মৃত্যুর ৮ বছর পরও পেনশনের টাকা পায়নি নৈশপ্রহরীর পরিবার

তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ) সংবাদদাতা

মৃত্যুর কত বছর পার হলে পেনশনের টাকা পাওয়া যায় তা আমি জানি না। এমনকি জানে না স্কুল কর্তৃপক্ষও। আট বছর আগে আমার বাবা আবদুর রহিম বাদাঘাট পাবলিক উচ্চবিদ্যালয়ে কর্মরত অবস্থায় মারা যান। এরপর থেকে স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার ধরনা দিয়েও পেনশনের টাকা পাইনি। স্কুলে যোগাযোগ করা হলেও বলা হয় হয়ে যাবে। অথচ এই স্কুল থেকে জীবিত থাকা অবস্থায় পেনশন পেয়েছেন কয়েকজন শিক্ষক, পাবার অপেক্ষায় রয়েছেন আরো দুইজন। কিন্তু আমার বাবা মারা গেছেন আট বছর আগে, অথচ এখনো তার পেনশনের টাকা পাচ্ছি না। এটি দেশের কোন নিয়ম।
ক্ষোভের সাথে কথাগুলো বললেন, সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট পাবলিক উচ্চবিদ্যালয়ের মৃত নৈশপ্রহরী আবদুর রহিমের ছেলে সুলতান মাহমুদ। তিনি জানান, আমার বাবা স্কুল প্রতিষ্ঠার পর থেকেই নৈশপ্রহরীর দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। আট বছর আগে তিনি মারা যান। মারা যাওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত আমরা বাবার ন্যায্য পাওনাটুকু পাচ্ছি না। এ ছাড়াও দেখেছি সরকারি চাকরিজীবীদের সন্তানরা অগ্রধিকার ভিত্তিতে একই প্রতিষ্ঠানেই চাকরি পায়। কিন্তু আমরা তিন ভাইয়ের মধ্যে এক ভাইও অনেক চেষ্টা করেও এক ভাইও পাইনি এই স্কুলে বাবার কর্মস্থলে চাকরি। এ অবস্থায় আমরা বড় কষ্টে আছি। অন্তত পেনশনের টাকাটুকু পেলে আমাদের পরিবারে কাজে লাগত।
জানা যায়, সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলা বাদাঘাট ইউনিয়নের বাদাঘাট পাবলিক উচ্চবিদ্যালয়ের নৈশপ্রহরী মৃত আবদুর রহিমের ১০ সদস্যের পরিবার ভুলাখালী গ্রামে বসবাস করতেন। তিনি স্ত্রী, তিন ছেলে ছয় মেয়ে রেখে যান। মেয়েরা বর্তমানে স্বামীর সংসারে। ছেলেরা বৃদ্ধা মাকে নিয়ে বসবাস করছে খুবেই কষ্টের মধ্যে। আবদুর রহিমের সংসার চলতো অভাব অনটনে। মারা যাওয়ায় সময় কোনো টাকা ও জমিজমা রেখে যেতে পারেননি। এতে তার পরিবারের সদস্যরা কষ্টে দিন পার করছেন।
এ ব্যাপারে বাদাঘাট পাবলিক উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম দানু জানান, আমি চেষ্টা করছি মৃত নৈশপ্রহরী আবদুর রহিমের পেনশনের টাকা যাতে করে তার পরিবার দ্রুত পেয়ে যায়। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলেছি। বাদাঘাট পাবলিক উচ্চবিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও বাদাঘাট ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন জানান, এই বিষয়টি আমাকে কেউ আগে জানায়নি। যেহেতু এখন জেনেছি খোঁজ নিয়ে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবো। সুনামগঞ্জ জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর জানান, এই বিষয়টি আমাদের হাতে নয় এটি সংশ্লিষ্ট স্কুল কর্তৃপক্ষ ও ঢাকা অফিসের বিষয়। তারপরও এই বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখব।

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.