ঢাকা, মঙ্গলবার,২৩ জানুয়ারি ২০১৮

ইসলামী দিগন্ত

জালিমের পরিণতি জাহান্নাম

মো: এমদাদুল হক বাদশা

০৫ জানুয়ারি ২০১৮,শুক্রবার, ০০:০০ | আপডেট: ০৪ জানুয়ারি ২০১৮,বৃহস্পতিবার, ২৩:১২


প্রিন্ট

হাদিসে আছে হাশরের দিন প্রথমে তিন ব্যক্তিকে বিচারের জন্য আল্লাহ পাকের সামনে হাজির করা হবেÑ তাদের মধ্যে প্রথমেই শহীদকে আনা হবে এবং জিজ্ঞাসা করা হবে, তোমাকে দুনিয়াতে অনেক নাজ-নেয়ামত দেয়া হয়েছিলÑ সে সেগুলো স্বীকার করবে; আল্লাহ পাক বলবেন, এসব নাজ-নেয়ামত খেয়ে, উপভোগ করে আমার জন্য কী করেছ? শহীদ ব্যক্তি বলবেÑ আমি আপনার দ্বীনের জন্য যুদ্ধ করে জীবন দিয়ে শহীদ হয়েছি। আল্লাহ পাক বলবেন, তুমি মিথ্যা বলছÑ তুমি আমার জন্য শহীদ হওনি বরং লোকে তোমাকে বীর পুরুষ বলবে তাই তুমি শহীদ হয়েছ এবং দুনিয়াতে তা বলা হয়েছেÑ সুতরাং আমার জন্য তুমি কিছু করোনিÑ তারপর তাকে অধোমুখী করে ফেরেশতারা জাহান্নামে নিক্ষেপ করবে। দ্বিতীয় আলেমকে হাজির করা হবে এবং তাকে একই প্রশ্ন করা হবেÑ সে বলবে আমি এলেম শিখেছি এবং অন্যদেরও শিখিয়েছি এবং আমল করেছিÑ আল্লাহ পাক বলবেন, এসব তুমি তোমার সুনামের জন্যই করেছÑ আর দুনিয়াতে তার ফলও পেয়েছ, তাই আমার জন্য কিছু করোনি বলে ফেরেশতারা তাকে অধোমুখী করে জাহান্নামে ফেলে দেবেন। তৃতীয় দানবীরকে হাজির করা হবে এবং তাকেও দুনিয়ার নাজ-নেয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবেÑ সেও তা স্বীকার করবে। আল্লাহ পাক বলবেন, আমার জন্য কি করেছÑ সে বলবে আল্লাহ পাক আমি আপনার সন্তুষ্টির জন্য অনেক দান-খয়রাত করেছিÑ মসজিদ, মাদরাসা, এতিমখানা রাস্তাঘাট ইত্যাদি বহু সদকায়ে জারিয়ার স্থানে দান খয়রাত করেছিÑ আল্লাহ পাক বলবেন, তুমি মিথ্যা বলছÑ এসবই করেছ যাতে লোকে তোমাকে দানশীল বা দানবীর বলে এবং দুনিয়াতে তা বলা হয়েছে। সুতরাং আমার জন্য কিছু করনি বলে এখন তাকেও জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। তাই আমরা যা কিছু নেক আমল করব সহি নিয়তে খাঁটি দিলে শুধু আল্লাহ পাকের সন্তুষ্টির জন্যই করবÑ ছহি নিয়তে যদি একটি খোরমা খেজুরও আল্লাহর রাস্তায় দান করা হয় তাহলে তা বাড়তে বাড়তে ওহুদ পাহাড় পরিমাণ নেকি দিতে পারেন, আর নিয়ত সহি না হলে পাহাড় পরিমাণ দান খয়রাত করলেও সরিষা পরিমাণ নেকি পাওয়া যাবে না।
তাছাড়া হাশরের দিন আরো তিনটি আদালত বসবেÑ প্রথমে শিরকের বিরুদ্ধে আদালতে আল্লাহ পাককে যারা অস্বীকার করেছে কাফির-মুশরিক-বেঈমানদের বিনা হিসেবেই সরাসরি জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। দ্বিতীয় হক্কুল এবাদের বা বান্দার হকের আদালত হবেÑ যাতে কোনো মানুষকে যদি কেউ অন্যায়ভাবে কষ্ট দিয়ে থাকে বা কারো ওপর কোনো জুলুম-অত্যাচার করা হয়ে থাকে বা ঋণ দেনা-পাওনা থাকে তা ওই মজলুম পাওনাদার ব্যক্তি মাফ না করলে আল্লাহ তায়ালা মাফ করবেন না। নবীজী সা: বলেছেন, সবচেয়ে দুর্ভাগা অসহায় হবে ওই ব্যক্তি যার অনেক নেক আমল থাকা সত্ত্বেও মানুষকে কষ্ট দেয়ার কারণে তার সব নেক আমল চলে যাবে মজলুমদের আমলে এবং যখন জালিম ব্যক্তির আর কোনো নেক আমল অবশিষ্ট থাকবে না তখন যাদের ওপর জুলুম করেছে তাদের গুনাহ পাপগুলো ওই জালেমদের কাঁধে চাপিয়ে দেয়া হবে। তাই সেই হবে সবচেয়ে দুর্ভাগা-গরিব-অসহায়-ঘৃণিত পাপীষ্ঠ। আল্লাহ পাক একটুও জুলুম করবেন না বান্দার ওপরÑ তাই আমরা যেন কোনো অবস্থায়ই কারো মনে আঘাত না দেই, জুলুম না করিÑ কারণ মানুষের মনে আঘাত দেয়া কাবা শরিফ ভাঙার কাছাকাছি অপরাধ। তাই সাবধান, যুবকেরা সাবধান! তোমাদের সুন্দর ভবিষ্যতকে সামান্য কারণে নষ্ট করো না। আমিন। আর ৩ নং আদালত হবে হক্কুল্লাহ বা আল্লাহ তায়ালার হকের বিচারের আদালতÑ যেমন আল্লাহ পাকের হুকুম নামাজ, রোজা, হজ, জাকাত ইত্যাদি আল্লাহ পাক ইচ্ছা করলে মাফও করে দিতে পারেন। আল্লাহ পাক মানুষকে নুতফা বা তুচ্ছ নাখান্দা জিনিস থেকে সৃষ্টি করে আবার পেটের ভেতর নাপাক ময়লা দুর্গন্ধ দিয়েছেন যাতে মানুষ অহঙ্কার করতে না পারেÑ কিন্তু মানুষ তারপরও অহঙ্কার করে, যা আল্লাহ পাক খুব অপছন্দ করেন।
ঈমানের দাবি হলো মানুষ শুধু আল্লাহ তায়ালাকে ভয় করবে তাহলে তাকে সব মাখলুক বা সৃষ্টি ভয় করবে। সত্যিকার ঈমানদার ব্যক্তি খাছ দিলে শুধু আল্লাহ পাককে যদি ভয় করে তবে তাকে কোনো জালেম-সন্ত্রাসী-হিংস্র জন্তু কিছুই ক্ষতি করতে পারবে না। আমার জীবনে আল হামদু লিল্লাহ অনেক বড় কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন হয়েছি এবং আল্লাহ পাক সম্মানজনকভাবে উদ্ধার করেছেন। বাংলাদেশের শীর্ষ সন্ত্রাসী বহুবার চাঁদা চেয়ে হুমকি দিয়েছে কিন্তু আমি তাদের নামাজ-তাবলিগের দাওয়াত দিয়েছি এবং হট টক করেছি কিন্তু আলহামদুলিল্লাহ আল্লাহ পাক আমাকে ইজ্জতের সাথে রেখেছেন। আমার ঈমান বলে, যদি কারো হাতে আমার মৃত্যু লেখা থাকে তাহলে সে আমার বন্ধু হলেও আল্লাহ পাকের হুকুমেই আমাকে মারবে, আর যদি আল্লাহ পাকের হুকুম না থাকে তাহলে আমাকে কিছুই করতে পারবে না। কারণ মানুষের হায়াত-মউত-রিজিক-দৌলত সব আল্লাহ পাক মায়ের পেটে জন্মের চার মাসের মধ্যেই লিখে দেন (সূরা হজ : ৫)। সুতরাং আল্লাহ পাক ছাড়া অন্য কাউকে ভয় পেলে ঈমান থাকবে না। আল্লাহ পাক আমাদেরকে ঈমান নিয়ে মরার তৌফিক দিন, আমিন।
আর যদি ন্যায় কাজ করতে গিয়ে তুমি মারাও যাও তবে বাঘের বাচ্চার মতো বা সিংহের মতো বীরের বেশেই মরবে ও শহীদী দরজা লাভ করবে, আর যদি বিজয়ী হও তাহলেও লাভ। কিন্তু দুর্বল সিংহের মতো বা ইঁদুর-বিড়ালের মতো মরলেও লাভ নেই। যারা নিজেরা শুধু ইবাদত করে মনে করে আমি তো ভালো আছি কিন্তু তারাও রেহাই পাবে না। মানুষের বিপদে উপকারের চেয়ে আর ভালো কাজ নেইÑ একটি মানুষের বিপদে শুধু সাহায্য করার চেষ্টা করলেই বলা হয় যে, ১০ বছর মসজিদে নফল ইতেকাফের চেয়ে বেশি সওয়াব হয়। যেমন, কোনো বৃদ্ধ লোকের হাত থেকে যদি লাঠি পড়ে যায় এবং তুমি যদি সেটি উঠিয়ে দিতে যাও কিন্তু তুমি উঠানোর আগেই তিনি লাঠিটি তুলে নেন তাহলেও তুমি ওই সওয়াব পাবে। সুতরাং যত গুড় তত মিষ্টিÑ ভালো কাজের ফায়দা অনেক এবং মনেও আনন্দ পাওয়া যায়।
দুনিয়াতে চার ধরনের লোক আছেÑ ১. দুনিয়াতেও ধনী এবং আখেরাতেও ধনীÑ যারা দুনিয়াতে সম্পদের সৎ ব্যবহার করবে। ২. দুনিয়াতে ধনী কিন্তু আখেরাতে হবে গরিব, যারা অহঙ্কারী ও সম্পদের সৎ ব্যবহার করবে না। ৩. একদল দুনিয়াতেও গরিব আখেরাতেও গরিব থাকবেÑ যাদের আচরণ ভালো না এবং শুকরিয়া নেই। ৪. একদল দুনিয়াতে গরিব কিন্তু আখেরাতে ধনী থাকবেÑ যাদের আমল ভালো ও শোকরিয়া করত। ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিতে হবে কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক সত্য হলো ইতিহাসের শিক্ষা হচ্ছে, ইতিহাস থেকে কেউ শিক্ষা নিতে চায় না।
লেখক : প্রবন্ধকার

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫