ঢাকা, রবিবার,২১ জানুয়ারি ২০১৮

ঘটনা-দুর্ঘটনা

বিশিষ্টজনদের অভিমত

সড়ক দুর্ঘটনা রোধে দরকার সমন্বিত গণপরিবহন ব্যবস্থা

নিজস্ব প্রতিবেদক

০৫ জানুয়ারি ২০১৮,শুক্রবার, ১৪:৪২


প্রিন্ট

সড়ক দুর্ঘটনা ফের বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করে রাজনীতবিদ ও আইনজীবীসহ বিশিষ্ট নাগরিকেরা বলেছেন, গণপরিবহন খাতের নৈরাজ্য এবং শ্রমিক অসন্তোষ দূর করা না গেলে সড়ক দুর্ঘটনা কমানো যাবে না। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে দরকার নৌপথ, সড়কপথ ও রেলপথের মধ্যে সমন্বয় করে একটি সমন্বিত গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা। এজন্য সুপরিকল্পিত প্রকল্প প্রণয়ন এবং তা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।

আজ শুক্রবার সকালে রাজধানীর পুরানা পল্টনের কমরেড মণি সিংহ সড়কের মুক্তি ভবনে অনুষ্ঠিত ‘সড়ক দুর্ঘটনা, প্রাণহানি ও প্রতিকার’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তারা এসব কথা বলেন।

আজ বেসরকারি সংগঠন নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটি এই সভার আয়োজন করে। জাতীয় কমিটির সভাপতি হাজী মোহাম্মদ শহীদ মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আশীষ কুমার দে।

আলোচনা সভায় বক্তারা আরো বলেন, সাধারণ মালিকদের হয়রানি বন্ধ ও শ্রমিক-কর্মচারীদের ন্যায্য মজুরি-ভাতা দেয়া না হলে এ খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা মোটেও সম্ভব নয়। এজন্য ঢাকাসহ সারা দেশের বাস-ট্রাক টার্মিনালগুলোকে চাঁদাবাজিমুক্ত এবং চালক ও সহকারিসহ সব ধরনের পরিবহনকর্মীদের নিয়োগপত্র দিতে হবে।

দৈনিক জনকন্ঠের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ও জাতীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক রাজন ভট্টাচার্যের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের প্রেসিডিয়াম সদস্য নুরুর রহমান সেলিম, পরিবেশবিদ প্রকৌশলী ম. ইনামুল হক, সিপিবির কেন্দ্রীয় সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক ড. মীর তারেক আলী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মী ব্যারিস্টার সাদিয়া আরমান, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সাবেক মহাসচিব আবদুল জলিল ভুইয়া, মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রী তাসলিমা পারভীন কল্পনা, সংস্কৃতিকর্মী বিপুল মোল্লা, পরিবেশকর্মী ইফমা হুসেইন ও আয়োজক সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হীরক পাশা চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য রাখেন জাতীয় কমিটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সম্পাদক মুর্শিকুল ইসলাম শিমুল।

আলোচনা সভায় আশীষ কুমার দে তার প্রবন্ধে সড়ক দুর্ঘটনার গত তিন বছরের মাস-ভিত্তিক পরিসংখ্যান ও পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন তুলে ধরেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৭ সালে সারা দেশে ৩,৪৭২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৫১৬ নারী ও ৫৩৯ শিশুসহ মোট ৪,২৮৪ জন নিহত এবং ৯,১১২ জন আহত হয়েছেন।

প্রবন্ধে তিনি সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে ১৪টি সুপারিশ উত্থাপন করেন। সেগুলো হচ্ছে যেকোনো ধরনের যানবাহনের ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রাপ্তির ক্ষেত্রে ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি পাশ বাধ্যতামূলককরণ। চালক ও সহকারিসহ সব ধরনের পরিবহনকর্মীদের নিয়োগপত্র ও শ্রম আইন মেনে মজুরি-ভাতা প্রদান এবং তাঁদের শ্রমঘন্টা নির্ধারণ। সকল বাস ও ট্রাক টার্মিনাল এবং টেম্পুস্ট্যান্ড ও দূরপাল্লার রুটে অবৈধ চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ। বেসরকারি উদ্যোগে বাস আমদানি উৎসাহীত করতে বিভিন্ন পর্যায়ে হয়রানি ও চাঁদাবাজি বন্ধ এবং রুট পারমিট প্রাপ্তি সহজীকরণ। অবৈধ-ত্রুটিপূর্ণ গাড়ি ও লাইসেন্সবিহীন চালকদের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে সারা বছর বিআরটিএর অভিযান ও ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা।ত্রুটিপূর্ণ গাড়ি চালানোর দায়ে চালক, সুপারভাইজার ও সহকারীর সঙ্গে মালিককেও আইনের আওতায় আনা। দুর্ঘটনায় প্রাণহানীর জন্য দায়ী চালকের মৃত্যুদ-, সহকারির যাবজ্জীবন কারাদ- ও আহতের ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং হতাহত পরিবারকে মালিকের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদানের আইন প্রণয়ন। সড়ক, মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়কগুলো নিয়মিত সংস্কার, ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকগুলো চিহ্নিতকরণ এবং সতর্ক সংকেত স্থাপন। ট্রাফিক আইন অমান্যকারী চালক ও সহকারির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫