ঢাকা, বুধবার,২৪ জানুয়ারি ২০১৮

সাতরঙ

হলুদ বরণ : বিশেষ আয়োজন

শওকত আলী রতন

০৯ জানুয়ারি ২০১৮,মঙ্গলবার, ০০:০০


প্রিন্ট

গায়েহলুদের অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়েই বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। একসময়ে হাতেবাটা মেহেদি ও কাঁচা হলুদ দিয়ে বর ও কনেকে বরণের মাধ্যমে হলুদের অনুষ্ঠানের সীমাবদ্ধতা থাকলেও প্রযুক্তির উন্নয়নের ফলে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে।আজকাল অনেক বিয়েতে গায়েহলুদের অনুষ্ঠানে ভিন্ন ধরনের আনন্দ যুক্ত হচ্ছে। গায়েহলুদের মঞ্চ তৈরি থেকে শুরু করে যাবতীয় কাজে রঙের ব্যবহারকে অনেকে গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। গায়েহলুদে বরের সাদা পাঞ্জাবি ও সাদা পাজামা আর কনের হলুদ শাড়ির লাল পাড় বুঝালেও বর্তমানে টাঙ্গাইলের তাঁতের শাড়ি, জামদানি, কাতান শাড়িই বেশি পছন্দ সবার। আর বরের তালিকায় রয়েছে রঙবেরঙের পাঞ্জাবি আর সাজসরঞ্জাম।
যেহেতু গায়েহলুদ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়েই বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়, সে জন্য সাধ্যমতো উভয় পক্ষই আত্মীয়স্বজনকে আকৃষ্ট করতে পাঠিয়ে থাকেন নানা ধরনের উপহারসামগ্রী; যদিও গায়েহলুদের কেনাকাটার জন্য কোনো ধরনের শর্ত থাকে না। গায়েহলুদের অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বর ও কনেপক্ষের মধ্যে প্রতিযোগিতা থাকায় এ নিয়ে সবার মধ্যে হইচইয়ের যেন কমতি থাকে না। কোনো জিনিস বাদ পড়লে কথা কাটাকাটি আর যুক্তিতর্কেরও যেন শেষ নেই। তার পরও সাধ্যানুুযায়ী প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম পাঠিয়ে খুশি করার চেষ্টা করে থাকেন প্রত্যেকে। হলুদের অনুষ্ঠানে বর ও কনে উভয় পক্ষের বাড়িতে পাঠানো হয় ডালা, কুলা, মিষ্টি ও পান-সুপারি। ডালার ভেতরেই সাজিয়ে দেয়া হয় বরের পাজামা-পাঞ্জাবি, জুতাসহ নানা ধরনের প্রসাধনী। আর কনের বাড়িতে পাঠানো হয় শাড়ি, জুতাসহ সাজপ্রসাধনী।
কেনাকাটায় যাতে কোনো পক্ষের ভুল না হয় সে জন্য বিয়ের সাজসজ্জার দোকানে জিনিসপত্রের তালিকা থাকে। আর সেই তালিকা থেকে পছন্দ করা হয় হলুদের সরঞ্জাম। গায়েহলুদের ডালা সাজানোর জন্য আগে থেকে দায়িত্ব ভাগ করে দেয়া থাকে। ডালা-কুলার সাজেও থাকে সৌখিনতা। অনেক ক্ষেত্রে ডালাকে সুন্দরভাবে সাজানোর জন্য অভিজ্ঞ লোক আনা হয়। রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডের বিপনীকেন্দ্র হলুদ বরণের বিপণনকর্মী মো: আমিন জানান, হলুদের প্রয়োজনীয় সব সরঞ্জামই আমাদের এখানে রয়েছে। ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী একেকজন একেক রকম জিনিসপত্র নিয়ে থাকেন। এ জন্য চাহিদা অনুযায়ী দামেরও ভিন্নতা রয়েছে।
রাজধানীর গাউছিয়ার বাঁধন সাজঘরের একজন বিক্রেতা জানান, গায়েহলুদে রব-কনের আলাদা সরঞ্জাম পাওয়া যায়। কোনো কোনো ক্রেতা সব আইটেম নিয়ে থাকেন আবার কেউ কিছু কিছু আইটেম বাদ দিয়েও নিয়ে থাকেন। তবে সময়ের সাথে সাথে প্রযুক্তির পরিবর্তনের কথা জানান ব্যবসায়ীরা।
গায়েহলুদের সরঞ্জাম নিয়ে বরপক্ষের লোকজন কনেপক্ষের বাড়িতে যান কনেকে হলুদ, মেহেদি দেয়া ও মিষ্টিমুখ করানোর জন্য। তেমনি কনেপক্ষের লোকজনও বরকে হলুদ-মেহেদি পরানোর জন্য বরের বাড়ি যান।
হলুদে কনের গয়না : গায়েহলুদ অনুষ্ঠানে পুরনো ঐতিহ্য হচ্ছে ফুল দিয়ে কনেকে সাজানো হয়। বরের পক্ষ থেকে কনেকে সাজানোর জন্য প্রয়োজনীয় ফুল আগেই সরবরাহ করে থাকে। যদি রবপক্ষের লোকজন ফুল না দেয় সে ক্ষেত্রে কনপক্ষ ফুলের আয়োজন করে। তবে ফুলের বদলে পুঁতির মালা ও কাপড়ের ফুলের গয়না দিয়েও সাজানো হয়। একসময় গায়ে হলুদে কনের মাথায়, খোঁপায়, গলায় ও হাতে শোভা পেত গাঁদাফুলের অলঙ্কার কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে গাঁদা ফুলের পাশাপাশি গোলাপ, জারবেরা, গ্লাডিওলাস, জিপসি, ক্যারনসহ অন্যান্য ফুলও ব্যবহার হচ্ছে। গায়েহলুদ যেহেতু বিয়ের আগের সাজ, তাই বিয়ের সাজ থেকে ভিন্নতা রয়েছে। ছেলের পাঞ্জাবির রঙটা মেয়ের শাড়ির রঙের সাথে মিলিয়ে নিলে ভালো হয়। বর গায়ে হলুদের দিন স্লিপারের জুতা পরলে ভালো মানাবে।
দরদাম : গায়েহলুদের সরঞ্জাম বিভিন্ন ধরনের হতে পারে। তবে দুই হাজার টাকা থেকে শুরু করে ১০ হাজার টাকার মধ্যে পাওয়া যাবে। রাজধানীর প্রায় সব জায়গাতেই এসব পাওয়া যাবে। তবে হলুদের বিপুল সম্ভার রয়েছে রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোড, কাঁটাবন, গাউছিয়া, বসুন্ধরা সিটি, ওয়ারী ও রাজধানী সুপার মার্কেটে। এ ছাড়া চকবাজারেও পাওয়া যায় গায়েহলুদের সরঞ্জাম।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫