ঢাকা, বুধবার,১৭ জানুয়ারি ২০১৮

অন্যদিগন্ত

সাহায্য বন্ধে ট্রাম্পের হুমকির জবাবে আব্বাস জেরুসালেম বিক্রির পণ্য নয়

এএফপি

০৪ জানুয়ারি ২০১৮,বৃহস্পতিবার, ০০:০০


প্রিন্ট

ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস ট্রাম্পের সাহায্যদান বন্ধ করার হুমকির জবাবে গতকাল বলেছেন, জেরুসালেম ‘বিক্রির পণ্য নয়’। ফিলিস্তিনিদের আলোচনার টেবিলে ফিরে আসতে বাধ্য করতে এই হুমকি দিয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে। আব্বাসের মুখপাত্র নাবিল আবু রুদেইনা জেরুসালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতিদানের ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের উল্লেখ করে বলেন, সোনাদানা কিংবা কোটি কোটি ডলারের বিনিময়ে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের চিরন্তন রাজধানী জেরুসালেম বিক্রয়যোগ্য নয়।’
গত ৬ ডিসেম্বর ট্রাম্পের ঘোষণা সম্প্রতি সপ্তাহগুলোতে বিশ্বব্যাপী প্রতিবাদ-বিক্ষোভ হওয়ার পর আব্বাস বলেন, যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্য শান্তি প্রক্রিয়ার আর কোনো ভূমিকা পালন করতে পারবে না।
শান্তিচুক্তির আলোচনায় ‘অনিচ্ছুক’ ফিলিস্তিনিদের সাহায্য বন্ধের হুমকি দিয়ে মঙ্গলবার এক টুইট বার্তায় বলেন, ‘আমরা ফিলিস্তিনকে প্রতি বছর শত শত ডলার সাহায্য দিয়ে থাকি, কিন্তু তার বিনিময়ে কোনো প্রকার কৃতজ্ঞতা বা সম্মান পাই না।’ তিনি আরো বলেন, ফিলিস্তিনিরা যেহেতু শান্তি আলোচনায় আগ্রহী নয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র কেন ফিলিস্তিনকে বিশাল পরিমাণ অর্থসহায়তা দেবে? যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে বছরে ফিলিস্তিনকে ৩০ কোটি ডলার আর্থিক সহায়তা দিয়ে থাকে। তবে ট্রাম্প ২০১৬ সালে ফিলিস্তিনিদের জন্য বরাদ্দকৃত ৩১ কোটি ৯০ লাখ ডলারের পুরোটাই বন্ধ করে দেবেন কি না তা পরিষ্কার নয়।
যুক্তরাষ্ট্র প্রতি বছর ফিলিস্তিনকে বাজেট ও নিরাপত্তা সহযোগিতা খাতে বিপুল পরিমাণ আর্থিক সহায়তা দিয়ে থাকে। সেই সাথে পশ্চিম তীর ও গাজায় জাতিসঙ্ঘ কর্মসূচির জন্য বছরে আরো ৩৪ কোটি ডলার প্রদান করে যুক্তরাষ্ট্র।
অনেকেই ট্রাম্পের এই বক্তব্যকে রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবে দেখছেন। জেরুসালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ায় সবচেয়ে বিভাজিত ইস্যু ‘সরিয়ে রেখেই’ নতুন শান্তি আলোচনা শুরু করা সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন ট্রাম্প। কয়েক দশকের মার্কিন নীতি পাল্টে ডিসেম্বরে এক বিতর্কিত ঘোষণায় জেরুসালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেন ট্রাম্প। তেল আবিব থেকে দূতাবাস জেরুসালেমে সরিয়ে নেয়ারও ঘোষণা দেন তিনি। এ ঘোষণার পরপরই অঞ্চলজুড়ে নতুন করে সহিংসতা শুরু হয়। যুক্তরাষ্ট্রের এ অবস্থানে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায়
ফিলিস্তিন। শান্তি প্রক্রিয়ায় মার্কিনিদের আর ‘নিরপে মধ্যস্থতাকারী’ হিসেবে বিবেচনা করা হবে না বলেও জানায় তারা।
নির্বাচনী প্রচারে দেয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে গিয়ে জাতিসঙ্ঘেও যুক্তরাষ্ট্রকে প্রায় ‘একঘরে’ করে ফেলেন ট্রাম্প। নিরাপত্তা পরিষদে যুক্তরাষ্ট্র বাদে সবাই ট্রাম্পের নতুন স্বীকৃতির বিরোধিতা করে। সাহায্য বন্ধের হুমকির মধ্যেই সাধারণ পরিষদে মধ্যপ্রাচ্য এবং ইউরোপের ঘনিষ্ঠ মিত্রসহ ১২৮টি দেশ যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের বিপে ভোট দেয়। এরপরই জাতিসঙ্ঘের বিভিন্ন সংস্থায় মার্কিন সাহায্য কমানোর ঘোষণা আসে।
নতুন বছরের শুরুতে পাকিস্তানে সাহায্য বন্ধের ঘোষণা দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প; কোটি কোটি ডলার সাহায্যের বিনিময়ে দেশটির কাছ থেকে ‘মিথ্যা ও প্রতারণা’ ছাড়া আর কিছুই মেলেনি বলে মন্তব্য করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ওই টুইটের ধারাবাহিকতায় ফিলিস্তিনকেও সাহায্য বন্ধের হুমকি দেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, ‘কেবল পাকিস্তানই নয়, যাদেরকে কোনো কারণ ছাড়াই কোটি কোটি ডলার দিয়েছি আমরা। উদাহরণ হিসেবে বলতে পারি, ফিলিস্তিনিদের আমরা প্রতি বছর কয়েক শ’ কোটি ডলার দিয়েও কোনো কৃতজ্ঞতা বা সম্মান পাচ্ছি না। তারা ইসরাইলের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা শান্তি আলোচনায়ও আগ্রহ দেখাচ্ছে না।’

 

 

 

অন্যান্য সংবাদ

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫