ঢাকা, শুক্রবার,১৯ জানুয়ারি ২০১৮

নগর মহানগর

ফিরে দেখা-২০১৭

বছরজুড়েই আলোচনায় ছিল মডেল রাউধা আতিফের মৃত্যুরহস্য

মুহা: আবদুল আউয়াল রাজশাহী ব্যুরো

০৪ জানুয়ারি ২০১৮,বৃহস্পতিবার, ০০:০০


প্রিন্ট

বিদায়ী বছরে রাজশাহীর ইসলামী ব্যাংক মেডিক্যাল কলেজের ছাত্রী, মালদ্বীপের নাগরিক ও আন্তর্জাতিক সাময়িকী ‘ভোগ’র মডেল রাউধা আতিফের মৃত্যুর ঘটনাটি ছিল বহুল আলোচিত। বছরজুড়েই আলোচনায় ছিল তার মৃত্যুরহস্য। যদিও একাধিক সংস্থা তাদের পৃথক তদন্ত প্রতিবেদনে এরই মধ্যে তার মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে উল্লেখ করেছে।
পুলিশ ও সিআইডি তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে রাউধার মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে উল্লেখ করেছে। কিন্তু রাউধার বাবা মোহাম্মদ আতিফ তা মানতে নারাজ। তার দাবি, রাউধাকে হত্যা করা হয়েছে। রাউধা আত্মহত্যা করেছে, না তাকে হত্যা করা হয়েছে তা উদঘাটনে রাউধার বাবার নারাজি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালতের আদেশে নতুন করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গত ২৭ ডিসেম্বর তারা কাজ শুরু করেছে।
ওই দিন পিবিআইর কয়েকজন কর্মকর্তা রাজশাহীর ইসলামী ব্যাংক মেডিক্যাল কলেজে গিয়ে কয়েকজন শিার্থীকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পিবিআইর রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়ের বিশেষ পুলিশ সুপার হুমায়ুন কবির, পিবিআইর জেলা কার্যালয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তৌহিদুল আরিফ প্রমুখ।
এর আগে গত ১৭ অক্টোবর মামলাটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছিল পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। তাতে বলা হয়েছিল, রাউধা আত্মহত্যা করেছেন। সিআইডির এ প্রতিবেদন দাখিলের আগে দ্বিতীয়বারের মতো ময়নাতদন্তের জন্য রাউধার লাশ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়। তবে এ প্রতিবেদনের ওপর রাউধার বাবা মোহাম্মদ আতিফ নারাজি দেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে আদালত মামলাটির নতুন করে তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছেন পিবিআইকে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআইর ইন্সপেক্টর আলমগীর হোসেন এর আগে সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, আদালতের নির্দেশে তারা নতুনভাবে রাউধার মৃত্যুর কারণ তদন্ত করে দেখবেন। নতুন কোনো উপাদান পাওয়া যায় কি না এ জন্য তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
উল্লেখ্য, গত বছরের ২৯ মার্চ রাজশাহীর নওদাপাড়া এলাকায় অবস্থিত ইসলামী ব্যাংক মেডিক্যাল কলেজের ছাত্রীনিবাস থেকে মালদ্বীপের নাগরিক রাউধা আতিফের (২১) লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি ওই কলেজের এমবিবিএস ১৩তম ব্যাচের দ্বিতীয় বর্ষের শিার্থী ছিলেন। বিদেশী কোটায় ভর্তির পর গত বছরের ১৪ জানুয়ারি ছাত্রী হোস্টেলের দোতলার ২০৯ নম্বর কে উঠেছিলেন তিনি। রাউধার জন্ম ১৯৯৬ সালের ১৮ মে। তিনি বাংলাদেশে এসে পড়াশোনার পাশাপাশি মডেলিং করতেন।
রাউধার মৃত্যুর দিনই কলেজ কর্তৃপ শাহমখদুম থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করে। রাউধার লাশ ময়নাতদন্তের পর পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে রাজশাহীতে দাফন করা হয়। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, রাউধা গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। এরপর মালদ্বীপের দুই পুলিশ কর্মকর্তাও রাজশাহীতে এসে ঘটনাতদন্ত করেন।
এ দিকে রাউধার মৃত্যুর ঘটনায় কলেজের প থেকে গঠিত তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, রাউধা আত্মহত্যা করেছেন। তবে রাউধার বাবা মোহাম্মদ আতিফ এসব প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে গত বছরের ১০ এপ্রিল তিনি রাজশাহীর আদালতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় রাউধার সহপাঠী ভারতের কাশ্মিরের মেয়ে সিরাত পারভীন মাহমুদকে (২১) একমাত্র আসামি করা হয়। একই বছরের ১৪ এপ্রিল হত্যা মামলাটি শাহমখদুম থানা থেকে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) হস্তান্তর করা হয়। এরপর কবর থেকে লাশ তুলে দ্বিতীয়বারের মতো ময়নাতদন্ত করা হয়। সে প্রতিবেদনেও বলা হয়েছে, রাউধা আত্মহত্যা করেছেন।
মামলা দায়েরের পর থেকে মোহাম্মদ আতিফ রাজশাহীতেই অবস্থান করছেন। কনকলতা (৩০) নামে রাজশাহীর এক নারীকে তিনি বিয়েও করেন। কনকলতা জেলার পবা উপজেলার নওহাটা পিল্লাপাড়া এলাকার বদিউজ্জামানের মেয়ে।
সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, মৃত রাউধা আতিফকে নিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণের উদ্দেশ্যে অস্ট্রেলীয় টেলিভিশন চ্যানেল ‘নাইন’-এর একটি প্রতিনিধিদল রাজশাহী সফর করেন। রাজশাহীর ইসলামী ব্যাংক মেডিক্যাল কলেজের ছাত্রীনিবাসের যে কে রাউধা থাকতেন, সে করে ভিডিও ধারণ করেন নির্মাতারা। গত বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার এ দলটি ইসলামী ব্যাংক মেডিক্যাল কলেজের বিভিন্ন স্থানের দৃশ্য ধারণ করেন। এ সময় তারা রাউধা আতিফের বাবা মোহাম্মদ আতিফ ও রাউধা মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্ত কর্মকর্তার বক্তব্যও রেকর্ড করেন। রাউধার করে ভেতরে দাঁড়িয়েই ক্যামেরার সামনে মোহাম্মদ আতিফ দাবি করেন, তার মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে।
সূত্রটি আরো জানায়, অস্ট্রেলীয় চ্যানেল নাইনের ‘সিক্সটি মিনিট’ নামের একটি অনুষ্ঠানের জন্য প্রামাণ্যচিত্রটি নির্মাণ করা হচ্ছে। এ অনুষ্ঠানের প্রডিউসার লওরা স্পারস নিজেই রাজশাহী আসেন। তার সাথে ছিলেন সিক্সটি মিনিটের উপস্থাপক পিটার, ক্যামেরাপারসন মাইক কোল, শব্দ প্রকৌশলী মার্ক ও তাদের সহযোগী স্টুয়ার্ট।
ওই দিন রাউধার কে ক্যামেরার পাশে দাঁড়িয়েই প্রডিউসার লওরা স্পারস জানান, রাউধা একজন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন মডেল ছিলেন। কিন্তু তার মৃত্যু নিয়ে অনেক রহস্য। বিনোদন জগতের লোকজন তার মৃত্যুর সর্বশেষ খবর জানতে চান। তাদের জন্যই এই প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ করা হচ্ছে। তারা মনে করেন, রাউধার মৃত্যুর বিষয়টি পরিষ্কার হওয়া দরকার।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫