সাড়ে ২০ হাজার কোটি টাকায় ঢাকায় বিদ্যুৎ বিতরণ সম্প্রসারণ

আগামী দুই দশকে ঢাকার ৩০ সাবস্টেশন নেয়া হবে ভূগর্ভে

হামিদ সরকার

বিদ্যুতের ব্যয়বহুল আন্ডারগ্রাউন্ড সাবস্টেশন নির্মাণ করা হচ্ছে রাজধানী ঢাকাতে। ভূগর্ভের টাইপ উপকেন্দ্র নির্মাণে প্রায় পাঁচ গুণ ব্যয় বেশি হবে বলে পরিকল্পনা কমিশন উল্লেখ করেছে। ২০৪০ সালের মধ্যে ঢাকার ৩০টি সাবস্টেশন ভূগর্ভে নেয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে ঢাকা বিদ্যুৎ বিতরণ কর্তৃপক্ষ (ডিপিডিসি)। এ দিকে ২০ হাজার ৫০১ কোটি ৫১ লাখ টাকা ব্যয়ে ডিপিডিসি এলাকায় বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা সম্প্রসারণ ও শক্তিশালী করা হচ্ছে। এ প্রকল্পে সিডি, ভ্যাট ও আয়করের পেছনে পাঁচ হাজার ৪৩৫ কোটি টাকা যাবে বলে বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।
প্রকল্প প্রস্তাবনা থেকে জানা গেছে, চীন সরকারের কনসেশনাল ঋণে ডিপিডিসি এলাকায় বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা সম্প্রসারণ ও শক্তিশালী করার প্রকল্প এক বছর পর আবার প্রস্তাব করা হচ্ছে। প্রকল্প ব্যয়ের ১৩ হাজার ৮৪৪ কোটি ২৮ লাখ ৫১ হাজার টাকা, যা জিটুজি ভিত্তিতে চায়না এক্সিম ব্যাংক দেবে। ২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকে আগামী ২০২১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত মেয়াদে এটি বাস্তবায়ন করার কথা। এখানে বিভিন্ন কাজের মধ্যে হাতিরঝিল এলাকার ওভারহেড সঞ্চালন লাইনগুলোকে ভূগর্ভের লাইনে রূপান্তর করা হবে। বিদ্যমান উপকেন্দ্রগুলোর অটোমেশন, আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ কমপ্লেক্স ও টেস্টিং ল্যাব নির্মাণ এবং উন্মুক্ত হ্যাঙ্গারসংবলিত অত্যাধুনিক মেকানাইজড ওয়্যার হাউজ নির্মাণ করা হবে। ৪০টি বিভিন্ন ক্ষমতার উপকেন্দ্র নির্মাণ করা হবে। ভূগর্ভের নতুন ক্যাবল লাইন হবে এক হাজার ৩৫০ কিলোমিটার। নতুন বিতরণ লাইন হবে ৬৮৭ কিলোমিটার, যার মধ্যে ১০৫ কিলোমিটার হবে শুধু ধানমন্ডি এলাকায়। প্রকল্পের জন্য ২০১৫ সালে বিআরটিসি ও বুয়েট সম্ভাব্যতা যাচাই করে।
ডিপিডিসি ও পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় ২০ হাজার ৫০১ কোটি ৫২ লাখ টাকা ব্যয়ে ডিপিডিসির আওতাধীন এলাকায় বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা সম্প্রসারণ ও শক্তিশালীকরণ প্রকল্পটি অনুমোদনের সময় ঢাকায় উপকেন্দ্রগুলো আন্ডারগ্রাউন্ডে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। তাতে বলা হয়, আন্ডারগ্রাউন্ড চ্যানেলগুলো মাল্টিপারপাস হতে হবে, যাতে ক্যাবল অপারেটরদের ক্যাবলগুলো সেই চ্যানেলগুলো ব্যবহার সুবিধা পায়। তবে এসব শর্ত থেকে অব্যাহতি চাচ্ছে বিদ্যুৎ বিভাগ।
বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে, এসব শর্ত পালন করতে হলে নতুনভাবে সম্ভাব্যতা যাচাই করতে হবে। প্রকল্পের কার্যপরিধি পরিবর্তন করতে হবে। আন্ডারগ্রাউন্ড সাবস্টেশন নির্মাণ ব্যয় ভূ-উপরিস্থ সাবস্টেশনের চেয়ে পাঁচ গুণ বেশি হবে। সে জন্য ইপিসি ঠিকাদারের সাথে ডিপিডিসির গত ২০১৬ সালের অক্টোবরে করা বাণিজ্যিক চুক্তির দর সংশোধন করতে হবে। ফলে প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত সময়ে শুরু এবং বাস্তবায়ন অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।
ডিপিডিসির পরিকল্পনা হলো ২০১৮-২৩ সালের মধ্যে একটি, ২০২৩-২৫ সালের মধ্যে সাতটি, ২০২৫-৩০ সালের মধ্যে সাতটি, ২০৩০-৩৫ সালের মধ্যে সাতটি ও ২০৩৫-৪০ সালের মধ্যে আটটিসহ মোট ৩০টি সাবস্টেশন করা হবে আন্ডারগ্রাউন্ডে।
বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে, এক্সিম ব্যাংকের ঋণের শর্তগুলো পরিবর্তন হওয়ায় ঋণ চুক্তি বিলম্বিত হচ্ছে। এ-সংক্রান্ত কার্যক্রম অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে প্রক্রিয়াধীন আছে।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.