পাবনায় পদ্মা-যমুনার চরজুড়ে মাষকলাইয়ের আবাদ

এস এম আলাউদ্দিন পাবনা

পাবনার পাকশী ও কোমরপুরে পদ্মা নদীর চরে এবার শত শত একর জমিতে মাষকলাইয়ের বাম্পার ফলন হয়েছে। চর দু’টির বেশির ভাগ অংশজুড়ে রয়েছে মাষকলাইয়ের ক্ষেত। এ এলাকার কৃষকেরা প্রতি বছরের মতো এবারো রেকর্ড পরিমাণ জমিতে মাষকলাইয়ের আবাদ করেছেন। আর এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে কৃষক মাষকলাই ঘরে তুলতে পারবেন। চলতি বছর দুই দফা বন্যার কারণে এবার মাষকলাই ঘরে উঠাতে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে বলে এলাকার কৃষকেরা জানিয়েছেন।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশী ও সদর উপজেলার পদ্মা নদীর চরাঞ্চল এবং পদ্মা ও যমুনা বেষ্টিত অন্যান্য চরেও রেকর্ড পরিমাণ জমিতে কৃষক মাষকলাই আবাদ করেছেন। ফলনও হয়েছে বেশ ভালো। উপজেলার হাটবাজারে এই কালাইয়ের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। নদীতীরবর্তী এলাকার লোকেরা শীত মওসুমে খাদ্য তালিকার মাষকলাই বাধ্যতামূলক রাখে। প্রতি কেজি মাষকলাই হাটে-বাজারে ৬৫-৭০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পদ্মা ও যমুনা নদী উপকূলের মানুষ তাদের চাহিদা পূরণ করে দেশের বিভিন্ন স্থানে মাষকলাই সরবরাহ করেন।
কোমরপুর এলাকার আনোয়ার আলী জানান, এবার তিনি সাড়ে তিন বিঘা জমিতে মাষকলাই আবাদ করেছেন। ফলন হয়েছে বেশ ভালো। একই এলাকার রওশন আলী জানান, এবার তিনি সাত বিঘা জমিতে মাষকলাই আবাদ করেছেন। বেশ ভালো ফলন হয়েছে। এই ফসল চাষে উৎপাদন খরচ কম, লাভ বেশি। গ্রামগঞ্জে এই কলাইয়ের চাহিদা বেশ ভালো। চলাঞ্চলের বেশির ভাগ কৃষক চরের বিশাল মাঠজুড়ে মাষকলাই আবাদ করেছেন।
এ ব্যাপারে পাবনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের লিভার ও পরিপাকতন্ত্র বিশেষজ্ঞ ডা: বিপ্লব কুমার সাহা জানান, এটি একটি প্রোটিন জাতীয় খাদ্য। যা মানবদেহে আমিষের চাহিদা পূরণ করে। এ ছাড়াও খাদ্য হজমে সহায়তা করে। এ জাতীয় ডাল মানবদেহের কোনো তি করে না।
পাবনা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপপরিচালক কৃষিবিদ বিভূতি ভূষণ সরকার জানান, এবার জেলার নয়টি উপজেলায় সাত হাজার ৫০৫ হেক্টরে মাষকলাই আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে পাবনা সদর ও ঈশ্বরদীতে নির্ধারণ করা হয়েছে তিন হাজার ৪০ হেক্টরে। এ দু’টি উপজেলার পদ্মা ও যমুনার চরাঞ্চলেই বেশি মাষকলাই আবাদ হয়েছে বলে কৃষি কর্মকর্তা জানান।
মাষকলাই একটি ডালজাতীয় শস্য। মাষকলাই যেকোনো জায়গায় আবাদ করা যায়। মাষকলাই বপনের ৮৫-৯০ দিনের মধ্যে গাছে ফলন আসে। ভাদ্র- আশ্বিন মাসে কৃষক মাষকলাই বপন করেন। এমনকি মাষকলাই রাস্তার পাশে বপন করলেও ফলন পাওয়া যায়। মাষকলাই চাষে সারের তেমন প্রয়োজন হয় না। আগাছা পরিষ্কার করতে হয় না। পোকামাকড় কম হয়। ফলে উৎপাদন খরচ খুবই কম। সব দিক থেকেই মাষকলাই আবাদে আগ্রহও বেশি।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.