প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চালক নেই পিরোজপুরে ফেরি চালান গ্রিজারেরা

দেলোয়ার হোসাইন পিরোজপুর

গ্রিজারের দায়িত্ব হলো ফেরির ইঞ্জিনে তেল, মবিল দেয়া ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা। অথচ সেই গ্রিজার দিয়েই চলছে পিরোজপুরের তিন ফেরিঘাটের চারটি ফেরি। এর মধ্যে পিরোজপুর-মঠবাড়িয়া-ভাণ্ডারিয়া সড়কে কঁচা নদীর চরখালী-টগড়া নৌরুটের ফেরিটি ১৯৮৯ সালে চালু হয়। এর পরপরই চালু হয় খুলনা-বরিশাল ভায়া পিরোজপুর সড়কের কুমিরমারা-বেকুটিয়া নৌরুটের ফেরি এবং কাউখালী-নেছারাবাদ সড়কে সন্ধ্যা নদীর আমড়াঝুরি ফেরি। সব ফেরিই চলছে প্রশিক্ষণবিহীন চালকদের দ্বারা।
তিন ফেরিঘাটে চারটি ফেরিতে বর্তমানে রয়েছেন আটজন চালক। তারা হলেন চরখালী-টগড়া ফেরিতে আব্দুর রউফ, ওয়াদুদ ইসলাম, আব্দুল হালিম ও আব্দুর রশীদ, বেকুটিয়া-কুমিরমারা ঘাটে দেলোয়ার হোসেন ও মাহবুবুর রহমান এবং আমড়াঝুরি ঘাটে নূরুল হক ও মোহাম্মদ আরিফ। তবে এরা কেউ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ফেরিচালক নন বলে জানিয়েছেন চরখালী-টগড়া ঘাটের গ্রিজার আব্দুর রউফ ও ওয়াদুদ ইসলাম। এর মধ্যে গ্রিজার আব্দুর রউফ ১৯৮৯ সাল থেকে ২৯ বছর যাবৎ এ অঞ্চলে ফেরি চালাচ্ছেন। ওয়াদুদ ইসলাম ২০০৬ সাল, আব্দুল হালিম ২০০৬ সাল, আব্দুর রশীদ ২০০৬ সাল, দেলোয়ার হোসেন ১৯৯০ সাল থেকে গ্রিজারের বদলে ফেরিচালকের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে আসছেন। বেকুটিয়া ফেরির চালক মাহবুবুর রহমান এক সময় রোলার চালাতেন। আর নূরুল হক ও আরিফ খালাসি থেকে ফেরিচালক বনে গেছেন।
পিরোজপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের অধীন ফেরিগুলো অনেক পুরনো। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে প্রায়ই ফেরিই বন্ধ হয়ে মাঝ নদীতে ভাসতে থাকে। কোনো মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান থেকে প্রশিক্ষণ না নিয়ে দেখতে দেখতে চালক বনে যাওয়া চালকদের ভুলের কারণে অনেক সময় দুর্ঘটনা ঘটে।
এ সম্পর্কে জানতে চাইলে সড়ক ও জনপথ বিভাগের ফেরি ডিভিশনের বরিশাল বিভাগীয় প্রকৌশলী হামিমুল হক জানান, পিরোজপুরে যারা ফেরি চালান তারা প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নন। তারা দীর্ঘদিন চালাতে চালাতে দক্ষ হয়েছেন। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চালক চেয়েও পাওয়া যায়নি বলে তিনি জানান।

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.