দৃষ্টিপাত : প্রাতঃভ্রমণে বাধা কেন?

ঢাকার ঐতিহাসিক লালবাগ কেল্লায় প্রতিদিন সকালে হাঁটা ও হালকা ব্যায়াম করা আমার দীর্ঘ দিনের অভ্যাস। আমার মতো অনেকেই স্থূল বা বিভিন্ন দুরারোগ্য (বহুমূত্র, হার্ট, প্রেসার, ওজনাধিক্য) রোগ-ব্যাধিতে ভুগছেন, তারাও এখানে প্রাতঃভ্রমণ করতে আসেন। অনেকে শরীরকে সুস্থ-সতেজ রাখতে প্রাতঃভ্রমণ করে থাকেন। সকালে হাঁটায় অসুস্থ লোকদের যেমন উপকার হয়, তেমনি সুস্থ লোকদের জীবনকে উপভোগ্য করে তোলে। এই হাঁটাচলার মধ্যে যখন বাধা আসে, তখন দুঃখের সীমা থাকে না। সম্প্রতি লালবাগ কেল্লায় প্রাতঃভ্রমণকারীদের সময় খুব সঙ্কুচিত করা হয়েছে। সকাল ৮টার মধ্যেই প্রাতঃভ্রমণকারীদের লালবাগ কেল্লা ত্যাগ করতে বাধ্য করা হচ্ছে। শীতকালে যেখানে সূর্যোদয় হয় সকাল ৭টার দিকে, সেখানে এই অল্প সময়ের মধ্যে সব শ্রেণীর লোকদের (বিশেষ করে অসুস্থ ও রোগীদের) পে কুয়াশাপূর্ণ শৈত্য পরিবেশে প্রাতঃভ্রমণ করা খুবই কষ্টকর, অনেকে আবার সন্তানদের স্কুলে পৌঁছে দিয়ে প্রাতঃভ্রমণ করতে কেল্লায় এসে থাকেন। তখন প্রায়ই কেল্লার প্রবেশপথে কর্তব্যরত কর্মচারীদের সাথে বাগি¦তণ্ডায় লিপ্ত হতে হয়, যা কারো জন্যই সুখকর নয়। অত্যন্ত দুঃখের সাথে বলতে হচ্ছে, যেখানে প্রাতঃভ্রমণকারী রোগীদের রোগ নিরাময়ের জন্য কর্তৃপ সহযোগিতা করার কথা, সেখানে পরোভাবে তাদের নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। অপর দিকে, সকাল ৮টা থেকে বিনোদনকারীদের জন্য দুর্গ খালি করে দেয়ার প্রক্রিয়া চলে। ভাবতে অবাক লাগে প্রাতঃভ্রমণকারীরা তাদের ন্যূনতম নাগরিক অধিকার ও সুবিধা থেকেও বঞ্চিত। ঢাকা শহরে এমনিতেই প্রকৃতিসমৃদ্ধ খোলামেলা ও কোলাহলমুক্ত মাঠ ও উদ্যানের খুবই অভাব। যেখানে দেশে রোগীর সংখ্যা বাড়ছে, সেখানে প্রাতঃভ্রমণে সময় না বাড়িয়ে সঙ্কোচন করার সিদ্ধান্ত কতটুকু যুক্তিযুক্ত, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপরে ভেবে দেখা উচিত। প্রাতঃভ্রমণকারীদের কথা চিন্তা করে লালবাগ কেল্লায় প্রাতঃভ্রমণের সময়সীমা সকাল ৯টা পর্যন্ত বর্ধিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপরে সুদৃষ্টি কামনা করছি।
মো: আমির শামসী
১৯৫, জগন্নাথ সাহা রোড,
আমলিগোলা, ঢাকা-১২১১

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.