ঢাকা, রবিবার,২২ এপ্রিল ২০১৮

রংপুর

হুল ফুটানো হিমেল হাওয়ায় কাহিল উত্তরাঞ্চল

দিনাজপুর সংবাদদাতা

০৪ জানুয়ারি ২০১৮,বৃহস্পতিবার, ১৯:২৩


প্রিন্ট
হুল ফুটানো হিমেল হাওয়ায় কাহিল উত্তরাঞ্চল

হুল ফুটানো হিমেল হাওয়ায় কাহিল উত্তরাঞ্চল

ঘন কুয়াশা আর হিমেল হাওয়ায় কাহিল অবস্থা উত্তরের জেলা দিনাজপুরসহ উত্তরাঞ্চলের ছিন্নমূল মানুষের। এ অঞ্চলে বর্তমানে দিনের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ২০ ঘণ্টাই আকাশ থাকে মেঘ ও কুয়াশাচ্ছন্ন। বিকাল থেকে পরদিন আধাবেলা পর্যন্ত থাকছে দাপুটে শীত। সন্ধ্যার পর থেকে পরদিন সকাল পর্যন্ত ঘন কুয়াশা ঝড়ছে টিপ টিপ করে। যেন মনে হয় ঝিরি ঝিরি বৃষ্টি ঝরছে অবিরাম। কুয়াশার কারণে সড়ক-মহাসড়কে যানবাহনগুলো দিনের বেলায়ও হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করছে। পাশাপাশি ট্রেনগুলো অত্যন্ত ধীরগতিতে চলাচল করছে। প্রচণ্ড শীত ও হুল ফুটানো হিমেল হাওয়ার কারণে সন্ধ্যার পর সাধারণ মানুষ নেহায়েত গুরুত্বপূর্ণ কাজ ছাড়া ঘর থেকে বেরুচ্ছে না।

“মাঘের শীতে বাঘ কাঁপে” গ্রামাঞ্চলে এমন প্রবাদ প্রচলিত থাকলেও মাঘ মাস না আসতেই শীতের তীব্রতায় এ অঞ্চলের মানুষ পড়েছে চরম বিপাকে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্য আয়ের লোকজন দারুণ অসহায় হয়ে পড়েছেন। শীত নিবারণের জন্য গরম কাপড় কিনতে নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষেরা ভিড় করছে হকার্স মার্কেট কাচারী বাজারে। সেখানে তারা প্রয়োজনীয় শীতবস্ত্র সংগ্রহের চেষ্টা করলেও অনেকে দামে কুলাতে না পেরে ফেরৎ আসছেন। অনেকে সেখানেই ক্রয় করছেন।

পাশাপাশি শীতের তীব্রতায় কাজে যেতে না পারায় ভোগান্তিতে পড়েছেন খেটে খাওয়া দিনমজুর শ্রেণীর লোকজন। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত কুয়াশা ও কনকনে শীতে দিনমজুর ও সাধারণ মানুষেরা ঘর থেকে বেরোতে পারছেনা। আর সন্ধ্যার পর থেকে ছিন্নমূল অসহায় মানুষেরা ফুটপাতে খড়-কুটায় আগুন জ্বালিয়ে নিবারণ করছে শীত। এ পরিস্থিতিতে সরকারিভাবে না হলেও স্থানীয়রা ব্যক্তিগত উদ্যোগে গরিব অসহায় মানুষদের মাঝে শীত বস্ত্র বিতরণ করছে।

দিনাজপুর রেল স্টেশনের অসহায় ছিন্নমূল মানুষেরা জানায়, যেভাবে শীতের তীব্রতা বাড়ছে আমাদের মতো ফুটপাতের মানুষের বাঁচাই কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। সন্ধ্যার পর খড়-কুটা কুড়িয়ে আগুন জ্বালিয়ে রাতটা কোনোমতে কাটাই। যে ক'দিন শীতের দাপট থাকবে আমার মতো মানুষদের চোখে ঘুম থাকেনা। আগুনের পাশেই জেগে রাত কাটাতে হয়। এই শীতে যেখানে বস্ত্র কাজে লাগে না সেখানে বস্ত্র ছাড়া কেমনে থাকি।

শীতের কাপড় দিয়ে সাহায্য করলে আমরা বাঁচতে পারবো। দিনাজপুরের বিরল উপজেলার ফরক্কাবাদ গ্রামের কৃষক জবেদুল ইসলাম জানান, প্রচণ্ড শীতের কারণে হুমকির মধ্যে পড়েছে বোরো চাষের বীজতলা। বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশংকা রয়েছে শিম, বেগুন, আলুসহ সবজি ক্ষেতে। শীত ও কুয়াশার হাত থেকে ফসল রক্ষা করতে বালাইনাশক প্রয়োগ করতে হচ্ছে। এজন্য গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত খরচা। তিনি জানান, সম্প্রতি প্রলয়ংকারী বন্যার ক্ষতি কিছুটা কাটিয়ে উঠে যখন নতুনভাবে বোরো ধানের বীজতলা তৈরী করা হচ্ছিলো, ঠিক তখনই আবার শীতের এই তীব্রতায় বীজতলা ফের হুমকির মূখে পড়লো।

দিনাজপুর সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ সিরাজুল ইসলাম জানান, তীব্র শীতে মূলত শীতকালীন সবজি, বিশেষ করে আলুর সবচেয়ে বেশী ক্ষতির আশংকা থাকে। তাই আলুর মোড়ক রোগ প্রতিরোধে আমরা কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে চাষীদের সার্বক্ষণিক বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। এছাড়া বীজতলার ক্ষতি থেকে চাষীদের রক্ষা করতেও আমরা প্রয়োজনীয় সহায়তা ও পরামর্শ প্রদান করছি।

এদিকে দিনাজপুর আবহাওয়া অফিস জানায়, শীতের তীব্রতা আরো বাড়বে যা আগামী তিন থেকে চার দিন অব্যাহতভাবে বিরাজ করবে। বৃহস্পতিবার সকালে দিনাজপুরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিলো ৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৩ শতাংশ যার গতিবেগ ছিল প্রতি ঘণ্টায় ১৫ থেকে ১৮ কিলোমিটার।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫