ঢাকা, বৃহস্পতিবার,১৮ জানুয়ারি ২০১৮

শেষের পাতা

বিচারকদের শৃঙ্খলাবিধির গেজেট গ্রহণ করেছেন আপিল বিভাগ

‘সুপ্রিম কোর্টের প্রাধান্য থাকবে’

নিজস্ব প্রতিবেদক

০৪ জানুয়ারি ২০১৮,বৃহস্পতিবার, ০০:০০


প্রিন্ট

অধস্তন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলা ও আচরণবিধির গেজেট গ্রহণ করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। নানা টানাপড়েনের পর গত ১১ ডিসেম্বর সরকার বিচারকদের চাকরিবিধির ওই গেজেট প্রকাশ করে এবং পরে তা এফিডেভিট আকারে আপিল বিভাগে জমা দেয়া হয়। দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মো: আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞার নেতৃত্বাধীন পাঁচ বিচারপতির আপিল বেঞ্চ গতকাল ওই গেজেট গ্রহণ করে আদেশ দেন।
আদেশে বলা হয়, ‘সুপ্রিম কোর্টের সুপ্রিমেসি রেখে সরকার অধস্তন আদালতের যে শৃঙ্খলা ও আচরণ বিধি প্রকাশ করেছে, তা গ্রহণ করেছেন আপিল বিভাগ।’ তবে এ বিষয়টির নিষ্পত্তি করে দেয়া হলেও যার সূত্র ধরে চাকরিবিধির বিষয়টি আদালতে এসেছিল, সেই মাসদার হোসেন মামলার রায়ের পর্যবেণগুলো চলমান রেখেছেন আপিল বিভাগ।
আপিল বিভাগ গেজেটটি গ্রহণের পর নিজ কার্যালয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সাংবাদিকদের বলেছেন, নি¤œ আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিধির েেত্র যদি রাষ্ট্রপতি বা আইন মন্ত্রণালয় এবং সুপ্রিম কোর্টের সাথে মতের কোনো অমিল হয়, তাহলে সুপ্রিম কোর্টের মতামতই প্রাধান্য পাবে। বিধিমালার গেজেটে এমন উল্লেখ আছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের অধস্তন আদালতের বিচারকদের শৃঙ্খলাবিধির ব্যাপারে এর আগে আমরা সময় নিয়েছিলাম। এ ব্যাপারে আইনটি গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়েছে। সেটি দাখিল করেছি। বুধবার সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ এটিকে গ্রহণ করেছেন। এখন থেকে এটি কার্যকর হবে। এতদিন নি¤œ আদালতের বিচারকদের শৃঙ্খলা বিধি, তাদের চাকরি থেকে অপসারণ বা অন্যান্য বিষয়ে যে বিধানাবলী থাকার কথা ছিল সেগুলো ছিল না। আদালত সন্তুষ্ট হয়ে এটিকে গ্রহণ করেছেন।
অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, আদালত স্পষ্টভাবে দেখেছেন যে, নি¤œ আদালতের বিচারকদের ব্যাপারে অনুসন্ধান, তদন্ত, শাস্তি প্রদান, আপিল এবং প্রতিটি েেত্র সুপ্রিম কোর্টের সাথে পরামর্শ করার বিধান রাখা হয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা যদি রাষ্ট্রপতি বা আইন মন্ত্রণালয় এবং সুপ্রিম কোর্টের সাথে মতে কোনো অমিল হয় চাকরি বা অপসারণের েেত্র, তাহলে সুপ্রিম কোর্টের মতামতই প্রাধান্য পাবে বলে উল্লেখ করা আছে।
মাসদার হোসেন মামলায় ১৯৯৯ সালের ২ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ সরকারের নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগকে আলাদা করতে ঐতিহাসিক এক রায় দেন।
ওই রায়ে আপিল বিভাগ বিসিএস (বিচার) ক্যাডারকে সংবিধান পরিপন্থী ও বাতিল ঘোষণা করে। একই সাথে জুডিশিয়াল সার্ভিসকে স্বতন্ত্র সার্ভিস ঘোষণা করা হয়। বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে আলাদা করার জন্য সরকারকে ১২ দফা নির্দেশনা দেয় সর্বোচ্চ আদালত। মাসদার হোসেন মামলার রায়ের পর ২০০৭ সালের ১ নভেম্বর নির্বাহী বিভাগ থেকে আলাদা হয়ে বিচার বিভাগের কার্যক্রম শুরু হয়। আইন মন্ত্রণালয় পরে নি¤œ আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিধিমালার একটি খসড়া প্রস্তুত করে সুপ্রিম কোর্টে পাঠায়। সরকারের খসড়াটি ১৯৮৫ সালের সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালার অনুরূপ হওয়ায় তা মাসদার হোসেন মামলার রায়ের পরিপন্থী বলে ২০১৬ সালের ২৮ আগস্ট শুনানিতে জানায় আপিল বিভাগ।
এরপর ওই খসড়া সংশোধন করে সুপ্রিম কোর্ট আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। সেই সাথে তা চূড়ান্ত করে প্রতিবেদন আকারে আদালতে উপস্থাপন করতে বলা হয় আইন মন্ত্রণালয়কে।
আইন ও বিচার বিভাগ থেকে এর আগে শৃঙ্খলা বিধিমালার যে খসড়া সুপ্রিম কোর্টে জমা দেয়া হয়েছিল, গত বছর ৩০ জুলাই তা গ্রহণ না করে কয়েকটি শব্দ ও বিধি নিয়ে ােভ প্রকাশ করেছিলেন তখনকার প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। শৃঙ্খলাবিধির সেই খসড়া নিয়ে টানাপড়েনের মধ্যে ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় নিয়ে মতাসীনদের সমালোচনার মুখে বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা ছুটি নিয়ে গত ১৩ অক্টোবর দেশ ছাড়ার পর ছুটি শেষে ১০ নভেম্বর পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন বলে জানানো হয়। এরপর ১৬ নভেম্বর দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মো: আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞার সাথে বৈঠক করে আইনমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ওই খসড়া নিয়ে মতপার্থক্য দূর হয়েছে।

 

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
সকল সংবাদ

 

অন্যান্য সংবাদ

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫