ঢাকা, শনিবার,২০ জানুয়ারি ২০১৮

বাংলার দিগন্ত

নতুন বই পেয়ে খুশি ৬ বৃদ্ধ ছাত্র

দিনাজপুর সংবাদদাতা

০৪ জানুয়ারি ২০১৮,বৃহস্পতিবার, ০০:০০


প্রিন্ট

শিার কোনো বয়সসীমা নেই। সেটি আবারো প্রমাণ করলেন দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার ১১ বৃদ্ধ। তারা প্রতিদিন সময় ও নিয়ম মেনে ইউনিফর্ম পরে স্কুলে আসছেন। নাতি-নাতনীর বয়সী শিশুদের সাথে গ্রহণ করছেন প্রাথমিক শিা। তারা চোখ থাকতে অন্ধ হতে চান না, দিতে চান না টিপসই। তাই শেষ বয়সে এসেও শিা গ্রহণের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। সোমবার নতুন বছরের প্রথম দিন শিশুদের পাশাপাশি তাদের ছয়জন যোগ দেন বই উৎসবে। হাতে নেন নতুন বই।
নবাবগঞ্জ উপজেলার দারিয়া এলাকায় মাহমুদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, দ্বিতীয় শ্রেণীর শিার্থীদের সাথে নতুন বই নিচ্ছেন ছয় বৃদ্ধ। জানা যায়, এ বিদ্যালয়ে শিশুদের পাশাপাশি ১১ জন বৃদ্ধ শিা গ্রহণ করছেন। ২০১৭ সালের জানুয়ারি মাসে প্রথম শ্রেণীতে ভর্তি হন তারা। এক বছর থেকে স্কুলের নিয়মকানুন মেনে নিয়মিত শিশুদের সাথে কাস করছেন। অংশ নিচ্ছেন শরীরচর্চাসহ বিভিন্ন শিাকার্যক্রমে। শিশুদের সাথে গলা ছেড়ে জাতীয়সঙ্গীতও পরিবেশন করছেন।
এই ১১ শিার্থী হলেনÑ নবাবগঞ্জ উপজেলার আমবাগান এলাকার বাদশা মিয়া (৫১), একই এলাকার বদিয়াজ্জামান (৬৩), মাহমুদপুর গ্রামের হারুনুর রশিদ (৫৬), একই এলাকার ইলিয়াস মিয়া (৭১), সিদ্দিক মিয়া (৬৬), আমবাগান এলাকার আসাদ মিয়া (৪৭), মেম্বারপাড়া এলাকার শাহিনুর আলম (৪৭), একই এলাকার আবদুল লতিফ (৪৯), সোনারপাড়া এলাকার লাল মিয়া (৪৭), মগোরপাড়া গ্রামের বজলুর রশিদ (৫৪) ও আবদুর রাজ্জাক (৬০)। এদের মধ্যে সিদ্দিক মিয়া, বজলুর রশিদ, শাহিনুর আলম, আবদুল লতিফ, বাদশা মিয়া ও বদিয়াজ্জামান প্রথম শ্রেণী পাস করে দ্বিতীয় শ্রেণীতে উঠেছেন। গত সোমবার সকাল ১০টায় তারা নতুন বই নেয়ার জন্য স্কুলে উপস্থিত হন। শিকেরা তাদের হাতে নতুন বই তুলে দেন।
ছয় বৃদ্ধ শিার্থী বলেন, পাস করা এবং নতুন বই পাওয়ার আনন্দটাই আলাদা। আমাদের মনে হচ্ছে আমরা যেন শিশু বয়সে ফিরে গেছি। শিকেরাও আমাদেরকে অনেক সম্মান দিয়ে পড়ালেখা করিয়ে থাকেন। বদিয়াজ্জামান জানান, তার স্ত্রী খুব সকালে উঠে খাবার তৈরি করেন আর নাতি তাকে বিদ্যালয়ে যাওয়ার জন্য ডেকে তোলে। তার নাতিও ওই বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে। ভাত খেয়েই নাতিকে নিয়ে চলে আসেন বিদ্যালয়ে। তারপর দুপুরে ছুটি শেষে বাড়ি ফেরেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক জেনাজুল হায়দার জানান, বয়স বেশি হওয়ায় ভর্তি নেয়া যাবে কি না সে বিষয়ে প্রথমে সমস্যা হয়। পরে শিা কর্মকর্তার সাথে আলোচনাসাপেক্ষে তাদেরকে ভর্তি করে নেয়া হয়। তাদের মধ্যে ছয়জন পরীায় অংশগ্রহণ করে দ্বিতীয় শ্রেণীতে উত্তীর্ণ হয়েছেন। বাকি পাঁচজন ঠিকমতো শিখতে না পারায় আবারো প্রথম শ্রেণীতেই থাকতে চান। তাই তারা পরীায় অংশ নেননি। তবে তারা নিয়মিত স্কুলে আসবেন বলে জানিয়েছেন। তিনি আরো জানান, এরা সবাই গরিব হওয়ায় সাধারণ শিশুদের মতো তাদেরও উপবৃত্তি দেয়ার ব্যবস্থা করতে প্রশাসনকে বলা হয়েছে।
নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মশিউর রহমান বলেন, নিররতা দূর করতে বয়স্করা স্কুলে আসছেন এটি অনেক আশাব্যঞ্জক। আমরা তাদের সফলতা কামনা করছি।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫