কিমকে ট্রাম্পের হুমকি আমার পারমাণবিক বোতাম অনেক বড়

এএফপি ও বিবিসি

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কিম জং উনকে হুঁশিয়ার করে বলেছেন, উত্তর কোরিয়ার নেতার চেয়ে ‘অনেক বড় ও আরো শক্তিশালী’ পারমাণবিক বোতাম যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে। তিনি এক টুইটার বার্তায় বলেন, ‘উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন কেবল বলেছেন যে ‘পারমাণবিক বোতাম সব সময়ই তার টেবিলে রাখা আছে। অনুগ্রহ করে তার দারিদ্র্যপীড়িত সরকারের কেউ তাকে জানাক যে আমারও একটি পারমাণবিক বোতাম রয়েছে যা তার চেয়ে অনেক বড় এবং আরো শক্তিশালী। আর আমার বোতামটি সক্রিয়।’
এর আগে উত্তর কোরিয়ার নেতা নববর্ষ উপলক্ষে দেয়া ভাষণে হুঁশিয়ার করে বলেছিলেন, তার টেবিলেই ‘পারমাণবিক বোতাম’ রয়েছে। তার এমন হুঁশিয়ারির পর ট্রাম্প এ বার্তা দিলেন। তবে নববর্ষের ভাষণে উন আগামী মাসে অনুষ্ঠেয় পিয়ংচং গেমসে অংশ নেয়ার এবং সংলাপে বসার ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেন যা ছিল ইতিবাচক।
দক্ষিণ কোরিয়া মঙ্গলবার উত্তর কোরীয় নেতার এমন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ইতিবাচক সাড়া দিয়ে আগামী ৯ জানুয়ারি পিয়ংইয়ংয়ের সাথে উচ্চপর্যায়ে আলোচনায় বসার প্রস্তাব দিয়েছে।
তবে জাতিসঙ্ঘে নিযুক্ত মার্কিন দূত নিকি হ্যালি দুই কোরিয়ার মধ্যে সংলাপের প্রস্তাব নাকচ করে একে সাময়িক সমাধান হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি হুঁশিয়ার করে বলেন, ওয়াশিংটন পিয়ংইয়ংয়ের পারমাণবিক অস্ত্র কখনো মেনে নেবে না।
উত্তর কোরীয় ইস্যুতে মার্কিন প্রেসিডেন্টের করা এ সর্বশেষ টুইটকে কিমের সাথে তার দীর্ঘ দিনের কথার লড়াই হিসেবেই দেখছেন পর্যবেকেরা। পিয়ংইয়ং একের পর এক পারমাণবিক ও পেণাস্ত্র পরীার মধ্যে এর আগেও দুই নেতা একে অন্যের বিরুদ্ধে বাক্যবাণ ছুড়েছেন, দিয়েছেন হুমকি।
বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী পারমাণবিক অস্ত্রধর দেশ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের আছে পারমাণবিক হামলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেয়ার তাৎণিক এখতিয়ার; কিমকে দেয়া জবাবে ট্রাম্প সেদিকেই ইঙ্গিত করতে চেয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে।
গত কয়েক বছর ধরে পেণাস্ত্র সমতা বাড়াতে কাজ করছে উত্তর কোরিয়া। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আন্তর্জাতিক চাপ ও নিষেধাজ্ঞা উপো করেই একের পর এক দূরপাল্লার আন্তঃমহাদেশীয় পেণাস্ত্রের পরীা চালিয়েছে তারা। সেসব পেণাস্ত্রের আওতায় এখন যুক্তরাষ্ট্রের পুরো ভূখণ্ড আছে বলেও দাবি পিয়ংইয়ংয়ের। পর্যবেকেরা অবশ্য এখনো উত্তর কোরিয়ার পেণাস্ত্র সমতা নিয়ে সন্দিহান; হাজার মাইলের দূরত্ব অতিক্রম করতে সম হলেও পিয়ংইয়ংয়ের পেণাস্ত্রগুলো ল্েয ঠিকঠাক আঘাত হানতে পারবে কিনা, কিংবা হানলেও তা কতটুকু তি করার সামর্থ্য রাখে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন তারা।
ট্রাম্প এবং কিম একে অন্যকে বিভিন্ন নামে সম্বোধন করে কথার লড়াইকে জমিয়ে তুলেছেন। গত বছরের মাঝামাঝি কিম মার্কিন প্রেসিডেন্টকে ‘ভীমরতিগ্রস্ত বুড়ো’ বলেছিলেন; প্রত্যুত্তরে ট্রাম্প উত্তর কোরিয়ার নেতাকে দিয়েছিলেন ‘লিটল রকেটম্যান’ খেতাব।
কিমের উদ্দেশ্যে লেখা ট্রাম্পের নতুন টুইট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার ঝড় তুলেছে। অনেকেই বলছেন, পারমাণবিক হামলা নিয়ে দুই নেতার অবস্থান তাদের শঙ্কিত করছে। কেউ কেউ আবার নির্বাচনী প্রচারের সময় ‘হাতের আকার’ নিয়ে রিপাবলিকান নেতা মার্কো রুবিওর সাথে ট্রাম্পের বাদানুবাদের কথাও স্মরণ করেছেন। শুরুর দিকে ট্রাম্পের মতো রুবিও-ও ছিলেন রিপাবলিকান পার্টির প্রেসিডেন্ট মনোনয়ন প্রার্থী; সে লড়াইয়ে বিজয়ী হয়ে পরে নির্বাচনে জিতে ওভাল অফিসের চাবিও বাগিয়ে নেন রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী ট্রাম্প।
নির্বাচনী প্রচারের সময় রুবিও ট্রাম্পের ‘হাত ছোট’ বলে মন্তব্য করেছিলেন। তার প্রত্যুত্তরে ট্রাম্প বলেন, ‘সে আমার হাতকে ইঙ্গিত করে বুঝিয়েছে, যদি সেগুলো ছোট হয়, তাহলে অন্য কিছুও ছোট। আমি আপনাদের নিশ্চয়তা দিচ্ছি, সে রকম কোনো সমস্যা নেই।’ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী অনেকেই বলছেন, ট্রাম্পের ডেস্কে একটি বোতাম ছাড়া অন্য কোনো বোতাম কখনোই চোখে পড়েনি; ওই বোতাম দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বেয়ারারকে ডায়েট কোক আনতে সঙ্কেত দেন, পারমাণবিক হামলার নয়।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.