ঢাকা, সোমবার,২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

অপরাধ

বড় প্রকল্পে দুর্নীতি ঠেকাতে সরকারের সাড়া মিলছে না : দুদক চেয়ারম্যান

নিজস্ব প্রতিবেদক

০৮ জানুয়ারি ২০১৮,সোমবার, ১৯:৫৭


প্রিন্ট

বড় প্রকল্পে দুর্নীতি ঠেকাতে সরকারের সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ।

তিনি বলেন, বড় বড় প্রকল্পের দুর্নীতির বিষয় দুর্নীতি দমন কমিশন সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিতে চাইলেও সরকারের তরফ থেকে সাড়া মেলে না।

আজ সোমবার দুপুরে দুদকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন দুদক চেয়ারম্যান।

বড় প্রজেক্টে দুর্নীতি প্রতিরোধে সরকারের সহযোগিতা প্রসঙ্গে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, আমরা সরকারকে বলেছিলাম বড় বড় প্রজেক্টে যদি তারা মনে করেন, দুর্নীতি প্রতিরোধ করার জন্য আমাদের সাহায্য দরকার, এমনকি ক্যাবিনেট ডিভিশনকেও বলেছিলাম যে, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে আমাদের সাহায্যের জন্য। তবে আমরা আসলে এ বিষয়ে তেমন কোনো রেসপন্স পাইনি।

ইকবাল মাহমুদ বলেন, দুর্নীতি প্রতিরোধ স্বপ্রণোদিত হয়েই করছি। আমরা লক্ষ্য রাখছি। দুর্নীতি প্রতিরোধের বিষয়টা চলমান। সরকার চেষ্টা করছে। দুর্নীতি হওয়ার আগেই যাতে দুর্নীতি বন্ধ ও প্রতিরোধ করা যায়। এটা বুঝতেও সময় লাগে।

প্রাইভেট ব্যাংকিং সেক্টরে কেলেঙ্কারি বাড়ছে কি-না, এমন প্রশ্নের জবাবে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ব্যাংকিং খাতে সুশাসন অব্যাহত থাকবে, ব্যাংকের বোর্ডগুলো ভালোভাবে কাজ করছে বলে আমাদের কাছে মনে হচ্ছে। কারণ হচ্ছে প্রবৃদ্ধি, এই খাতে ১৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

তিনি বলেন, যেখানে নিয়ম থাকে সেখানে কিছু অনিয়ম তো থাকেই। সেজন্যই তো আমাদের মত সংস্থা।

আগামী নির্বাচনে প্রার্থীদের সম্পদের সঠিক হিসাব দেয়ার আহ্বান জানিয়ে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, দুদকের ভূমিকা একটাই আমি স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই যে, যারা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন তারা হলফনামা সঠিকভাবে দিবেন, সেটাই আমরা চাই। ইতোমধ্যে দু-একজন সংসদ সদস্যের ব্যাপারে আমরা ইলেকশন কমিশনে লিখেছি যে, তাদের সম্পদ বিবরণী সঠিক নয়। যারা জনগণের প্রতিনিধি হবেন, জনগণ জানুন তারা সঠিকভাবে নির্বাচন কমিশনে সম্পদের সঠিক হিসাব দেবেন।

২০১৮ সালের দুদকের কর্মপরিকল্পনার বিষয়ে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, সরকারি প্রায় ২৫টি সেক্টরে অপচয়-দুর্নীতি বন্ধ করতে আমরা ব্যবস্থা নিব এবং দৃশ্যমান কিছু কাজ করার চেষ্টা করব, যাতে সবাই বুঝতে পারে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কিছু একটা হচ্ছে।

তিনি বলেন, পাঁচ বছর কর্মপরিকল্পনার দ্বিতীয় বছর শুরু হয়েছে। আপনারা জানেন ২০৩০ সালের মধ্যে চীন-জাপানসহ বিভিন্ন দেশে প্রায় ২৭ কোটি জনশক্তি লাগবে। এজন্য জনশক্তি শিক্ষিত করে গড়ে তুলতে হবে। এজন্য শিক্ষা ব্যবস্থায় দুর্নীতির কোনো প্রভাব যাতে না পড়ে সেই ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করব।

দুদক চেয়ারম্যান বলেন, এ বছর চেষ্টা করব প্রকৌশলী সংস্থাগুলোতে যাতে টেন্ডারে ও ক্রয়-বিক্রিয়ে অনিয়ম না হয়, সেজন্য সরকারি অর্থ অপচয় না হয় সেই বিষয়ে কার্যকরি ব্যবস্থা গ্রহণে প্রকৌশলীদের সাথে সভা করে বলব। কারণ সরকারের বাজেটের সিংহভাগই যায় প্রকৌশলীদের মাধ্যমে। আমরা চাচ্ছি যাতে জনগণের অর্থ সঠিকভাবে ব্যয় হয়, যাতে কোনো দুর্নীতি না হয়।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫