ads

ঢাকা, শনিবার,২১ এপ্রিল ২০১৮

আগডুম বাগডুম

আগডুম বাগডুম কবিতা

০৬ জানুয়ারি ২০১৮,শনিবার, ০০:০০


প্রিন্ট

ষোলই ডিসেম্বর
খান মোহাম্মদ খালেদ

আপন দেশেই আমরা কেমন
ছিলাম পরাধীন...
কাটত মনে কষ্ট নিয়ে
আমাদের রাতদিন।
সেই পরাধীনতা থেকে
দেশের জনগণ
মুক্তি পেতে ঐক্যবদ্ধ
হয় নিয়ে এক মন।
মুক্তিকামী বাঙালি শেষ
করতে হানাদার
পাকসেনারা গণহত্যা
চালায় নির্বিচার।
অকুতোভয় বাঙালি তাই
অস্ত্র হাতে নেয়...
ন’মাসব্যাপী যুদ্ধ করে
ওদের রুখে দেয়।
অবশেষে একাত্তরের
ষোলই ডিসেম্বর
স্বাধীন হলাম মুক্তিযুদ্ধে
বিজয় পাবার পর।

খোকা জ্বালায় মরে
মো: মাহমুদুল আলম

পেতœীÑভূতে মিলেমিশে
গাছের ডালে থাকে,
হাসে কাঁদে গুনগুনিয়ে
কালি গায়ে মাখে।

শুঁটকি খেয়ে চুল ছাড়িয়ে
যেমনি জরি গেছে,
তখন দু’জন জরির পিছে
ছুটে আসে নেচে।

জরি এখন হাসে কাঁদে
আবোল-তাবোল বলে,
চুল ছাড়িয়ে কুল হারিয়ে
সারা গাঁয়ে চলে।

মন্তর পড়ে খোকা বাবু
ভূত-পেতœীকে ধরে,
জরি বেওয়া ভালো হলো
খোকা জ্বালায় মরে।

শীতের বুড়ি থুত্থুড়ি
সৈয়দ মাশহুদুল হক

শীতের বুড়ি থুত্থুড়ি
পায়ে বরফ খড়ম
হেঁটে হেঁটে শীত বিলিয়ে
তাড়িয়েছে গরম।

শীতের বুড়ি কেঁদে নাকি
অশ্রু ঝরায় রাতে
দূর্বাঘাসে শিশির হয়ে
যা ভাসে রোজ প্রাতে।

হিম কুয়াশার চাদরে সে
ঢাকে সারা দেশ
রোদের তাপ বাড়লে পরে
হয় সে নিরুদ্দেশ।

চুপি চুপি আবার আসে
যখন নামে রাত
উদোম গায়ের মানুষ ধরে
করে কুপোকাত।

শীতের বুড়ি বড্ড পাজি
ভয়াল বরফ দাঁত
কারো সঙ্গেই নাই দোস্তি
গড়ে না সে আঁতাত।

সবার গায়েই সমানভাবে
শীতে বাড়ায় কাঁপ
বিত্তবানের হয়তো বাড়ে
বাবুগিরির ভাব।

এই পতাকা
হোসেন মোতালেব

এই পতাকা সবুজ ঘেরা
মাঝখানে তার লাল
এই পতাকা স্মৃতির পাতায়
থাকবে চিরকাল।

এই পতাকায় দৃপ্ত শপথ
এই পতাকায় মান
এই পতাকার লাল বৃত্তে
লক্ষ শহীদান।

এই পতাকা বিজয়গাথা
রক্ত রাঙা পথ
এই পতাকা চির দুর্বার
চির দুর্জয় রথ।

এই পতাকা শক্তি সাহস
এই পতাকাই বল
এই পতাকা উচ্চশিরে
অগ্রপথে চল।

ভালোবাসায়
দিলারা সামস্ দিলু

এসেছে ডিসেম্বর মাস
বিজয়ের সোনালি আলোয়
প্রকৃতি উদ্ভাস।
ভোরের বাতাসে আলো-ছায়ায়
দোয়েল শ্যামা শিস দিয়ে যায়
এক আকাশ ভালোবাসায়।
দেশমাতার মুক্তিপাগল জনতা
রক্তের দামে নিয়ে এলো স্বাধীনতা
জয়ের বারতা।
ওই ওড়ে সুখ-স্বপ্নের পতাকা
রক্ত জলে বাংলা মানচিত্র আঁকা
অমর ইতিকথা।
আঁধার কেটে রক্তলাল রবি
ডিসেম্বরই উঠল জেগে
স্বাধীনতার ছবি।

রাতের কাহন
আবদুল কুদ্দুস ফরিদী

সন্ধ্যা মানে সূর্য ডোবা আঁধার নেমে আসা,
মাঠের পাড়ে বনের ধারে মুখর পাখির বাসা।
সিঁদুর রাঙা সন্ধ্যা রাগে শুকতারাটি হাসে,
বকুল ফুলের গন্ধ বেড়ায় বাড়ির আশেপাশে।
নীল জোনাকির রুপোর হাসি স্বর্ণরেণু মাখা,
আকাশ পাড়ে শুক্লা শশী চিত্রপটে আঁকা।
নীহারিকা ছায়াপথে রাতটা নিপুণ সাজে,
তারার কুসুম পাপড়ি খোলে রঙিন কারুকাজে।
রাতের ভাষা নকশিকাঁথা পড়তে পারে তারা,
চাঁদটা ঘিরে মিছিল করে নূরের ফেরেশতারা।
তারার বনে রাতের আকাশ নিবিড় নিঝুম চুপ,
আঁধার কালো রাতের ছবি অরূপ অপরূপ।
পরীর দেশে রঙিন রাগে হুরীরা গান গায়,
পর্দা নেড়ে গেলমানেরা আড় নয়নে চায়।
নীরব আসে নিগূঢ় হাসে অন্ধকারের রাত,
সোবহে সাদেক ডেকে আনে আলোর সুপ্রভাত,
আনন্দ সওগাত।

শীত যায় শীত আসে
সোহেল রানা

ষড়ঋতুর বাংলাদেশে
শীত যায় শীত আসে
প্রতিবছর ঘুরে ফিরে
পৌষ ও মাঘ মাসে।

সঙ্গে আনে গুড় পাটালি
খেজুর রসের হাঁড়ি
নানান পদের পিঠেপুলি
সবার বাড়ি বাড়ি।

শিশির ভেজা ঘাসে যখন
সূর্য ওঠে হেসে-
শীতসকালে মন কুয়াশায়
বেড়ায় ভেসে ভেসে।

বাজ নেই
মুহাম্মদ হাবীবুল্লাহ হাসসান

গাছ আছে, ঘাস আছে
সবুজের সাজ নেই।
মোগলের দেশ আছে
শেরশাহী তাজ নেই।

শকুনের উড়াউড়ি
হায়! কোনো বাজ নেই।

 

ads

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫