মন্ত্রিসভায় রদবদল

নতুন ৪ জনের দফতর বণ্টন

বিশেষ সংবাদদাতা

মন্ত্রিসভায় নতুন সদস্যদের মধ্যে দফতর বণ্টনের পাশাপাশি বেশ কয়েকজনের দফতরও পরিবর্তন করা হয়েছে। সরকারের মেয়াদের শেষ বছরে এসে মন্ত্রিসভার এই রদবদলে পুরনো যে তিন মন্ত্রীর দফতর বদলেছে, তাদের সবাই মহাজোটের সরকারের শরিক দলের নেতা। এদের মধ্যে মহাজোটের শরিক জেপির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জুকে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় থেকে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। আর পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন মহাজোটের আরেক শরিক জাতীয় পার্টি প্রেসিডিয়াম সদস্য ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। মহাজোটের আরেক শরিক ও ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননকে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে সমাজকল্যাণমন্ত্রী করা হয়েছে। পূর্ণমন্ত্রীর কাজ করে যাওয়া সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ এখন থেকে শুধু প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করে যাবেন।
মন্ত্রিসভায় নতুনভাবে স্থান পাওয়া আইটি বিশেষজ্ঞ মোস্তাফা জব্বারকে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও আইসিটি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী করা হয়েছে। আর বিমানমন্ত্রী করা হয়েছে এ কে এম শাহজাহান কামালকে। প্রতিমন্ত্রী থেকে মন্ত্রী হওয়া নারায়ণ চন্দ্র চন্দকে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী করা হয়েছে। আর ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিমকে তথ্য প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছে। এ ছাড়া নতুনভাবে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে যুক্ত হওয়া কাজী কেরামত আলীকে শিা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা বিভাগের প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছে।
২০১৪ সালের ১২ জানুয়ারি এ সরকারের মন্ত্রিসভা গঠনের সময় জেপি চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জুকে পরিবেশ ও বন এবং জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য আনিসুল ইসলাম মাহমুদকে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। এবার তাদের দুজনের দায়িত্ব পাল্টে দেয়া হয়েছে। অর্থাৎ আনিসুল ইসলাম মাহমুদ পরিবেশ এবং মঞ্জু পানিসম্পদের দায়িত্বে এসেছেন।
মন্ত্রী হিসেবে নতুন শপথ নেয়া মোস্তাফা জব্বার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন, যা অনেকটা অনুমিতই ছিল। হজ নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্যের কারণে ২০১৪ সালের অক্টোবরে আবদুল লতিফ সিদ্দিকী মন্ত্রিত্ব হারানোর পর খালিই ছিল এ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী পদটি। আর মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মুহাম্মদ ছায়েদুল হক মারা যাওয়ায় প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করে আসা নারায়ণ চন্দ্র চন্দ পদোন্নতি পেয়ে মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ মন্ত্রী হয়েছেন। গত মাসের মাঝামাঝি সময়ে এ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী পদটি শূন্য হয়।
এর আগে সরকারের দেড় বছরের মাথায় ২০১৫ সালের ১৪ জুলাই ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছিলেন তারানা হালিম। তাকে এবার পাঠানো হয়েছে তথ্য মন্ত্রণালয়ে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রী সৈয়দ মহসিন আলী এবং প্রতিমন্ত্রী প্রমোদ মানকিন মারা গেলে ২০১৬ সালের ১৯ জুন প্রতিমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদকে সমাজকল্যাণে পাঠানো হয়। এবার তিনি মন্ত্রী হিসেবে পেলেন রাশেদ খান মেননকে।
মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর গতকাল সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম দফতর বণ্টন এবং বুধবার রদবদলের তথ্য সাংবাদিকদের জানান।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.