ঢাকা, মঙ্গলবার,২৩ জানুয়ারি ২০১৮

আগডুম বাগডুম

একজন বুদ্ধিমান মাছ বিক্রেতা

ইকবাল কবীর মোহন

০৬ জানুয়ারি ২০১৮,শনিবার, ০০:০০


প্রিন্ট
অলঙ্করণ হামিদুল ইসলাম

অলঙ্করণ হামিদুল ইসলাম

আরবে একদা একজন দয়াবান ও ন্যায়বান বাদশাহ বাস করতেন। তবে তার স্ত্রী ছিল কৃপণপ্রকৃতির। তাদের নিয়ে এক মজার গল্প আছে। বলি তাহলে :
বাদশাহ একদিন স্ত্রীকে নিয়ে শিকারে বের হলেন। যেতে যেতে তারা ক্লান্ত হয়ে পড়লেন। বিশ্রামের প্রয়োজন হলো। তাই পথিমধ্যে তারা একটি বড় গাছের ছায়ায় বিশ্রাম নিলেন। এ সময় আরবের এক লোক বাদশাহর জন্য একটি তরতাজা বড় মাছ নিয়ে হাজির হলো। মাছটি দেখে বাদশাহ খুব খুশি হলেন। মাছের মূল্য হিসেবে বাদশাহ মাছ বিক্রেতাকে চার হাজার দিনার পরিশোধ করলেন। মাছ বিক্রেতা তো মহাখুশি। মাছের বেশি মূল্য পেয়ে সে খুশিতে টগবগ করতে লাগল।
বাদশাহর এই উদার কাণ্ড দেখে রানী বিরক্ত হলেন। তিনি বললেন,
‘এটা অর্থের বড় অপচয়। এতে বড় বেশি দয়া করা হচ্ছে। তুমি মাত্র একটি মাছের জন্য চার হাজার দিনার ব্যয় করেছ! এর চেয়ে মূল্যবান কোনো জিনিস যদি দেয়া হতো তাহলে তুমি কত ব্যয় করতে শুনি? এতে করে তোমার খাজাঞ্চিখানা তো অচিরেই নিঃশেষ হয়ে যাবে।’
রানী বাদশাহকে আরো বললেন,
‘তুমি এক কাজ করো। দিনারগুলো ফেরত নাও। আর মাছের যা প্রকৃত দাম তা বিক্রেতাকে পরিশোধ করো।’
বাদশাহ বললেন,
‘যে দিনার আমি পরিশোধ করেছি, তা কিভাবে ফেরত নিই? এটা খুবই বাজে দেখা যাবে। এতে আমার কৃপণতা প্রকাশ পাবে।’
রানী বললেন, ‘আমি বলি কি, দিনারগুলো ফেরত পাওয়ার জন্য আমরা একটা কৌশল গ্রহণ করতে পারি। যেমন, আমরা বলতে পারি মাছটি পুরুষ বা মহিলা কি না? যদি সে বলে এটি পুরুষ মাছ, তাহলে আমরা তৎক্ষণাৎ বলব, না ভাই আমরা একটি মহিলা মাছ চাই। আর সে যদি বলে মাছটি মহিলা, তাহলে আমরা বলব, আমাদের তো একটি পুরুষ মাছের প্রয়োজন। আর এটাই হতে পারে মাছ ফেরত দিয়ে দিনারগুলো ফেরত পাওয়ার উত্তম কৌশল।’
‘বেশ ভালো কথা!’ বাদশাহ বললেন।
আরবের লোকটিকে এবার ডাকা হলো। বাদশাহ বললেন, তোমার এই মাছটি পুরুষ না মহিলা?
আরবের গরিব লোক হলে কী হবে, সে ছিল খুবই চতুর। সে বাদশাহর প্রশ্নের মর্ম বুঝে ফেলল। তাই সে ঝটপট জবাব দিয়ে বলল, না হুজুর মাছটি পুরুষ বা মহিলা কোনোটাই নয়। এটা ক্লীভলিঙ্গ।
বাদশাহ লোকটির জবাব পছন্দ করলেন। তিনি লোকটির বুদ্ধি দেখে তাকে আরো চার হাজার দিনার উপহার হিসেবে দিলেন।
লোকটি আরো চার হাজার দিনার পেয়ে যারপরনাই খুশি হলো। এবার সে চলে যেতে চাইল। এ সময় লোকটি চালাকি করে হাত থেকে একটি মুদ্রা মাটিতে ফেলে দিলো। তারপর লোকটি মোড় ঘুরে দাঁড়িয়ে সেই মুদ্রাটি তুলে নিলো।
এটা দেখে রানী বাদশাহকে বলল, দেখো, লোকটি কত কৃপণ। সে একটি মুদ্রাও ফেলে যেতে রাজি নয়। কেউ এই মুদ্রাটি পেয়ে যাক তাও সে ছাড়তে চায়নি।’
বাদশাহ এবার লোকটিকে ডেকে বললেন, ‘আমি তোমাকে হাজার হাজার দিনার দিলাম। তার পরও তুমি একটি মুদ্রা ছাড় দিতে পারলে না। একটি মুদ্রা পড়ে গেল, আর তাও তুমি কুড়িয়ে নিলে! এতে তুমি মোটেও লজ্জাবোধ করোনি?’
আরবের লোকটি বাদশাহর কথার জবাবে খুব বিনয়ের সাথে বলল,
‘মহান বাদশাহ, আপনার জীবন দীর্ঘ হোক। আমি কৃপণ লোক বলে আমি মুদ্রাটি কুড়িয়ে নেইনি। আমি এটা এ জন্য করেছি যে, এই মুদ্রায় আপনার ছবি খচিত রয়েছে। আমি ভাবলাম এটি মাটিতে পড়ে থাকলে অন্য কেউ এসে অবচেতনভাবে এটিতে পা ফেলতে পারে এবং এতে আপনার অপমান হবে।’
এবার বাদশাহ লোকটির কথায় আরো বেশি খুশি হলেন এবং তার কৃতজ্ঞতার ফলস্বরূপ তাকে আরো চার হাজার দিনার উপহার দিলেন।

 

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫