ঢাকা, মঙ্গলবার,২৪ এপ্রিল ২০১৮

আরো খবর

আ’লীগ-স্বেচ্ছাসেবক লীগের সংঘর্ষে ৩ জেলায় আহত ৪৬

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

০৪ জানুয়ারি ২০১৮,বৃহস্পতিবার, ০০:০০


প্রিন্ট

মুন্সীগঞ্জ জেলার সদর উপজেলায় ও ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায় আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের নেতাকর্মীদের মধ্যে এবং পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া উপজেলায় স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ৪৬ জন আহত হয়েছেন। মুন্সীগঞ্জে সংঘর্ষ চলাকালে শতাধিক ককটেল বিস্ফোরণ, গুলি ও বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়েছে।
মুন্সীগঞ্জ সংবাদদাতা জানান, মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার মোল্লাকান্দি ইউনিয়নের আমঘাটা ও কংশুপুরা এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ হয়েছে। বুধবার সকাল থেকেই মোল্লাকান্দি ইউপি চেয়ারম্যান ও সদর থানা আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক সম্পাদিকা মহসিনা হক কল্পনা এবং সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও সদর থানা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রিপন পাটোয়ারীর সমর্থকদের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষ চলাকালে শতাধিক ককটেল বিস্ফোরণ, গুলিবর্ষণ ও বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, পরিত্যক্ত একটি অস্ত্র উদ্বার এবং আহাদুল্লাহ মীর (৫৩) নামে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
গুলিবিদ্ধরা হলেনÑ লিজা (৩০), আলমগীর সরদারের মেয়ে শিক্ষার্থী মীম (১৫), সালামের স্ত্রী খালেদা আক্তার (৩৫), মনি দেওয়ানের ছেলে মো: রতন (২৮) ছাত্র, লোকমান জমাদ্দারের ছেলে জনি (২২), হাবিবুল্লাহ লস্করের স্ত্রী মরিয়ম বেগম (৪০), রিপন খানের ছেলে স্কুলছাত্র শাহরিয়ার (১০), ফজল দেওয়ানের ছেলে ফাইজুল দেওয়ান (৩৯) ও সজল হোসেন। অপর দিকে ককটেল বিস্ফোরণে আহত হয়েছেন আক্কাস হালদারের ছেলে ফালান (৩৫) ও সুয়াজ উদ্দিনের ছেলে স্বপন মোল্লা (২৬)। গুলিবিদ্ধদের মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসাশেষে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
প্রত্যদর্শীরা জানান, মহসিনা হক কল্পনা সমর্থিত মহেশপুরের জাহাঙ্গীর, ইউসুফ ও মাকহাটির মিল্টনের নেতৃত্বে সশস্ত্র লোকজন ভোর ৬টায় কংশুপুরা গ্রামে হামলা করে। এ সময় তাদের ছোড়া গুলিতে নারী-শিশু, স্কুল-কলেজের ছাত্রসহ অনেকেই গুলিবিদ্ধ ও ককটেল বিস্ফোরণে আহত হন। একই সময় কল্পনা সমর্থিত মোল্লাকান্দি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ফরহাদ খাঁর অনুসারী বুদা ও মুন্সীকান্দির স্বপন মেম্বারের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী আমঘাটা গ্রামে ভোর ৬টায় হামলা চালিয়ে বাড়িঘর ভাঙচুর, গুলিবর্ষণ ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। পরে রিপন পাটোয়ারীর লোকজনও পাল্টা হামলা করে। এতে সংঘর্ষ বেধে যায়। থেমে থেমে সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত সংঘর্ষ চলে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত (সন্ধ্যা ৭টা) বিপুল পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
এ ব্যাপারে কল্পনা জানান, তিনি ঢাকায় আছেন। রিপন পাটোয়ারীর লোকজন তার লোকদের ওপর হামলা চালিয়েছে। অন্য দিকে রিপন পাটোয়ারী কাতারে অবস্থান করায় তার বক্তব্য জানা যায়নি।
মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক শৈবাল বসাক জানান, অজ্ঞাত দু’জনসহ গুলিবিদ্ধ সাতজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
মুন্সীগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন জানান, সকাল থেকেই আমঘাটা এলাকায় শতাধিক ককটেল বিস্ফোরণ ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেছে। একটি বিদেশী বন্দুক উদ্ধার ও আহাদুল্লাহ মীর (৫৩) নামের একজনকে আটক করা হয়েছে।
ফরিদপুর সংবাদদাতা জানান, ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার রামনগর ইউনিয়নের রাধানগর গ্রামে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে ১৫ জন আহত হয়েছেন।
জানা গেছে, বুধবার সকালে নগরকান্দা আওয়ামী লীগের সভাপতি আয়মন আকবর বাবলু চৌধুরীর অনুগত সরোয়ার মোল্লার সমর্থকদের সাথে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা জামাল হোসেনের অনুগত নবা সিকদারের সমর্থকদের প্রায় ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে আহতদের ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে নান্নু মাতুব্বর, চুন্নু মাতুব্বর, সামাদ মোল্লা, নুরুদ্দীন মুন্সির অবস্থা আশঙ্কাজনক। খবর পেয়ে নগরকান্দা থানার ওসি এ এফ এম নাসিমের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম গিয়ে সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আনে।
মঠবাড়িয়া সংবাদদাতা জানান, মঠবাড়িয়ায় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় স্বেচ্ছাসেবক লীগের বিজয় সমাবেশ চলাকালে সংগঠনের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছেন। স্থানীয় হাতেম আলী বালিকা বিদ্যালয়ে বিজয় সমাবেশ চলাকালে কেন্দ্রীয় কার্যকরী কমিটির সভাপতি মোল্লা কাওসারের উপস্থিতিতে এ সংঘর্ষ হয়। পুলিশ লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার পর আবার সমাবেশ শুরু হয়।
সংঘর্ষের সময় পদদলিত হয়ে ও প্রতিপক্ষের হামলায় ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা বাবু শরীফ (৩৮), ছাত্রলীগ নেতা ইমরান বাবু (২২), নাজমুল (১৮), সাগর শরীফ (২০), শাহীন (২১), আবু হানিফ (১৮), আরিফ (২০), মজিদ (৬৫), রহমান সর্দার (৪০), নির্মাণ শ্রমিক নেতা খলিল খাঁ (৩৮), কৃষক আব্দুস সালাম জমাদ্দার (৭০), খলিল হাওলাদার (৫৫)সহ ২০ জন আহত হন। আহত আটজন প্রাথমিক চিকিৎসা নিলেও ১২ জনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে আরিফের অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাতেই তাকে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে পাঠিয়েছেন। আহতরা উপজেলা চেয়ারম্যান আশরাফুর রহমান ও উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি পৌরমেয়র রফিউদ্দিন আহমেদ ফেরদৌসের সমর্থক বলে জানা গেছে।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫