জরিপে তথ্য

এক বছরে শুধু কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় ৪২৬ শ্রমিক নিহত

নিজস্ব প্রতিবেদক
সারা দেশে গত এক বছরে শুধু কর্মেেত্র সংঘটিত দুর্ঘটনায় ৪২৬ জন শ্রমিক নিহত হয়েছেন। মোট ৩২১টি কর্মত্রে দুর্ঘটনায় এসব শ্রমিক মারা যায়। ২০১৬ সালে ২৫৮টি কর্মত্রে দুর্ঘটনায় ৩৮২ জন শ্রমিক নিহত হয়েছিল। বেসরকারি সংস্থা সেইফটি অ্যান্ড রাইটস সোসাইটি সংবাদপত্রে প্রকাশিত খবরের ওপর পরিচালিত এক জরিপে এ তথ্য দিয়েছে।
সংস্থাটি একই সাথে দেশে প্রথম ‘শ্রম পরিস্থিতি ও শ্রম অর্থনীতি ২০১৭’ বিষয়ক পর্যালোচনাভিত্তিক একটি রিপোর্টও প্রকাশ করে। সেইফটি অ্যান্ড রাইটস সোসাইটির নির্বাহী পরিচালক সেকেন্দার আলী মিনা জরিপ প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। 
সেকেন্দার আলী মিনা জানান, যেসব শ্রমিক কর্মক্ষেত্রের বাইরে অথবা কর্মক্ষেত্র থেকে আসা-যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায় তাদের সংবাদপত্র জরিপে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে নির্মাণ খাতে নিহতের সংখ্যা সর্বাধিক ১৪৪ জন, যা মোট নিহতের প্রায় ৩৪ শতাংশ। এর পরেই রয়েছে পরিবহন খাত যেখানে ১০২ শ্রমিক (প্রায় ২৪ শতাংশ) নিহত হয়। ৯৬ শ্রমিক মারা যায় সেবামূলক প্রতিষ্ঠানÑ হোটেল, ওয়ার্কশপ, বিদ্যুৎ সরবরাহ ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানে। এ ছাড়া কলকারখানা ও অন্যান্য উৎপাদনশীল প্রতিষ্ঠানে ৭৬ জন শ্রমিক নিহত হন। এ সময় আটজন কৃষি শ্রমিকও নিহত হয়েছেন।
জরিপে উল্লেখ করা হয় যে সবচেয়ে বেশি শ্রমিক নিহত হয়েছেন সড়ক দুর্ঘটনায়। যার সংখ্যা ১১৭ জন। এ ছাড়া বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ৮৮ জন, ছাদ, মাচা বা ওপর থেকে পড়ে ৫৭ জন, শক্ত বা ভারী কোনো বস্তুর দ্বারা আঘাত বা তার নিচে চাপা পড়ে ৩৯ জন, বয়লার বিস্ফোরণে ৩০ জন, সেপটিক ট্যাঙ্ক বা পানির ট্যাঙ্কের বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে ১৯ জন, পুড়ে মারা যায় ১৮ জন, বিভিন্ন বিস্ফোরক দ্রব্য বিস্ফোরণে ১৬ জন এবং ছাদ/দেয়াল/মাটি/পাহাড় ধসে ৩২ জন শ্রমিক মারা গেছেন। এ ছাড়া অন্যান্য কারণে ১০ জন শ্রমিক নিহত হন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছেÑ ডুবে যাওয়া ও বজ্রপাত প্রভৃতি। 
এ ব্যাপারে সেকেন্দার আলী মিনা বলেন, মালিক তথা শ্রমিকের গুরুতর অবহেলার কারণেই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এবং সেপটিক ট্যাঙ্ক বা পানির ট্যাঙ্কের বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে, যা সহজেই এড়ানো যেত। উপস্থাপিত রিপোর্টে বলা হয় নিরাপত্তাসামগ্রী ব্যবহার না করে বিদ্যুতের কাজ করা, নিয়মানুযায়ী যথাযথভাবে মাচা তৈরি না করা, সড়কে নিয়ম না মানা, অগ্নি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার ঘাটতি, যথাযথ বয়লার না থাকা ইত্যাদি কারণে শ্রমিক নিহত হয়।
অপর দিকে ক্ষতিপূরণ সম্পর্কিত মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি দাবি করে ব্লাস্টের অনারারি নির্বাহী পরিচালক ব্যারিস্টার সারা হোসেন বলেন, কর্মক্ষেত্র দুর্ঘটনায় নিহতদের ক্ষতিপূরণ নির্ধারণে একটি নির্দিষ্ট মানদণ্ড হওয়া দরকার যেখানে মারাত্মক দুর্ঘটনা আইন ১৮৫৫ ও আইএলও কনভেনশন ১২১ বিবেচনা করতে হবে। বীমা প্রতিষ্ঠানগুলোকে ক্ষতিপূরণের বিষয়ে আরো চাপ প্রদান করা প্রয়োজন। তিনি কর্মক্ষেত্রে নারী শ্রমিকদের নির্যাতনের তথ্য সংগ্রহ ও প্রতিবেদন প্রস্তুত করার বিষয়ে আলোকপাত করেন। 
কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা শ্রমিকের অধিকার উল্লেখ করে বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক ডা: ওয়াজেদুল ইসলাম খান বলেন, শ্রমিকের মজুরি যেমন বৃদ্ধি করা দরকার তেমনি কর্মক্ষেত্রে শোভন কর্মপরিবেশও নিশ্চিত করা দরকার, যা আইএলও প্রাধান্য দিয়ে থাকে। বিল্সের নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন বলেন, কর্মক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মান অর্জনে আমরা এখনো পিছিয়ে।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.