ঢাকা, বৃহস্পতিবার,১৮ জানুয়ারি ২০১৮

বাংলার দিগন্ত

গোয়ালন্দে ওয়েট স্কেলে লোড চেকিংয়ের নামে চাঁদা আদায় ও হয়রানি

মেহেদুল হাসান আক্কাস গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী)

০৪ জানুয়ারি ২০১৮,বৃহস্পতিবার, ০০:০০


প্রিন্ট

গোয়ালন্দ উপজেলা কমপ্লেক্সের সামনে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে স্থাপিত বিআইডব্লিউটিসির ট্রাক ওয়েট স্কেলে ওভার লোড চেকিংয়ের নামে ট্রাক চালকদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় ও হয়রানির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া উপর মহলের নির্দেশে বড় বড় কোম্পানির ট্রাক চেকিং না করেই ছেড়ে দেয়ারও অভিযোগ রয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত মোতাবেক বিআইডব্লিউটিসির এই ওয়েট স্কেলে ১১ ডিসেম্বর থেকে মালামাল পরিবহনে ট্রাকের ওভার লোড নিয়ন্ত্রণের জন্য হাইওয়ে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। স্কেলটি নৌ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিআইডব্লিউটিসি পরিচালনায় রয়েছে। আনসার বাহিনীর সহযোগিতা নিয়ে বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষ এত দিন এটি পরিচালনা করে আসছে। মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে উল্লেখ রয়েছে মালামালসহ দুই এস্কেল বা ছয় চাকা বিশিষ্টি ট্রাক ২২ টন, তিন এস্কেল বা ১০ চাকা বিশিষ্ট ট্রাক ৩০ টন এবং চার এস্কেল বা ১৪ চাকা বিশিষ্টি ট্রাক ৪০ টন ওজনের মাল বহন করতে পারবে। এর বাইরে কোনো ট্রাক অতিরিক্ত মালামাল বহন করলে ট্রাক ঘুরিয়ে দেয়া বা অতিরিক্ত মাল নামিয়ে রেখে ছেড়ে দেয়ার নির্দেশ রয়েছে। এ ছাড়া অতিরিক্ত মালামাল বহনকারী কোনো ট্রাককে ঘুরিয়ে দেয়া বা মাল নামিয়ে দেয়া সম্ভব না হলে বহনকৃত অতিরিক্ত মালের জন্য টনপ্রতি বা এর ভগ্নাংশের জন্য পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করতে হবে।
এ দিকে অভিযোগ রয়েছে, স্কেলে দায়িত্বরত হাইওয়ে পুলিশ ও সংশ্লিষ্টরা জরিমানার পরিবর্তে মাল নামিয়ে দেয়া অথবা ফিরিয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে উৎকোচ আদায় করে চলেছেন। এতে করে নানাভাবে অর্থনৈতিক ক্ষতি ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন চালকেরা। এই স্কেলে আসা ট্রাকে নির্ধারিত ওজনের চেয়ে কিছু মালামাল বেশি থাকলেই ট্রাকপ্রতি ৫০০ থেকে এক হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে।
যশোরের গদখালী থেকে আসা কাঁচামাল নিয়ে আসা হবিগঞ্জের ব্যবসায়ী শুকুর আলী অভিযোগ করে বলেন, পুলিশ প্রথমে আমার কাছে অতিরিক্ত মালামালের জন্য এক হাজার টাকা জরিমানা চায়। জরিমানার রসিদ চাইলে পুলিশ টাকা নিয়ে রসিদ দিতে অস্বীকার করে। রসিদ ছাড়া টাকা দিতে না চাওয়ায় পুলিশ রাতে তার তিন হাজার কেজি মালামাল গোয়ালন্দ উপজেলা মাঠে নামিয়ে দেয়। এতে তার ৩২ হাজার টাকার বেগুন, কপি, শিম নষ্ট হয়ে গেছে।
এ ব্যাপারে আহলাদিপুর হাইওয়ে পুলিশের ওসি নবির হোসেন জানান, জরিমানা আদায় করার দায়িত্ব তাদের নয়। এ ছাড়া জরিমানা আদায়ের কোনো রসিদ তাদের কাছে নেই। তবে কেউ জরিমানা আদায় করলে তাদের সহযোগিতা করা পুলিশের দায়িত্ব। এ সময় তিনি পুলিশের চাঁদা আদায়ের অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, পুলিশের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে চালকেরা তাকে জানালে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
বিআইডব্লিইটিসির দৌলতদিয়া ঘাট ম্যানেজার শফিকুল ইসলাম জানান, মালামাল ভর্তি ট্রাক ফেরিতে ওঠার আগে এই স্কেলে ওজন করে স্লিপ দেয়া হয়। অতিরিক্ত মালামাল বহনের জন্য টনপ্রতি ১২০ টাকা হারে তারা অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করেন। ওভার লোড ঠেকানো বা জরিমানা আদায় তাদের দায়িত্ব নয়।
সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের রাজবাড়ী জেলা কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম জানান, সওজের স্কেল যেখানে আছে তারা সেখানে জরিমানা আদায় করতে পারবেন। গোয়ালন্দে বিআইডব্লিউটিসির স্কেলে তাদের কোনো দায়িত্ব নেই।
গত ৩১ জানুয়ারি ভারত থেকে একটি স্টিল কোম্পানির আমদানি করা ৩০ টন ওজনের লোহার কয়েল ভর্তি ছয় চাকার ট্রাক এ স্কেল দিয়ে নির্বিঘেœ পার হতে দেখা যায়। মালামাল বহনকারী ভৈরব ট্রান্সপোর্ট এজেন্সির কর্মচারী হাবিবুর রহমান জানান, এই মালগুলো অনেক আগেই ভারত থেকে বেনাপোল বন্দরে আনা হয়েছিল। এ স্কেল দিয়ে এ রকম ২৮টি কয়েল ভর্তি ট্রাক পার করার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ আছে।
এ সময় স্কেলে দায়িত্বরত হাইওয়ে পুলিশের এটিএসআই আবদুল কাদের কয়েকটি ট্রাক আটকে দেন। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও গোয়ালন্দ উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল সাদীদ ৩০ টন কয়েল ভর্তি ওজনের ছয়টি ট্রাককে এক হাজার টাকা করে জরিমানা করেন।
এ সময় রাজবাড়ীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আবদুর রহমান ও গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবু নাসার উদ্দিন ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।

 

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
সকল সংবাদ

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫