ঢাকা, সোমবার,২২ জানুয়ারি ২০১৮

প্রথম পাতা

খালেদা জিয়ার পক্ষে ষষ্ঠ দিনের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন

‘জাল দলিল তৈরি করে জিয়া অরফানেজ মামলা করা হয়েছে’

হাবিবুর রহমান

০৪ জানুয়ারি ২০১৮,বৃহস্পতিবার, ০০:০০


প্রিন্ট

বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় ষষ্ঠ দিনের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়েছে। যুক্তি উপস্থাপনকালে খালেদা জিয়ার আইনজীবী ও সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এ জে মোহাম্মদ আলী আদালতে বলেন, জাল ডকুমেন্ট (দলিল) তৈরি করে এ মামলা সাজানো হয়েছে। ডকুমেন্ট ঘষামাজা করে তৈরি করা হয়েছে। তিনি বলেন, জাল দলিল তৈরি করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হারুন-অর-রশিদ। এই জাল নথির সপে আদালতে মিথ্যা স্যা দিয়েছেন হারুন-অর-রশিদসহ পাঁচজন সাী। এ জে মোহাম্মদ আলী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর অফিস কোনো খেলার জায়গা নয়। সেখানে দায়িত্বপ্রাপ্তরা নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করে থাকেন। মিথ্যা বানোয়াট ও কাল্পনিক তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এ মামলা সাজানো হয়েছে। তিনি মামলার এজাহারের তারিখ, অনুসন্ধানের তারিখ ও অভিযোগপত্র দেয়ার সময় উল্লেখ করে বলেন, আইনের বিধান অনুযায়ী ৪৫ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত কাজ শেষ করার কথা। অথচ ৩৯৫ কার্যদিবস সময় নেয়া হয়েছে, এই সময়ের মধ্যে জাল দলিল তৈরি করা হয়েছে।
গতকালের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, পুরো মামলাটি কাল্পনিক। ঘষামাজা করে মিথ্যা ডকুমেন্ট বানিয়ে এ মামলা তৈরি করা হয়েছে। তিনি বলেন, মামলাটি যে ভুয়া আমরা আদালতে তা উপস্থাপন করেছি। যারা মিথ্যা তথ্য দিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য আবেদন করব। তিনি বলেন, আদালতে আজ পর্যন্ত মূল নথি পাওয়া যায়নি। শুধু ফটোকপি ঘষামাজা করে প্রসিকিউশন এই মামলাটি দায়ের করেছে। ১৯৯৩ সালের ঘটনা জালিয়াতি করে ২০০৮ সালে মামলাটি সৃজন করা হয়। তিনি আরো বলেন, প্রত্যেকটা পাতা আজ আদালতে একটা একটা করে উপস্থাপন করা হয়েছে। এই কাগজের ওপর নির্ভর করে কোনো মামলা হতে পারে না। বরং যারা এটা সৃজন করেছেন, যারা জালিয়াতি করেছেন তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা প্রয়োজনÑ যা আদালতে দাবি করা হয়েছে। তারা মিথ্যা তথ্য ও ভুয়া সাী আদালতে উপস্থাপন করেছে, আমরা এটা প্রমাণ করতে পেরেছি।
গতকাল পুরান ঢাকার বকশিবাজারে স্থাপিত ঢাকার পাঁচ নম্বর বিশেষ জজ আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এ জে মোহাম্মদ আলী যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। এ দিনের যুক্তি উপস্থাপন শেষে আজ বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মুলতবি করা হয়েছে। এর আগে খালেদা জিয়ার পক্ষে প্রবীণ আইনবিদ খন্দকার মাহবুব হোসেন ও আবদুর রেজাক খান মামলার অভিযোগ ও আইনি বিষয়ে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেছেন।
যুক্তি উপস্থাপনকালে সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আলী আদালতে বলেন, আইনের বিধান অনুযায়ী যেভাবে অতিরিক্ত নথি তৈরির কথা তা করা হয়নি। নথির গতিবিধি সংক্রান্ত বিধানও অনুসরণ করা হয়নি। এই মামলার গুরুত্বপূর্ণ সাী সাবেক মুখ্যসচিব কামালউদ্দিন সিদ্দিকীর ব্যক্তিগত সচিব সৈয়দ জগলুল পাশার এতিম তহবিল সংক্রান্ত নথি দেখার কোনো এখতিয়ারই ছিল না।
অন্য দিকে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল সাংবাদিকদের বলেন, ৩২ জন সাীর মাধ্যমে আমরা মামলা প্রমাণ করতে পেরেছি। এখন আসামি পরে আইনজীবীরা বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করছেন। আগে তারা বলতো মামলার নথি ছিল না। এখন বলছে নথি ঘষামাজা করা হয়েছে। তাদের যুক্তিতর্ক শেষ হলে আমরা এর জবাব দেবো।
আদালতে হাজিরা দিতে গতকাল বেলা ১১টা ৩৮ মিনিটে আদালতে পৌঁছান খালেদা জিয়া। তিনি পৌঁছানোর পর তার পক্ষে আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী মামলার যুক্তি উপস্থাপন শুরু করেন। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের বিরতির সময় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাথে কথা বলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। তিনি খালেদা জিয়াকে বলেন, কিভাবে ডকুমেন্টগুলো তৈরি করা হয়েছে ঘষামাজা দিয়ে তা উপস্থাপন করা হচ্ছে। চেয়ারপারসনকে মওদুদ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর অফিস থেকে কোনো কাভার লেটার ছাড়া এতগুলো টাকা চলে গেল, এর কোনো প্রমাণ নেই। নথির কথা বলা হচ্ছে, এটাও ঘষামাজা। এই ডকুমেন্টের জন্যই মামলা থাকে না।
বিরতির সময় খালেদা জিয়া এক কাপ চা খেয়েছেন। এই চা চেয়ারপারসনের বাসা থেকে ফাক্সে করে আনা। খালেদা জিয়ার সহকারী তার হাতে চা তুলে দেন।
আদালতে খালেদা জিয়ার পে আইনজীবী ছিলেনÑ প্রবীণ আইনবিদ জমির উদ্দিন সরকার, খন্দকার মাহবুব হোসেন, এ জে মেহাম্মদ আলী, আবদুর রেজ্জাক খান, মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দীন, জয়নুল আবেদীন, মাহবুব উদ্দিন খোকন, সানাউল্লাহ মিয়া, কায়সার কামাল, মাসুদ আহমেদ তালুকদার, জাকির হোসেন ভূঁইয়া, রাগীব রউফ চৌধুরী প্রমুখ।
শুনানিকালে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, নজরুল ইসলাম খান, আবদুল আউয়াল মিন্টু প্রমুখ আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

 

 

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
সকল সংবাদ

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫