ঢাকা, বুধবার,১৭ জানুয়ারি ২০১৮

নগর মহানগর

মোবাইল কোর্ট নিয়ে আপিলে শুনানি শুরু

বিনা কারণে কোনো নাগরিককে জেলে রাখা সংবিধান সমর্থন করে না : ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি

নিজস্ব প্রতিবেদক

০৪ জানুয়ারি ২০১৮,বৃহস্পতিবার, ০০:২৭


প্রিন্ট
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা অবৈধ ও অসাংবিধানিক ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেয়া রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিলের (আপিলের অনুমতি চেয়ে করা আবেদন) ওপর শুনানি শুরু হয়েছে। গতকাল ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মো: আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞার নেতৃত্বে পাঁচ বিচারপতির আপিল বেঞ্চে এ শুনানি শুরু হয়। 
শুনানিতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের সাজা দেয়া প্রসঙ্গে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি বলেন, পুলিশ থাকতে পারবে না, জেল-জরিমানা দিয়ে দেবেন। সাধারণ মানুষের কথা কি বলব, আমার নিজেরই ভয় লাগে। বিনা কারণে কোনো নাগরিককে এক দিন জেলে রাখাও সংবিধান সমর্থন করে না।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পে গতকাল শুনানি শুরু করেন ব্যারিস্টার এম আমীর উল ইসলাম। এ সময় অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম উপস্থিত ছিলেন। রিটের পে ছিলেন ব্যারিস্টার হাসান এম এস আজিম।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সুযোগ এর আগে কয়েক দফা বাড়ানো হয়। গতকাল শুনানি অসমাপ্ত অবস্থায় ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত মুলতবি করা হয়েছে। 
২০১১ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর ভবন নির্মাণ আইনের কয়েকটি ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগে আবাসন কোম্পানি এসথেটিক প্রপার্টিজ ডেভেলপমেন্টের চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান খানকে ৩০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। ২০ সেপ্টেম্বর তিনি জামিনে মুক্তি পান। ১১ অক্টোবর ভ্রাম্যমাণ আদালত আইনের (মোবাইল কোর্ট অ্যাক্ট ২০০৯) কয়েকটি ধারা ও উপধারার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট আবেদন করেন তিনি।
রিটের শুনানি নিয়ে একই বছর রুল জারি করেন হাইকোর্ট। আদালতের জারি করা রুলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের দিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার ৫ ধারা এবং ৬(১), ৬(২), ৬(৪), ৭, ৮(১), ৯, ১০, ১১, ১৩ ও ১৫ ধারা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। পরে এ ধরনের আরো দু’টি রিট করা হয়। তিন রিটে মোট ১৯ আবেদনকারীর শুনানি শেষে গত ১১ মে রায় ঘোষণা করা হয়। রায়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত (মোবাইল কোর্ট) পরিচালনা অবৈধ ঘোষণা করেন হাইকোর্ট। একই সাথে ভ্রাম্যমাণ আদালত আইনের (মোবাইল কোর্ট অ্যাক্ট ২০০৯) ১৪টি ধারা ও উপধারা সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক হওয়ায় তা অবৈধ ঘোষণা করেন। এ ছাড়া তিন রিটকারীর সাজা অবৈধ ঘোষণা এবং জরিমানাও বাতিল করেন আদালত। এই রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপ আপিল করে।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫