ঢাকা, মঙ্গলবার,১৬ জানুয়ারি ২০১৮

থেরাপি

নতুন বছরের কিছু চাওয়া-পাওয়া নিয়ে টকশো করা হলে যেমনটা হতে পারে

এস আর শানু খান

০৪ জানুয়ারি ২০১৮,বৃহস্পতিবার, ০০:০০


প্রিন্ট

কণ্ঠশিল্পী

উপস্থাপক : ভালো মন্দ জিজ্ঞেসের পর্ব পরে এক দিন সেরে নেবো। আগে বলুন নতুন বছরে নতুন কী কী গান থাকছে আপনার কণ্ঠে?
শিল্পী : আবার সেই গান গান আর গান। গানের ঘ্যানঘ্যানানি আর ভালো লাগে না। আগে যদি জানতাম এই স্টুডিওতে ডেকেও এই গানের প্যানপ্যানানি শুনাবেন তাহলে ইন্টারভিউ তো দূরের কথা এই চিনি কমের চা খেতেও আসতাম না।
উপস্থাপক : রেগে যাচ্ছেন কেন শিল্পী সাহেব? আপনি তো একজন শিল্পী আপনার কাছে গানের গল্প ছাড়া আর কি গল্প শুনবে দর্শক।
শিল্পী : শোনার কি কিছুই খুঁজে পান না আপনারা? এই যে আমার বয়স প্রায় পঞ্চাশ ছুঁই ছুঁই তবুও বউ কপালে জোটেনি। এই বিষয়টা নিয়ে কি একটু জানতে ইচ্ছা হয় না আপনাদের? নাকি আপনারা চান না যে আমার ঘরে চাঁদের মতো সুন্দর একখান বউ থাকুক?

পরিচালক

উপস্থাপক : আপনি কেমন আছেন শুনে আপনাকে বিরক্ত করব না। কেননা এই মাত্র আমি আপনার চশমার কাচের ভেতর দিয়ে দেখেছি আপনি ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন ফিলিং ‘খুশিতে ঝালাপালা’। যা-ই হোক, আসল প্রসঙ্গে আসি। আচ্ছা ডিরেক্টর সাব, আপনি তো দেশের এক সেই রকম নামকরা গুণী ডিরেক্টর!
(আঠারো পাটি দাঁত বের করে মাথা নেড়ে এমন ভাব নিলেন যা কিনা ভিডিও ছাড়া লিখে বোঝার মতো নয়।)
তা এই তো নতুন বছর শুরু হলো এখন এই নতুন বছরে আপনার ভাবনা মানে কী কী করার ইচ্ছা আছে? একটু দর্শকদের জানাবেন প্লিজ।
ডিরেক্টর : শুটিং তো বহুত করলাম করালাম। নামীদামি সব শিল্পীদের সাথে কাজ করলাম। দ্যাশ-বিদ্যাশ ঘুরলাম। রঙবেরঙের নাটক বানালাম। এবার ভাবছি অন্য কিছু একটা করব। স্পেশাল কিছু!!
উপস্থাপক : স্পেশাল বলতে সেটা কী রকম হতে পারে?
ডিরেক্টর : ওই আলাদা কিছু। কিছু পরিবর্তন আনবো ভাবছি। ওই ধরুন ভাবছি ক্যামেরার আড়ালে থাকা লোকগুলোকে ক্যামেরার সামনে আনব। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যেটা সেটা হলো ভাবছি ক্যামেরা বাদেই এই বছরটা ভরে শুটিং করব।
চ্যানেল মালিক

উপস্থাপক : নতুন বছরে আপনার চ্যানেলের কর্মসূচি বিধিনিষেধের কি নতুনত্ব আনবেন বলে ভাবছেন?
চ্যানেল মালিক : নতুনত্ব এনে আর কী করব। যাদের জন্য আনব তারাই তো দেখে না। দর্শক এখন ইন্ডিয়ার দিকে চেয়ে আছে। বাসি পচা নষ্ট বলে কোনো খোঁটা নেই এখন দর্শকদের কাছে শুধু ইন্ডিয়ান হলেই চলে। তাই ভাবছি আমার চ্যানেলের নামের আগে ডজনখানেক স্টার লাগাব। আর আমার চ্যানেলের নিয়মিত দর্শকদের জন্য পুরস্কারের ব্যবস্থা করব।

দর্শক

উপস্থাপক : আপনাদের কুশল শুনতে গেলে যুগ যুগ কেটে যাবে। তাই তো আর ওদিকে যেতে চাচ্ছি না, ধরে নিলাম আপনারা ভালো আছেন। আচ্ছা একটা কথা পরিচালক বলেন, শিল্পী বলেন, চ্যানেল বলেন আর যা-ই বলেন না কেন উনারা কিন্তু সর্বদিক দিয়ে আপনাদের ওপর নির্ভরশীল। আপনাদের পুঁজি করেই উনাদের বেঁচে থাকা। আপনাদের হ্যাঁ/না উনাদের কাছে অনেক কিছু। তা আপনারা এমন গুণী লোকদের কাছে কী প্রত্যাশা করেন। মানে কী রকম হলে আপনাদের ভালো লাগবে।
দর্শক : ভাই আমাগো আঞ্চলিক ভাষায় একটা কথা আছে,‘দা দিবো না তার আছাড়ি’। মানে একটা লোক পাশের বাড়িতে একটা দা আনতে গেছেন কিছু একটা কাটবেন বলে। তা উনি যখন গিয়ে বাড়িওয়ালার কাছে দা চেয়েছেন, বাড়িওয়ালা পাক্কা জানিয়ে দিয়েছেন আমাদের দা নেই। কিন্তু যে লোকটা দা আনতে গিয়েছেন সে তাকিয়ে দেখে ঘরের বেড়ার ফোকর দিয়ে দা এর আছাড়ি মানে হাতল দেখা যাচ্ছে। তখন লোকটি ফিরে জিজ্ঞেস করছেনÑ ভাই ওই যে দা-এর আছাড়ি দেখা যায়। তখন বাড়িওয়ালা মুখে ঝিমটি দিয়ে বলেছেনÑ ‘দূর মিয়া তোমাকে দা দিবো না বলেই ওটা বলেছি। আছাড়ি দেখে কী লাভ।’

 

 

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫