ঢাকা, বুধবার,১৭ জানুয়ারি ২০১৮

বাংলার দিগন্ত

কলাপাড়া হাসপাতালে ২ বছর অস্ত্রোপচার বন্ধ : ভোগান্তিতে প্রসূতিরা

এইচ এম হুমায়ুন কবির কলাপাড়া (পটুয়াখালী)

০৪ জানুয়ারি ২০১৮,বৃহস্পতিবার, ০০:০০


প্রিন্ট

দুই বছর ধরে সিজারিয়ান অপারেশন হয় না পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা থাকা সত্ত্বেও হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশন না হওয়ায় গরিব ও অসহায় রোগীরা পড়েছেন সমস্যায়। বাধ্য হয়ে তারা ছুটছেন বিভিন্ন বেসরকারি কিনিকে। নামসর্বস্ব এসব কিনিকে গলা কাটা ফি দিয়ে সর্বশান্ত হচ্ছেন রোগী ও তাদের স্বজনেরা।
জানা গেছে, এলাকার মাতৃত্ব সেবার মান উন্নয়ন এবং অসহায় মানুষের কথা বিবেচনা করে কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২০০৭ সালে প্রসূতিসেবা চালু করা হয়। ২০১৫ সাল পর্যন্ত সাফল্যের সাথে তা চলছিল। নিরাপদ মাতৃত্ব সেবায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। উপজেলার বাইরে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সুনাম ছড়িয়ে পড়ায় দূর-দূরান্ত থেকে গরিব রোগীরা এখানে আসতে শুরু করে। কিন্তু ২০১৫ সালের ৮ এপ্রিল ডা: আবদুল রহিম সিভিল সার্জন হয়ে ঝালকাঠি বদলি হয়ে যাওয়ার দীর্ঘ দিন পর হাসপাতালে গাইনি চিকিৎসক পদে যোগদান করেন ডা: মীরা মজিদ। যোগদানের পর এক মাস বরিশালে এবং দুই মাস ঢাকায় প্রশিক্ষণের জন্য অবস্থান করেন তিনি। এর পর প্রশিক্ষণ শেষে হাসপাতালে যোগদান করার পরের দিনই রহস্যজনকভাবে বদলি হয়ে যান।
এরপর থেকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সিজারিয়ান কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। আর এই সেবা চালু করা সম্ভব হয়নি। এ দিকে অসহায় গরিব রোগীরা সরকারি হাসপাতালে সিজারিয়ানসেবা না পাওয়ায় স্মরণাপন্ন হচ্ছেন বিভিন্ন কিনিকে। অনেক েেত্রই তারা প্রতারণার শিকার হচ্ছেন।
কলাপাড়া উপজেলা ধুলাসার ইউনিয়নের তারিকাটা গ্রামের হারুন ফকির জানান, গত সপ্তাহে তার স্ত্রীর প্রসব ব্যথ্যা উঠলে নিয়ে যান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক দ্রুত সিজার করার পরামর্শ দেন। কিন্তু হাসপাতালে সিজারিয়ান বন্ধ থাকায় বাধ্য হয়ে পটুয়াখালীর একটি কিনিকে সিজার করতে হয়েছে। এতে তার প্রায় ৩০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। তিনি বলেন, উপজেলা হাসপাতালে সিজারিয়ান করতে খরচ হতো চার-পাঁচ হাজার টাকা। সেখানে এত টাকা খরচ করতে তাকে অন্যের কাছ থেকে ধার নিতে হয়েছে।
এ বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান পরিবার ও পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: চিন্ময় হাওলাদার জানান, হাসপাতালে সিজার অপারেশন হয় স্বল্প খরচে। কিন্তু কিনিকের খরচ অনেক বেশি। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পুনরায় প্রসূতিসেবা কার্যক্রম শুরু করার জন্য তারা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। যেসময় জেলাপর্যায়ে মিটিং হয় সেসময় আলোচনা করেন কলাপাড়া হাসপাতালে সিজারিয়ান চালু করার জন্য। কয়েকবার কাগজপত্র পাঠিয়েছেন বলে তিনি জানান।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫