রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে চাপ অব্যাহত রাখবে ওআইসি

কূটনৈতিক প্রতিবেদক
মিয়ানমারের নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে দেশটির ওপর চাপ অব্যাহত রাখবে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি)।
রোহিঙ্গাদের অবস্থা সরেজমিন দেখতে বাংলাদেশে আসা ওআইসি প্রতিনিধিদলের নেতা ড. রশিদ আল-বালুসি গতকাল পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের সাথে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এ কথা জানান। তিনি ১২ সদস্যের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ওআইসির স্বাধীন স্থায়ী মানবাধিকার কমিশন এবং মহাসচিবের দফতরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে এ প্রতিনিধিদল গঠন করা হয়।
প্রতিনিধিদলটি রোহিঙ্গাদের ওপর চালানো নৃশংসতার তথ্য সংগ্রহে কক্সবাজার যাবে। এরপর তা প্রতিবেদন আকারে ওআইসি মহাসচিবের কাছে তুলে ধরা হবে এবং আগামী মে মাসে ঢাকায় অনুষ্ঠেয় ওআইসি পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে উত্থাপন করা হবে।
আল-বালুসি বলেন, রোহিঙ্গাদের নিজ নিজ বসতভিটায় ফিরিয়ে নিতে হবে। তাদের নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য চাপ প্রয়োগ করবে ওআইসি। একাধিক আন্তর্জাতিক ফোরামে ওআইসি ইতোমধ্যে ইস্যুটি তুলে ধরেছে। ভবিষ্যতেও এ চাপ অব্যাহত থাকবে।
তিনি বলেন, নিপীড়িত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ প্রশংসনীয় কাজ করেছে। এ ইস্যুতে ওআইসি সব সময় বাংলাদেশের পাশে থাকবে।
গত ২৫ ডিসেম্বর জাতিসঙ্ঘ সাধারণ অধিবেশনে মিয়ানমার ইস্যুতে ওআইসি উত্থাপিত প্রস্তাব ভোটাভুটির মাধ্যমে পাস হয়েছে। প্রস্তাবে রাখাইন রাজ্যে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান অবিলম্বে বন্ধ এবং রোহিঙ্গা সঙ্কট মোকাবেলায় জাতিসঙ্ঘ মহাসচিবের মিয়ানমার বিষয়ক একজন বিশেষ দূত নিয়োগের আহ্বান জানানো হয়। প্রস্তাবের পক্ষে ১২২ ভোট ও বিপক্ষে ১০ ভোট পড়েছে। এ ছাড়া ২৪টি দেশ ভোট দানে বিরত ছিল। প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দেয়া দেশগুলোর মধ্যে মিয়ানমার ছাড়াও ছিল চীন, রাশিয়া, কম্বোডিয়া, লাওস, ফিলিপাইনস, ভিয়েতনাম, বেলারুস, সিরিয়া ও জিম্বাবুয়ে।
এর আগে প্রস্তাবটি জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদের থার্ড কমিটিতে উঠলে সেখানেও বিপুল ভোটে তা পাস হয়। সাধারণ পরিষদের বাজেট কমিটির কাছ থেকে সবুজসঙ্কেত পাওয়ার পরই জাতিসঙ্ঘ মহাসচিবের মিয়ানমার বিষয়ক বিশেষ দূত নিয়োগের প্রস্তাব করা হয়েছে।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.