়ির চাহিদা এখনো রয়েছে ক্রেতাদের কাছে। অন্যান্য দেশের তুলনায় মিরপুরের বেনারসি শাড়ির কোয়ালিটি অনেক ভালো। ক্রেতারা এটা বুঝতে পেরে আবারো দেশী বেনারসি কিনতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।
আল-হামদের স্বত্বাধিকারী ফারুক হোসেন জানান, বর্তমানে বেনারসি শাড়ির চাহিদা কিছুটা বেড়েছে। বিশেষ করে জর্জেট কাতানের চাহিদা এখন বেশি। বিয়েতে শাড়ির পাশাপাশি লেহেঙ্গার চাহিদাও বেশ রয়েছে।
বেনারসি শাড়ি নিয়ে কথা হয় কয়েকজন ফ্যাশন হাউজের সত্বাধিকারীর সাথে। অঞ্জনসের স্বত্বাধিকারী শাহীন আহমেদ বলেন, ভারতীয় গণমাধ্যম এবং বিদেশী সংস্কৃতির আগ্রাসনে আমাদের অনেক ঐতিহ্যই এখন হারিয়ে যেতে বসেছে। তবে এখনো দেশী পণ্যের চাহিদা রয়েছে। বিয়েতে এখনো লাল বেনারসির প্রচলন রয়েছে। রয়েছে ব্যতিক্রমও; কিন্তু বেনারসিই এগিয়ে।
গ্রামীণ মেলার স্বত্বাধিকারী আবু নাঈম বলেন, টেলিভশনগুলোর বিভিন্ন অনুষ্ঠান দেশী বেনারসির ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলেছে। সাধারণ ক্রেতারাও এখন বিয়ের কেনাকাটা ভারত থেকে করছেন। ফলে দেশীয় বাজারে নেতিবাচক প্রভাব বিস্তার করছে।
তবে বেনারসি ছাড়া জামদানিও হতে পারে কনের বিয়ের শাড়ি। বিভিন্ন শপিংমল ছাড়াও অর্ডার দিয়েও জামদানি শাড়ি তৈরি করে নেয়া যায়। বেনারসি পল্লী ছাড়াও দেশের প্রায় সব অভিজাত বিপণিবিতানগুলোতে কনের বিয়ের শাড়ি, লেহেঙ্গা ও প্রয়োজনীয় সব পোশাকই পাওয়া যাবে। এ ছাড়া ফ্যাশন হাউজগুলোতেও রয়েছে বর ও কনের পোশাকের বড় আয়োজন।
বিয়ের শাড়ি বেনারসি হলে রিসিপশনের জন্য হালকা টিসু বেনারসি, চান্দেরি সিল্ক ও কাঞ্জিভরম বেছে নিতে পারেন। বিয়েতে লাল-ঘেঁষা রঙ পরলে রিসিপশনের জন্য বেছে নিতে পারেন নীল, বারগান্ডি, সবুজ, গোলাপি, অফ হোয়াইট বা কমলা। সেই সাথে চাই মানানসই ব্লাউজ। পরতে পারেন ডিজাইনার ব্লাউজ, জ্যাকেট বা কোটনেক ব্লাউজ।

 

 

ads

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫