ঢাকা, মঙ্গলবার,২৩ জানুয়ারি ২০১৮

ইউরোপ

এবার বর্ণবিদ্বেষের শিকার 'নবজাতক'

নয়া দিগন্ত অনলাইন

০৬ জানুয়ারি ২০১৮,শনিবার, ১১:৪৭ | আপডেট: ০৬ জানুয়ারি ২০১৮,শনিবার, ১২:০৪


প্রিন্ট
বাবা-মায়ের সাথে আসেল

বাবা-মায়ের সাথে আসেল

মুসলিম পরিচয়ের কারণে বর্ণবাদী আচরণ থেকে রক্ষা পেল না নববর্ষের প্রথম প্রহরে জন্ম নেয়া নিষ্পাপ শিশুটিও। ইউরোপের দেশ অস্ট্রিয়ায় জন্মের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইন্টারনেটে ব্যাপক বর্ণবাদী আক্রমণের শিকার হয় সে।

নতুন বছর শুরু হওয়ার ৪৭ মিনিটের মাথায় অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনার একটি হাসপাতালে কন্যাসন্তানের জন্ম দেন এক মুসলিম নারী। শিশুটিকে ভিয়েনার ‘নিউ ইয়ার বেবি’ অর্থাৎ নতুন বছরে জন্ম নেয়া প্রথম শিশু হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

স্বাভাবিকভাবেই আর সব দেশের মতো তাকেও সবাই অভিনন্দন জানাবে এমনটাই ভাবা হচ্ছিল; কিন্তু হয়েছে ঠিক উল্টোটা। অস্ট্রিয়ান অনলাইন ব্যবহারকারীরা আসেল নামের শিশুটি ও তার পিতামাতাকে উদ্দেশ করে বর্ণবাদী ও ঘৃণাত্মক মন্তব্য করেছে।

অনলাইন অধিকার ও উদ্বাস্তু সহয়তা বিষয়ক গ্রুপগুলো বলছে, একটি নবজাতককে উদ্দেশ্য করে সরাসরি এমন বর্ণবাদী মন্তব্য আগে কখনো দেখেনি তারা।

ভিয়েনার রোমান ক্যাথলিকদের একটি দাতব্য সংস্থার সেক্রেটারি জেনারেল ক্লাউস চার্টনার তার ফেসবুক পেজে লিখেছেন, ‘জীবনের প্রথম প্রহরেই মিষ্টি মেয়েটি অবিশ্বাস্য কিছু সহিংসতা ও ঘৃণা বিদ্বেষের শিকার হলো। নবজাতককে টার্গেট করে এই কর্মকাণ্ড অনলাইনে ঘৃণা প্রচারের নতুন এক মাত্রা।’

এসব মন্তব্যের বেশির ভাগই ছিল অস্ট্রিয়ার বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের ফেসবুক ও টুইটার পেজে পাঠকের করা। বাবা-মায়ের সাথে আসেলের ছবিসহ খবরের নিচে বিভিন্ন বাজে মন্তব্য করে অস্ট্রিয়রা। দেশ থেকে বের করে দেয়ার দাবি এমনকি শিশুটির মৃত্যুও কামনা করেন অনেকে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অস্ট্রিয়াতে মুসলিমবিদ্বেষ ব্যাপকভাবে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। কট্টর ডানপন্থী রাজনৈতিক দলগুলোর উত্থানও ঘটেছে ব্যাপক। কয়েক সপ্তাহ আগে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের ফলাফলের ভিত্তিতে দেশটিতে একটি কট্টরপন্থী দল যৌথভাবে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে দেশটিতে।

সূত্র : নিউইয়র্ক টাইমস

ট্রাম্পের পারমাণবিক সুইচ নেই, আছে ফুটবল-বিস্কুট

আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দম্ভ করে বলেছেন তার পরমাণু বোমার সুইচ উত্তর কোরীয় নেতা কিম জং উনের বোমার সুইচের চেয়ে "অনেক বড়" এবং "বেশি শক্তিশালী''।

কিন্তু তার কি আসলেই পারমাণবিক বোমার কোনো সুইচ আছে?

একটি পরমাণু বোমা ছোড়া রিমোটে টিভির চ্যানেল পরিবর্তন করার মতো কোনো সহজ কাজ নয়। অবাক ব্যাপার হলো, এর সাথে জড়িয়ে আছে 'বিস্কুট' আর 'ফুটবলের' মতো বিষয়।

তবে আক্ষরিক অর্থে ডোনাল্ড ট্রাম্পের কোনো পরমাণু বোমার সুইচ নেই।

তাহলে তার কী আছে?

২০ জানুয়ারি ২০১৭ তারিখে বারাক ওবামার সাথে একটি কালো চামড়ার ব্রিফকেস নিয়ে একজন ব্যক্তিগত সহকারি প্রেসিডেন্টের অভিষেক অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন।

ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন প্রেসিডেন্ট হিসাবে শপথ নেয়ার সাথে সাথে তিনি সেই কালো ব্রিফকেসসহ ট্রাম্পের সহকারি হয়ে যান।

এ ব্রিফকেসটি 'নিউক্লিয়ার ফুটবল' নামে পরিচিত। পরমাণু অস্ত্র নিক্ষেপ করতে হলে এই ব্রিফকেসটি দরকার হবে। কখনোই এই 'ফুটবল' মার্কিন প্রেসিডেন্টের অদূরে থাকবে না।

গত অগাস্টে একজন বিশেষজ্ঞ সিএনএনকে বলেছেন, যখন ট্রাম্প গলফ খেলেন, তখনো এই 'ফুটবল' তার সাথে পুরো মাঠ জুড়ে ছোটাছুটি করতে থাকে।

ফুটবলের মধ্যে কী আছে?

কিন্তু কেউ যদি কখনো এই পরমাণু ফুটবলের ভেতরে উকি দেয়ার সুযোগ পান, তিনি হতাশ হবেন। কারণ সেখানে কোন সুইচ বা বোতাম নেই, কোন ঘড়ি নেই যেটা টিক টিক করে চলছে।

সেখানে আছে কিছু যোগাযোগের যন্ত্রপাতি এবং কিছু বই যেখানে যুদ্ধের পরিকল্পনা আছে।

দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তার জন্য এসব পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে।

কিন্তু বিস্কুটের মধ্যে কী আছে?

বিস্কুট হচ্ছে এমন কিছু কার্ড, যার মধ্যে কিছু গোপন কোড রয়েছে, যা প্রেসিডেন্টের সাথে সবসময় থাকার কথা।

এটা সবসময় ফুটবল থেকে আলাদা থাকে।

কখনো যদি প্রেসিডেন্ট কোনো পরমাণু বোমা হামলার নির্দেশ দেন, এসব কোড দিয়ে তার নিজের পরিচয় নিশ্চিত করতে হবে।

সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের একজন সাবেক সহকারি রবার্ট বাজ প্যাটারসন দাবি করেছেন, ক্লিনটন প্রেসিডেন্ট থাকাকালে একবার তার কোডগুলো হারিয়ে ফেলেন। তিনি এসব কোড অন্যসব ক্রেডিট কার্ডের সাথে তার ট্রাউজারের পকেটে রাখতেন। মনিকা লিউনস্কির সাথে স্ক্যান্ডাল যেদিন প্রকাশিত হয়, সেদিন ক্লিনটন স্বীকার করেন যে, ওই কোডগুলো তিনি বেশ কিছুদিন ধরে খুঁজে পাচ্ছেন না।

কিভাবে প্রেসিডেন্ট পরমাণু বোমা হামলা করবেন?

একমাত্র মার্কিন প্রেসিডেন্ট পরমাণু হামলা চালাতে পারেন।

যখন তিনি নিজের পরিচয় নিশ্চিত করবেন, তিনি হামলা চালাতে জয়েন্ট চীফস অব স্টাফের চেয়ারম্যানকে আদেশ দেবেন।

এরপর এই আদেশটি যাবে নেব্রাস্কায় ইউএস স্ট্যাটেজিক কমান্ড হেডকোয়ার্টারে।

তারা সংশ্লিষ্ট হামলাকারী ইউনিটকে নির্দেশটি পাঠাবে। সেটা সাগর, স্থল বা পানির নিচের কোনো সাবমেরিনও হতে পারে।

সঙ্কেতের মাধ্যমে হামলা চালানোর আদেশটি দেয়া হবে, যে সঙ্কেতের একটি কপি ওই হামলাকারী ইউনিটেও সংরক্ষিত রয়েছে।

প্রেসিডেন্টের আদেশ কি প্রত্যাখ্যাত হতে পারে?

মার্কিন প্রেসিডেন্ট দেশটির সেনাবাহিনীর কমান্ডার ইন চীফ। সংক্ষেপে, তিনি যা বলবেন, সেটাই হবে।

কিন্তু সেখানেও কিছু ফাঁক রয়েছে।

গত ৪০ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো কংগ্রেস প্রেসিডেন্টের পরমাণু হামলার কর্তৃত্ব পরীক্ষা করে দেখেছে।

কংগ্রেসে সাক্ষ্য দেয়ার সময় ইউএস স্ট্রাটেজিক কমান্ডার সাবেক প্রধান সি রবার্ট কেহলার বলছেন, তিনি প্রেসিডেন্টে পরমাণু বোমা হামলার আদেশ অনুসরণ করবেন, যদি তা আইনসম্মত হয়।

''অন্য কোনরকম পরিস্থিতি দেখা দিলে, আমি হয়তো বলতে পারি যে, আদেশটি বাস্তবায়নের জন্য আমি প্রস্তুত নই।'' তিনি বলছেন।

একজন সিনেটর তার কাছে জানতে চান, ''তখন কি হবে?''

তার সরল উত্তর, ''আমি জানি না।''

কংগ্রেস কমিটির সদস্য তখন হেসে ফেলেন। - বিবিসি

 

 

অন্যান্য সংবাদ

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫