ঢাকা, শনিবার,২০ জানুয়ারি ২০১৮

সম্পাদকীয়

শিক্ষকদের আমরণ অনশন

সময়সীমা উল্লেখ করে দাবি মেনে নিন

০৪ জানুয়ারি ২০১৮,বৃহস্পতিবার, ০০:০০


প্রিন্ট

রাজধানীতে আমরণ অনশন করছেন শিক্ষকেরা। বেতনভাতা তথা এমপিওভুক্তির দাবিতে সরকারি স্বীকৃতি পাওয়া এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকেরা দীর্ঘ দিন ধরে এই দাবি জানিয়ে আসছেন। সরকারের একাধিক মন্ত্রী বিভিন্ন সময় তাদের দাবি পূরণের আশ্বাস দিয়েছেন কিন্তু তা পূরণ হয়নি। এই শিক্ষকেরা মূলত তাদের বেতনের একটি অংশ সরকারের খাত থেকে পাওয়ার জন্য আন্দোলন করছেন। দুনিয়ার কোনো সভ্য দেশে শিক্ষকদের বেতনের দাবিতে এভাবে আন্দোলনের নজির নেই। কারণ, শিক্ষকেরা রাষ্ট্র ও সমাজের কাছে তাদের ন্যায্য অধিকার ও সম্মান পেয়ে থাকেন, কিন্তু বাংলাদেশে সব কিছু হয় উল্টো পথে। শিক্ষকেরা এ দেশে সবচেয়ে বেশি উপেক্ষিত। আজ শিক্ষকদের দাবি আদায়ের জন্য আমরণ অনশন বা মৃত্যুর হুমকি দিতে হচ্ছে।
রাজধানীর জাতীয় প্রেস কাবের সামনে নন-এমপিও শিক্ষক-কর্মচারীরা অনশন শুরু করেছেন ৩১ ডিসেম্বর থেকে। ইতোমধ্যে তিন দিন অতিবাহিত হয়েছে। ৩৯ জনের বেশি শিক্ষক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। সরকারের শিক্ষামন্ত্রী অনশনরত শিক্ষকদের দেখতে গিয়ে আবারো এমপিওভুক্তির আশ্বাস দিয়েছেন, কিন্তু মন্ত্রীর কথায় শিক্ষকেরা আস্থা রাখতে পারেননি। কারণ, এর আগে তিনি ২৬ বার এমন আশ্বাস দিয়েছেন বলে শিক্ষকদের দাবি। একজন মন্ত্রী যদি অসংখ্যবার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তা রক্ষা না করেন, তাহলে তার ওপর আস্থা রাখার সুযোগ থাকে না। আসলে নানা কারণে শিক্ষামন্ত্রীর ওপর শিক্ষকেরা তো বটেই, সাধারণ মানুষের আস্থা নষ্ট হয়ে গেছে। পুরো শিক্ষাব্যবস্থায় এখন অরাজকতা বিরাজ করছে। শিক্ষকেরা আন্দোলন করছেন। প্রতিটি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস হচ্ছে। ঘুষ-দুর্নীতির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ হচ্ছে। এমনকি মন্ত্রী নিজেই নিজেকে চোর বলে দাবি করেছেন।
বলা হয়Ñ শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড। এখন এই জাতির মেরুদণ্ড ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। শিক্ষকদের যদি বেতনের দাবিতে রাজপথে অনশন করতে হয়, তবে সে জাতির মেরুদণ্ড কতটা শক্ত তা আমরা সহজেই অনুমান করতে পারি। আমরা মনে করি, শিক্ষকেরা যে দাবিতে আন্দোলন করছেন তা যৌক্তিক ও ন্যায়সঙ্গত। এখন শিক্ষামন্ত্রী যে আশ্বাস দিয়েছেন তা বাস্তবায়নের জন্য শিক্ষকদের কাছে সুনির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ করা দরকার; যাতে তারা এ ধরনের প্রতিশ্রুতির ওপর আস্থা ফিরে পান। একই সাথে নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করে শিক্ষক নিয়োগ ও শিক্ষার মান তদারকির দিকে গুরুত্ব দেয়া দরকার। সরকারকে মনে রাখতে হবে, শিক্ষকদের পেছনে বিনিয়োগ হচ্ছে রাষ্ট্রের কর্তব্য ও সর্বোচ্চ বিনিয়োগ। এর সুফল পুরো জাতি পাবে।

 

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫