ঢাকা, মঙ্গলবার,২৪ এপ্রিল ২০১৮

বিবিধ

ছেঁড়া বা ফাটা টাকা বদলানো

সুমনা শারমিন

০৮ জানুয়ারি ২০১৮,সোমবার, ১৯:১৮


প্রিন্ট
ছেঁড়া বা ফাটা টাকা বদলানো

ছেঁড়া বা ফাটা টাকা বদলানো

প্রতিদিন অসংখ্য ধরনের লেনদেন এবং কেনাকাটায় অর্থের ব্যবহার হয়। এই অর্থ হাজার হাজার মানুষের হাতে ঘুরে আসার কারণে নষ্ট হয়ে যায় বা ছিঁড়ে যায়, তখন এই অর্থ আর ব্যবহারের যোগ্য থাকে না। এতে মানুষ লেনদেনের বিড়ম্বনার শিকার হয়, তাদের অর্থনৈতিক লেনদেনে বিঘ্ন সৃষ্টি করে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা মোতাবেক জনসাধারণের স্বাভাবিক ও সুষ্ঠু লেনদেন অব্যাহত রাখার স্বার্থে যেকোনো মূল্যমানের ছেঁড়া-ফাটা ও ময়লাযুক্ত নোট পরিবর্তন করে দেয়া হয়। বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি ব্যাংক ছেঁড়া-ফাটা ও ময়লাযুক্ত নোট পরিবর্তন করতে সহায়তা করে।

২০১২ সালের শেষ দিকে নোট রিফান্ড নীতিমালা নামে একটি নির্দেশনা জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। ওই নির্দেশনা অনুযায়ী ছেঁড়া বা ফাটা নোটের ন্যূনতম ৯১ শতাংশ অক্ষত থাকলে দাবিদারকে নোটের পুরো মূল্যই দেয়া হয়। তবে ৭৬ থেকে ৯০ শতাংশ অক্ষত থাকলে দেয়া হবে ৭৫ টাকা। আর ৫১ থেকে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত অক্ষত থাকলে দেয়া হবে ৫০ টাকা। কিন্তু ৫০ শতাংশ বা এর নিচে অক্ষত রয়েছে এমন নোটের বিপরীতে কোনো দাবিই পরিশোধ করবে না কেন্দ্রীয় ব্যাংক। কাগজের নোট ছিঁড়ে বা ফেটে গেলে অথবা বিনিময়ের অযোগ্য হয়ে পড়লে বদলে দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। দেশের অন্যান্য তফসিলি ব্যাংকে বদলে দেয়ার নিয়ম থাকলেও বেশির ভাগ ব্যাংক ছেঁড়া-ফাটা নোট বদলে দিতে অপারগতা প্রকাশ করে!

বাংলাদেশ ব্যাংকের মতিঝিল অফিসে ছেঁড়া-ফাটা নোট বদলানোর জন্য ব্যাংকটির ৩০ তলা ভবনের নিচতলার ক্যাশ কাউন্টারে ছেঁড়া বা ফাটা নোট দাবির জন্য জমা দিতে হয়। দাবি শাখার কর্মকর্তারা যাচাই-বাছাই করার পর নোটের প্রাপ্য মূল্য পরিশোধ করেন। তবে অবাক করার বিষয় হলো, এ ক্ষেত্রে সময় লাগে দুই মাস।

কাউন্টার থেকে এক পৃষ্ঠার একটি ফরম পূরণ করে নোটটি জমা দিলে ফরমের নিচের অংশ ছিঁড়ে রসিদ হিসেবে আপনার হাতে ধরিয়ে দেবে। এর ঠিক দুই মাস পর দাবি পরিশোধের তারিখ পড়বে। দাবির রসিদ নিয়ে কাউন্টারে না গিয়ে ওই ভবনেরই দ্বিতীয় তলায় দাবি শাখায় গিয়ে রসিদ দেখিয়ে একটি কাগজে স্বাক্ষর করে আসতে হবে। স্বাক্ষর করা হয়ে গেলে ওই শাখা থেকে দাবির ফরমটি কাউন্টারে পাঠানো হবে। তাতে উল্লেখ থাকবে নোটটির বিপরীতে কী পরিমাণ অর্থ পরিশোধ করা হবে। সেটা দেখেই প্রাপ্য মূল্য পরিশোধ করা হবে। সবশেষে স্বাক্ষর করে এসে কাউন্টারে রসিদ জমা দেয়ার পর নতুন নোট ধরিয়ে দেবেন কাউন্টারের কর্মকর্তা।

এত সময় লাগার কারণ হিসেবে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগের চেয়ে অনেক বেশি পুরনো নোট জমা পড়ছে দাবির জন্য। যে কারণে সময়ও লাগছে বেশি। এটা নির্ভর করছে নোট জমা পড়ার ওপর। দাবির জন্য জমা পড়া নোট যাচাইয়ে অনেক হাত ঘুরে তারপর নোটটি মূল্য পরিশোধের জন্য পাস করা হয়। এই ধাপ কমালে আরো কম সময়ে দাবি পরিশোধ করা যাবে। তবে এটা রাতারাতি পরিবর্তন করা সম্ভব নয়।

ব্যাংক ছাড়াও রাজধানীর গুলিস্তান ও মতিঝিল এলাকায় পাবেন অসংখ্য টাকা বদলানোর মানুষ। শাপলা চত্বরে বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনেই দেখা মিলবে অনেকের। এটা যেহেতু তাদের ব্যবসা তাই টাকা পাল্টানোর ক্ষেত্রে লাভটা ব্যাংকের চেয়ে কম পাবেন সেটাই স্বাভাবিক।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫