ঢাকা, মঙ্গলবার,২৩ জানুয়ারি ২০১৮

অবকাশ

বেনামিপত্র : জীবনের বাঁকে বাঁকে

সিয়াম বিন আহমাদ

০৭ জানুয়ারি ২০১৮,রবিবার, ০০:০০


প্রিন্ট

আমি জানি না এ লেখা কোনোদিন কারো চোখে পড়বে কি না? যদি কোনো দিন চোখে পড়েই যায় একটু মনোযোগসহকারে পড়ে নিও। প্রচণ্ড রোদ্দুরেও একবেলা কারো নরম হাতের আলতো ছোঁয়া জুটেনি। চৈত্রী দ্বিপ্রহরটা কেটেছে স্বার্থপরতা ছুঁয়ে। বিকেল শেষে সাঁঝবেলাও গাঁয়ের মেঠোপথের অবুঝধুলি ভরেনি এ ঘর্মাক্ত বদনে। রাতে শীতের শিশির পড়েছে, টিনের চালে নেমেছে টুপটুপ শব্দ। ভেঙে গেছে আমার ক্লান্ত ঘুম। মায়ের আপন হাতে বুনা নকশি কাঁথাটি গায়ে মুড়িয়ে আবার ঘুমের ভণিতায় মেতেছি। লুকিয়ে লুকিয়ে শুনেছি শিশিরবোল। বেশ ভালোই লাগত মায়াবী এ ঘুমবোল। কিন্তু অধুনা খুব বেশি স্বার্থপর মনে হয়। আর সেটা কেন জানো? জানো না। এই অবেলা যে, কাউকে নিয়ে খুব বেশি ভাবতে ইচ্ছে করে। হৃদয়ে আঁচড় কাটে অসীম একাকিত্ব। বেদনারাও আজকাল ঘোলাটে হয়ে আসে। আবার কখনো বা তামাটেও হয়। এক অবনী মায়াবী শূন্যতা আমাকে আঁকড়ে ধরে। কখনো ভাবি এসব ব্যর্থ অনুভূতির কবর দিয়ে দেব। কিন্তু কী যেন ভেবে পারি না। কে যেন আমাকে পারতে দেয় না। আমারও যে আর পারা হয়ে ওঠে না। মনের সাথে এমন দৌড়ঝাঁপ খেলেই কেটে যায় প্রতিদিন বেলা-অবেলা। নিশুতি রাতে যখন নিজেকে খুব বেশি একা মনে হয়; নিজেকে তখন এভাবে বোঝাই, হুম... তুমি তো, বড্ড সুখেই আছো। কী ঝামেলা শুধু শুধু অন্য কারো স্মৃতি বয়ে বেড়ানো! কী দরকার এসবের! আবার অভিমানের প্রলেপ এঁকে শুনিনি তো, কারো প্রণয় কণ্ঠে ‘এই শুনেছো তুমি?’ এমনটা বলতে। শুনিনি ‘আচ্ছা তুমি কী, কিচ্ছু বুঝ না?’ এভাবেও অদ্যাবধি কেউ বলেনি আমায়। তাই নিশুতি রাতে এমন প্রিয় শব্দগুলো শুনতে আজকাল ঢের ইচ্ছে জাগে। প্রতীক্ষায় আছি, অপরিচিত কেউ হলেও ফোন করে অন্তত একবার বলুক ‘ওগো কেমন আছো তুমি’?
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫