ঢাকা, বৃহস্পতিবার,১৮ জানুয়ারি ২০১৮

সম্পাদকীয়

ওষুধ প্রশাসনে অনেক পদই শূন্য

অবিলম্বে নিয়োগের ব্যবস্থা করুন

০৪ জানুয়ারি ২০১৮,বৃহস্পতিবার, ০০:০০


প্রিন্ট

সরকারের ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরে পরিচালকের তিনটিসহ বিভিন্ন স্তরের অনেক পদ এখনো ফাঁকা পড়ে আছে। বিশেষত ১৩ থেকে ২০তম গ্রেডের পদগুলোতে জনবলের প্রকট অভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। দশম গ্রেড পর্যন্ত কর্মকর্তাদের পাবলিক সার্ভিস কমিশন থেকে নিয়োগ দেয়া হয়। পরবর্তী বিভিন্ন গ্রেডের জনবল নিয়োগের ক্ষমতা ও দায়িত্ব ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের ওপর ন্যস্ত। কিন্তু নানা ধরনের স্বার্থের দ্বন্দ্বে এসব শূন্য পদ পূরণ করা যাচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অভিযোগ, পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় সময়মতো কাজ করা যায় না।
নয়া দিগন্তের এক প্রতিবেদনে সরকারের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই দফতরে জনবল সঙ্কটের চিত্র তুলে ধরে জানানো হয়েছে, ওপরের ১০টি গ্রেডের ১৪৩টি পদের বিপরীতে ৩৪টি পদ খালি রয়েছে। ওষুধ প্রশাসন কর্তৃপক্ষ এসব পদের তালিকা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠালেও কখন এগুলো পূরণ করা হবে তা অনিশ্চিত। এ দিকে কর্মকর্তা যারা আছেন, তাদের অধীন নি¤œ পদের লোকজন না থাকায় কাজের সুষ্ঠু পরিবেশ সৃষ্টি হচ্ছে না। জানা গেছে, পরিচালকের মোট চারটি পদের তিনটিই ফাঁকা। এ অবস্থায় কাজ চালানোর জন্য দু’জন উপপরিচালককে পরিচালক পদে চলতি দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। সহকারী পরিচালকের ১৭টি পদের মধ্যে সাতটিতে কেউ নেই। বিষয়টি ‘প্রক্রিয়াধীন’ থাকার কথা জানানো হয়েছে। ভেটেরিনারি ওষুধ তত্ত্বাবধায়কের দু’টি পদ এখন শূন্য। ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের একমাত্র মেডিক্যাল অফিসারের পদটি খালি পড়ে আছে। অথচ তা পূরণের ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। সহকারী জীবাণুবিদের তিনটির মধ্যে মাত্র একটি পদে লোক আছেন। সহকারী রসায়নবিদ (ভেটেরিনারি) পদটিতে কেউ নেই। হিসাবরক্ষণ, আইন, প্রশাসন, পরিসংখ্যান সম্পর্কিত কর্মকর্তাদের একটি করে পদ শূন্য রয়েছে। ওষুধ পরিদর্শকের ছয়টি পদ শূন্য। সহকারী অ্যানালিস্টদের অর্ধেকের বেশি পদ ফাঁকা। এসব পদে পিএসসি কর্তৃক নিয়োগের ‘প্রক্রিয়া চলছে’ বলে জানানো হয়। জনবল সঙ্কট বেশি প্রকট নিচের দিকে। ১৪ থেকে ২০তম গ্রেডের অনুমোদিত পদ ২২৭টি। এর মধ্যে শূন্য ৬০টি। এগুলো অধিদফতরের বিভাগীয় কমিটির মাধ্যমে পূরণ হওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি।
এ দিকে, ওষুধ তত্ত্বাবধায়ক পদে ৭০ জনের মধ্যে ৬৫ জন থাকলেও তাদের অবস্থা ‘ভালো নয়’ বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। যারা জেলাপর্যায়ে নিয়োজিত, অনেক ক্ষেত্রে তাদের একজন পিয়ন ছাড়া কোনো সহকারী নেই। অথচ সেখানে তাকে একাই সব কাজ করতে হয়। তা ছাড়া নকল-ভেজাল ওষুধ ধরে পড়তে হয় নানা ঝামেলায়। ফলে ঠিকমতো দায়িত্ব পালন করা সম্ভব হয় না।
মানুষের পাঁচটি মৌলিক প্রয়োজনের একটি হলো সুচিকিৎসা। মানসম্মত ও পর্যাপ্ত ওষুধ ছাড়া এটা পূরণ করা সম্ভব নয়। তদুপরি বাংলাদেশে নকল ও ভেজাল ওষুধের দৌরাত্ম্য ভয়াবহপর্যায়ে পৌঁছেছে। এ ক্ষেত্রে ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের গুরুত্ব কত বেশি, তা সহজেই অনুমেয়। এখন সেই দফতরেই যদি লোকবল অপর্যাপ্ত থাকে এবং অনেক গুরুত্বপূর্ণ পদ পড়ে থাকে ফাঁকা, তাহলে ভেজাল ও নকল ওষুধের বিরুদ্ধে সরকারের তৎপরতা অবশ্যই মারাত্মক বিঘিœত হবে। এ অবস্থায় ওষুধের মান রক্ষা তথা দেশের নাগরিকদের মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা অসম্ভব হয়ে পড়বে। নি¤œমানের ওষুধ সেবনে মৃত্যু পর্যন্ত ঘটতে পারে বৈকি। আমরা আশা করি, এসব বিষয় বিবেচনা করে অবিলম্বে ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের শূন্য পদে যোগ্য লোক নিয়োগের ব্যবস্থা করা হবে।

 

 

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
সকল সংবাদ

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫