ইরানে সরকারের সমর্থনে কোমে লাখো মানুষের র‌্যালি :এএফপি
ইরানে সরকারের সমর্থনে কোমে লাখো মানুষের র‌্যালি :এএফপি

ইরানে সরকারের সমর্থনে লাখো মানুষের সমাবেশ

বিরোধীদের বিক্ষোভ ঝিমিয়ে পড়েছে
এএফপি

ইরানের মতাসীন সরকারের সমর্থনে এবার দেশজুড়ে সমাবেশ করেছে লাখ লাখ মানুষ। দেশটিতে চলমান রক্তক্ষয়ী সহিংসতা সপ্তম দিনে ঝিমিয়ে পড়ার পর গতকাল বুধবার বিভিন্ন শহরে সরকারের সমর্থকেরা রাস্তায় নেমে আসেন। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের ফুটেজে দেখা যায়, লাখ লাখ মানুষ বেশ কয়েকটি শহরে র‌্যালিতে অংশগ্রহণ করছেন।
দেশটির আহওয়াজ, কেরমানশাহ, গোরগানসহ সর্বত্রই লাখো মানুষের ঢলে অনেকেই ‘নেতা, আমরা প্রস্তুত’সহ বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দেন। সমাবেশে অংশগ্রহণকারীদের হাতে ইরানি পতাকা ও দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ছবি দেখা যায়। অনেকের হাতে ‘বিদ্রোহীদের মৃত্যু চাই’ লেখা প্ল্যাকার্ডও ছিল।
‘আমাদের শিরা-উপশিরার রক্ত আমাদের নেতাদের জন্য’- স্লোগান ছিল লাখো মানুষের মুখে সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত। অর্থনৈতিক দুরবস্থা ও দুর্নীতিতে অতিষ্ঠ ইরানিরা বৃহস্পতিবার দেশটির মাশহাদ শহরে শান্তিপূর্ণ বিােভ শুরু করলেও শেষ পর্যন্ত তা সহিংস হয়ে উঠেছে। এতে এখন পর্যন্ত অন্তত ২২ জনের প্রাণহানি ঘটে।
সরকারবিরোধী চলমান অস্থিরতার জেরে ইরানের ওপর প্রতিনিয়ত চাপ প্রয়োগের চেষ্টা করছে ওয়াশিংটন। ইরান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে জাতিসঙ্ঘে জরুরি বৈঠকের আহ্বান জানিয়েছেন সংস্থাটিতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালি। এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, ‘ইরানের জনগণ স্বাধীনতার জন্য চিৎকার করছে। তাদের দাবির প্রতি মুক্তিকামী সব মানুষের অবশ্যই দাঁড়ানো উচিত।’
গত ২৮ ডিসেম্বর অর্থনৈতিক দুরবস্থার বিরুদ্ধে শুরু হওয়া বিােভ দ্রুতই রাজনৈতিক সঙ্কটে রূপ নেয় ইরানে। দেশটির নেতারা বলছেন, শাসনব্যবস্থার ভিত নাড়িয়ে দিতেই অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চক্রান্তের অংশ এটি।
আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি বলেছেন, ‘শত্রুরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছে এবং ইসলামি শাসনব্যবস্থায় সমস্যা সৃষ্টি করতে নিরাপত্তাবাহিনী, অর্থ, অস্ত্রসহ সব ধরনের উপায় অবলম্বন করছে। শত্রুরা সব সময় সুযোগের সন্ধান করছে এবং ইরানিদের মধ্যে ফাটল ধরানোর চেষ্টা করছে।’
ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর নিন্দা তুরস্কের
এ দিকে ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন, তার নিন্দা জানিয়েছে তুরস্ক। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মওলুদ কাভুসোগলু এটিকে ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে উল্লেখ করেছেন এবং এ বিষয়ে বাইরের হস্তক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয় বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ থেকে দূরে থাকা উচিত। বরং ইরানকে তাদের নিজেদের বিষয় শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান করতে দেয়া প্রয়োজন। মঙ্গলবার আংকারায় সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ প্রসঙ্গে তিনি ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফের সাথে তার বৈঠকের কথা উল্লেখ করেন এবং জানান যে, তার সাথে অনেক ইস্যুতে আলাপ করেছেন। যেমন ইরানের চলমান অস্থিরতা, সিরিয়ায় পিকেকে ও পিওয়াইডির তৎপরতা, জেরুসালেম ইস্যুতে ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত ইত্যাদি। ইরানের অস্থিরতার প্রতি ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু প্রকাশ্যে সমর্থন জানানোর পর তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ বক্তব্য দিলেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, তুরস্কের সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত। সরকার পরিবর্তন চাইলে তা নির্বাচনের মাধ্যমেই হতে হবে। জাতিসঙ্ঘের জরুরি বৈঠকের জন্য ট্রাম্পের আহ্বান সম্পর্কে তিনি বলেন, এটা নিছক ট্রাম্পের ইরানবিরোধী নীতির কারণে। আর এতে কোনো ফল হবে না বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তুরস্কের মতোই প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে রাশিয়া ও সিরিয়া। দেশ তিনটি আশা করছে, ইরানে আর কোনো সহিংসতার ঘটনা ঘটবে না। সোমবার রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘এটা হচ্ছে সম্পূর্ণভাবে ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়। বাইরের হস্তেেপর মাধ্যমে পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করে তোলার ঘটনা গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা আশা করি, পরিস্থিতি রক্তপাত ও সহিংসতার দিকে যাবে না।’ বুধবার তুরস্ক বলেছে, ইরানের ভেতরে যেসব সহিংসতার খবর পাওয়া যাচ্ছে তা উদ্বেগজনক। সব রকমের সহিংসতা পরিহার করার আহ্বান জানিয়েছে তুর্কি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। পাশাপাশি বিদেশী হস্তপে বন্ধেরও আশা করেছে দেশটি। অন্য দিকে, ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তেেপর জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের তীব্র নিন্দা করেছে সিরিয়া। দেশটি ইরানের জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে। সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আশা করেছে, ইরানের নেতৃত্ব, সরকার ও জনগণ সব ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে উন্নয়নের পথে এগিয়ে যেতে সম হবে।
জরুরি বৈঠক ডাকার দাবি যুক্তরাষ্ট্রের
ইরানের বিােভকে ‘স্বতঃস্ফূর্ত’ উল্লেখ করে এ নিয়ে জাতিসঙ্ঘে জরুরি বৈঠক আহ্বানের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন জাতিসঙ্ঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালি। তিনি ইরানি অভিযোগকে ‘হাস্যকর’ উল্লেখ করে বলেন, ‘ইরানের জনগণ তাদের স্বাধীনতার জন্য লড়াই করছে। স্বাধীনতাপ্রেমী সব মানুষের উচিত ওই আন্দোলনে শরিক হওয়া’। তিনি বলেন, ‘ইরানের আন্দোলনের বিষয়ে আমরা চুপ থাকতে পারি না। ইরানে স্বাধীনতার ওপর হামলা হয়েছে। বেশ কয়েকজনকে ইতোমধ্যে হত্যা করা হয়েছে। শত শত মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে।’

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.