টাঙ্গাইলে চলন্ত বাসে ধর্ষণ ও হত্যা মামলার স্যা গ্রহণ শুরু ষ মালেক আদনান টাঙ্গাইল

টাঙ্গাইলের মধুপুরে চলন্ত বাসে আইন কলেজের ছাত্রী জাকিয়া সুলতানা রূপাকে গণধর্ষণ ও হত্যা মামলার স্যা গ্রহণ গতকাল বুধবার থেকে শুরু হয়েছে। রাষ্ট্রপ আদালতে এ মামলার বাদিসহ ৯ জন সাক্ষীর হাজিরা দাখিল করে। এ দিন শুধু বাদির সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। আসামিপক্ষের আইনজীবীরা সাক্ষীকে দীর্ঘক্ষণ জেরা করেন। এ সময় মামলার পাঁচ আসামিকেই আদালতে উপস্থিত করা হয়। হাজিরা দেয়া অন্য সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হবে আগামী রোববার ও সোমবার। টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের ভারপ্রাপ্ত বিচারক হিসেবে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক আবুল মনসুর মিয়া এ সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।
টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পিপি অ্যাডভোকেট নাছিমুল আক্তার নাছিম জানান, রাষ্ট্রপক্ষ থেকে বুধবার ৯ জন সাক্ষীর হাজিরা দাখিল করা হয়। সাক্ষীদের মধ্যে শুধু মামলার বাদি মধুপুর থানার এসআই আমিনুল ইসলামের সাক্ষ্য গ্রহণ করা সম্ভব হয়েছে। বেলা ১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত তিন ঘণ্টা এই সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শামীম চৌধুরী দয়াল ও অ্যাডভোকেট দেলোয়ার হোসেন ওই সাক্ষীকে জেরা করেন। সময় স্বল্পতার কারণে বাকি আটজনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। বিচারক আগামী রোববার ও সোমবার দুই দফায় বাকি আটজনের সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য সময় নির্ধারণ করেন। হাজিরা দাখিল করা অন্য সাক্ষীরা হলেনÑ লাল মিয়া, হাসমত আলী, এম এ রৌফ, আবুল হোসেন, প্রবীর কুমার, ইমাম হোসেন, রশিদ মিয়া ও রহিজ উদ্দিন।
এর আগে বেলা ১১টায় বিচারক আবুল মনসুর মিয়া তার এজলাসে ওঠেন। মামলার বাদি মধুপুর থানার এসআই আমিনুল ইসলামও স্যা দেয়ার জন্য সাীর কাঠগড়ায় যান। কিন্তু আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জাহাঙ্গীর আলম নামে এক আসামিকে শিশু উল্লেখ করে তার নামীয় জন্ম সনদের একটি ফটোকপিসহ আদালতে দরখাস্ত দেন। জন্ম সনদ নিয়ে সন্দেহ সৃষ্টি হলে রাষ্ট্রপকে তা যাচাইয়ের জন্য দুই ঘণ্টা সময় দিয়ে আদালত মুলতবি করেন বিচারক। রাষ্ট্রপক্ষ যাচাই শেষে ওই জন্ম সনদটি সঠিক নয় বলে উল্লেখ করেন। পরে আসামি জাহাঙ্গীর আলমকে শিশু ঘোষণা চেয়ে আসামিপক্ষের করা দরখাস্তটি বিচারক নামঞ্জুর করে দেন।
এর আগে গত ১৫ অক্টোবর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা টাঙ্গাইলের বিচারিক হাকিম আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এতে গ্রেফতার হওয়া বাসের পাঁচজনের বিরুদ্ধে রূপাকে ধর্ষণ ও হত্যার বিষয়টি অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়। রূপাকে গণধর্ষণ ও হত্যা মামলায় অভিযোগপত্র দাখিলের পর মামলাটি বিচারের জন্য পরদিন ১৬ অক্টোবর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বদলি করা হয়। গত ২৫ অক্টোবর আদালত এই অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন।
উল্লেখ্য, গত ২৫ আগস্ট বগুড়া থেকে ময়মনসিংহ যাওয়ার পথে রূপাকে চলন্ত বাসে পরিবহন শ্রমিকেরা ধর্ষণ করে এবং বাসেই তাকে হত্যার পর টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলায় পঁচিশ মাইল এলাকায় বনের মধ্যে তার লাশ ফেলে রেখে যায়। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে। ময়নাতদন্ত শেষে বেওয়ারিশ হিসেবে টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় গোরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশ বাদি হয়ে মধুপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করে। নয়া দিগন্ত পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ দেখে তার ভাই হাফিজুর রহমান মধুপুর থানায় গিয়ে ছবির ভিত্তিতে বোনের লাশ শনাক্ত করেন।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.