ঘুষের টাকাসহ যশোরে মাদকদ্রব্যের উপপরিচালক গ্রেফতার

যশোর অফিস

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর যশোরের উপপরিচালক মো: নাজমুল কবিরকে গ্রেফতার করেছে দুদক। তার অফিসের ড্রয়ার থেকে ঘুষের দুই লাখ টাকা ছাড়াও আরো কিছু টাকা উদ্ধার হয়েছে।
অভিযোগ, এক মদের দোকানির লাইসেন্স নবায়ন বাবদ উপপরিচালক কবির তিন লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। পরে দুই লাখে রফা হয়। গতকাল বুধবার বেলা ৩টার কিছু সময় পর দুদকের ঢাকা বিভাগীয় পরিচালক সেই দুই লাখ টাকা উদ্ধার করে মাদকদ্রব্যের ডিডিকে গ্রেফতার করেন।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ঢাকা বিভাগীয় পরিচালক নাসিম আনোয়ার।
তিনি উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের জানান, যশোর শহরের বাসিন্দা মহব্বত আলী টুটুল নামে এক ব্যক্তি সংশ্লিষ্ট বিভাগের অনুমোদন নিয়ে নাভারনে বাংলা মদের ব্যবসা করেন। কিন্তু তার লাইসেন্স নবায়ন হচ্ছিল না। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর যশোরের উপপরিচালক মো: নাজমুল কবির ওই ব্যবসায়ীর লাইসেন্স প্রায় তিন মাস আগে নিজের হেফাজতে নেন। তিনি লাইসেন্স নবায়ন বাবদ তিন লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। পরে দুই লাখে রফা হয়। বুধবার দুপুরে টুটুল ঘুষের দুই লাখ টাকা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর যশোর অফিসে এসে উপপরিচালক মো: নাজমুল কবিরের কাছে হস্তান্তর করেন। নাজমুল কবির ওই টাকা ড্রয়ারে রাখেন।
এর কিছু সময়ের মধ্যে ঢাকা বিভাগীয় পরিচালক নাসিম আনোয়ারের নেতৃত্বে দুর্নীতি দমন কমিশনের একদল কর্মী হানা দেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর যশোর অফিসে। যশোর কালেক্টরেট চত্বরে অবস্থিত ওই অফিসে দুদকের অভিযান চলাকালে এনডিসি ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমান এবং পুলিশ সদস্যরাও সেখানে হাজির হন।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর বলেন, ‘আমার উপস্থিতিতে দুদক কর্মকর্তারা ওই অফিসে অভিযান চালান। উপপরিচালকের ড্রয়ার থেকে তখন ঘুষের দুই লাখ টাকা উদ্ধার হয়। গ্রেফতার করা হয় উপপরিচালক নাজমুলকে।’
দুদকের ঢাকা বিভাগীয় পরিচালক নাসিম আনোয়ার বলেন, ‘গোপন খবরের ভিত্তিতে অভিযানটি চালানো হয়। অফিসে ঢুকে প্রথমেই উপপরিচালকের ড্রয়ারের চাবি নেয়া হয়। ড্রয়ার খুলে দুই বান্ডিলে দুই লাখসহ আরো কয়েক বান্ডিল টাকা পাওয়া যায়। সোর্সের দেয়া নম্বর মিলিয়ে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, দুই বান্ডিলের দুই লাখ টাকা মদ ব্যবসায়ী মহব্বত আলী টুটুলের দেয়া ঘুষ। ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশের উপস্থিতিতে সাথে সাথে উপপরিচালক নাজমুলকে গ্রেফতার করা হয়।’
অভিযানকালে উপস্থিত কোতোয়ালি থানার এসআই শহিদুল ইসলাম এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
উপপরিচালক নাজমুলকে পুলিশ হেফাজতে দেয়া হচ্ছে বলে জানান নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমান।

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.