ঢাকা, বৃহস্পতিবার,১৮ জানুয়ারি ২০১৮

বাংলার দিগন্ত

বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে নানামুখী সমস্যা : ব্যবসায়ীদের দুর্ভোগ

এম এ বাসেত তেঁতুলিয়া (পঞ্চগড়)

০৪ জানুয়ারি ২০১৮,বৃহস্পতিবার, ০০:০০ | আপডেট: ০৪ জানুয়ারি ২০১৮,বৃহস্পতিবার, ০৬:৩৬


প্রিন্ট
বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর ওয়্যারহাউস ও ইয়ার্ডের গেট  :নয়া দিগন্ত

বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর ওয়্যারহাউস ও ইয়ার্ডের গেট :নয়া দিগন্ত

বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে নানামুখী সমস্যার কারণে দেশী বিদেশী ব্যবসায়ীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ১৯৯৭ সালে ভারত, নেপাল, ভুটান ও চীন এই চার দেশের সাথে চতুর্দেশীয় ব্যবসায়-বাণিজ্য প্রসারের লক্ষ্যে প্রথম শ্রেণীর এই স্থলবন্দরটি চালু করা হয়। পরে সরকারিভাবে কয়েক শ’কোটি টাকা ব্যয়ে জমি অধিগ্রহণ ও বন্দরের অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়। কিন্তু বন্দরের ভেতরে স্ক্যান মেশিন, এলসি চালানের টাকা জমাদানের জন্য সরকারি ব্যাংক, পর্যাপ্ত মালামাল লোড-আনলোডের জায়গা, প্রয়োজনীয় জনবল সঙ্কট, দুর্বল মোবাইল নেটওয়ার্ক এবং ইমিগ্রেশন চালুর পর দেশী বিদেশী যাত্রীদের যাতায়াতের জন্য রাজধানী ঢাকা থেকে কোনো ডে কোচ বা ট্রেন না থাকায় দিন দিন দুর্ভোগ বাড়ছে। এমনকি পঞ্চগড় শহরে কোনো বিমানবন্দর না থাকায় ও ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দরটি বন্ধ থাকায় ঢাকা থেকে পঞ্চগড়ে যাতায়াত করাটা সময়সাপেক্ষ ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।
২০১৬ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও ভারতের কেন্দ্রীয় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জেনারেল (অব:) ড. বিজয় কুমার সিং বাংলাবান্ধা জিরোপয়েন্ট ও ভারতের ফুলবাড়িতে ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট উদ্বোধন করেন। তখন থেকে এই বন্দর দিয়ে দেশী বিদেশী ছাত্রছাত্রীদের নেপাল, ভুটান, চীন ও ভারতের অন্যান্য প্রদেশে যাতায়াতের আগ্রহ পরিলক্ষিত হয়। কিন্তু বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরের ইয়ার্ডে পাথরবাহী ট্রাকের লোড-আনলোডের জায়গার অভাবে রাস্তার উভয়পাশে সারিবদ্ধভাবে ট্রাক দাঁড়িয়ে থাকায় অনেকে প্রাইভেট কার নিয়ে যাতায়াতে ভোগান্তিতে পড়েন। অপর দিকে বাংলাবান্ধা বাস টার্মিনাল থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে ইমিগ্রেশন অফিসে আসা-যাওয়ার জন্য রিকশা, অটোরিকশা ও ইজিবাইকের অভাব রয়েছে। এ ছাড়া স্থলবন্দরের আশপাশে মোবাইল নেটওয়ার্ক না থাকায় অনেকে আত্মীস্বজনের সাথেও যোগাযোগ করতে পারেন না। তা ছাড়া সরকারিভাবে এলসি ব্যাংক ও মানি এক্সচেঞ্জ না থাকায় অনেকে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে এসে বিপাকে পড়েন। আবার কেউ কেউ দেশী মুদ্রা নিয়ে ভারতের ফুলবাড়িতে মানি একচেঞ্জ করলেও বাংলাদেশ মোটা অঙ্কের রাজস্ব কর থেকে বঞ্চিত হয়।
অপর দিকে ২০১১ সালের ২২ জানুয়ারি স্থলবন্দর চালুর দীর্ঘ ১৪ বছর পর এক অনুষ্ঠানে ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি ও বাংলাদেশের কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী বাণিজ্যচুক্তির অংশ হিসেবে ভারতের সাথে ব্যবসায়-বাণিজ্য চালু করার পর থেকে ভারত থেকে কিছু ফলমুল ও অন্যান্য পণ্যসামগ্রী আমদানি শুরু হয়। কিন্তু ২০১৬ সালে ভারত থেকে অবৈধভাবে পাঁচ ট্রাকভর্তি প্রায় চার কোটি ৫৪ লাখ টাকার বাইসাইকেলের যন্ত্রাংশ নিয়ে একটি বড় চালান বিজিবি কর্তৃপক্ষ আটক করে। সবশেষে গত বছরের ৩১ অক্টোবর একটি ভারতীয় ট্রাকে পাথরের এলসি চালানের সাথে প্রায় এক কোটি ১৪ লাখ টাকার গাড়ির ইস্পাত আনলোড করার সময় বিজিবি সদস্যরা আটক করেন। এ ঘটনায় গত ২ নভেম্বর সংশ্লিষ্ট আমদানিকারক ও সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে বিজিবি তেঁতুলিয়া থানায় মামলা করে। এতে অচলাবস্থা দেখা দেয়। বর্তমানে ভারত থেকে শুধু পাথর আমদানি করা হয়। নেপাল ও ভুটান থেকে পাথরসহ নানা ধরনের পণ্যসামগ্রী আমদানি করা হয়। বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরের ব্যবসায়ীদের সাথে আলাপ করে জানা যায়, অল্প কিছু দিনের মধ্যে চীনের সাথে ব্যবসায়-বাণিজ্য চালু হবে।
এ ব্যাপারে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর ও ইমিগ্রেশনের রাজস্ব কর্মকর্তা আ ক ম বজলুর রশীদ বলেন, বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে জরুরি ভিত্তিতে সোনালী ব্যাংকের এলসি শাখা, মানি এক্সচেঞ্জ ব্যবস্থা, স্ক্যান মেশিন, মোবাইল নেটওয়ার্ক, সরাসরি ঢাকাগামী ডে কোচ চালু হওয়া খুব জরুরি। এ ছাড়া সরকারি বেসরকারিভাবে আবাসিক হোটেল নির্মাণ, বাংলাবান্ধা থেকে ট্রেন লাইন নির্মাণ এবং পঞ্চগড় জেলা শহরে বিমান বন্দর নির্মাণ বা ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দরটি চালু করা হলে ব্যবসায়ীদের ভোগান্তি কমবে। পাশাপাশি এই বন্দর থেকে সরকারের রাজস্ব আয়ও অনেক বাড়বে।

 

 

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
সকল সংবাদ

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫