ঢাকা, মঙ্গলবার,২৪ এপ্রিল ২০১৮

অর্থ-শিল্প-বাণিজ্য

ফের ৬ হাজার ৩০০ পয়েন্ট ছাড়াল ডিএসই সূচক

রাজস্ব আয় ৩৪৩ কোটি টাকা

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক

০৪ জানুয়ারি ২০১৮,বৃহস্পতিবার, ০০:০০


প্রিন্ট

নতুন বছরটি ভালোই যাচ্ছে পুঁজিবাজারের। গতকাল নিয়ে টানা তৃতীয় দিন সূচকের উন্নতি হয়েছে দেশের দুই পুঁজিবাজার। এ ধারাবাহিকতায় গতকাল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচকটি এক মাস পর আবার ৬ হাজার ৩০০ পয়েন্ট অতিক্রম করেছে। সর্বশেষ গত ৩০ নভেম্বর ৬ হাজার ৩০০ পয়েন্টের ওপরে ছিল ডিএসই সূচক।
আগের দু’দিনের মতো গতকাল সূচকের উন্নতি দিয়ে দিন শুরু করা বাজারগুলো মৃদু বিক্রয়চাপে পড়লেও লেনদেনের মাঝামাঝি সময়ে তা কাটিয়ে ওঠে। দিনশেষে দুই পুঁজিবাজারে সূচকের উন্নতির পাশাপাশি উভয় বাজারেই বেশির ভাগ কোম্পানির মূল্যবৃদ্ধি ঘটে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স গতকাল ৩৮ দশমিক ৩০ পয়েন্ট বৃদ্ধি পায়। ৬ হাজার ২৭৯ দশমিক ৯৬ পয়েন্ট থেকে দিন শুরু করা সূচকটি দিনশেষে পৌঁছে ৬ হাজার ৩১৮ দশমিক ২৭ পয়েন্টে। একই সময় ডিএসই-৩০ ও ডিএসই শরিয়াহ সূচকের উন্নতি ঘটে যথাক্রমে ১০ দশমিক ৪৪ ও ৯ দশমিক ৫৭ পয়েন্ট।
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক ও সিএসসিএক্স সূচকের উন্নতি ঘটে যথাক্রমে ১২০ ও ৭৪ দশমিক ৮৭ পয়েন্ট। সিএসই-৫০ ও সিএসই শরিয়াহ সূচকের উন্নতি ঘটে যথাক্রমে ১০ দশমিক ৫৯ ও ৭ দশমিক ১৩ পয়েন্ট।
সূচকের উন্নতি ঘটলেও গতকাল দুই পুঁজিবাজরেই লেনদেন হ্রাস পায়। ঢাকায় এ দিন ৫৭৬ কোটি টাকার লেনদেন হয়, যা আগের দিন অপেক্ষা ৩০ কোটি টাকা কম। চট্টগ্রাম শেয়ারবাজারে ৩৭ কোটি টাকা থেকে ৩০ কোটিতে নেমে আসে টার্নওভার।
এ দিকে বিদায়ী বছরে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) থেকে সরকারের রাজস্ব তহবিলে জমা হবে ৩৪৩ কোটি ২১ লাখ টাকা। ডিএসইর সদস্য ব্রোকারেজ হাউজ এবং উদ্যোক্তা-পরিচালক এবং প্লেসমেন্ট শেয়ারধারীদের কাছ থেকে ডিএসইর এ রাজস্ব আয় হয়েছে। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
ডিএসই থেকে পাওয়া তথ্য অনুসারে বিদায়ী বছরে ডিএসইতে ২৪৮ কার্যদিবসে ২ লাখ ১৬ হাজার ৯৫৯ কোটি ৭১ লাখ টাকা লেনদেন হয়েছে, যা ২০১৬ সালের চেয়ে ৯৭ হাজার ৮০২ কোটি ৫৯ লাখ টাকা বেশি। ব্রোকারেজ হাউজের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের শেয়ার কেনাবেচা বাবদ উৎসে কর, উদ্যোক্তা-পরিচালকদের শেয়ার বিক্রি ও প্লেসমেন্টের মাধ্যমে পাওয়া শেয়ার বিক্রির ওপর গেইন ট্যাক্স বাবদ সরকারকে ৩৪৩ কোটি ২১ লাখ টাকা রাজস্ব জমা দিতে হচ্ছে। এর মধ্যে বিদায়ী বছরের শেষ ছয় মাসে ১৪২ কোটি ৪৯ লাখ টাকা এবং প্রথম ছয় মাসে রাজস্ব আয় হয়েছে ২০০ কোটি ৭২ লাখ টাকা।
ব্রোকারেজ কোম্পানি থেকে উৎসে কর হিসেবে ২৪৬ কোটি ৭৩ লাখ টাকা এবং স্পন্সর ও প্লেসমেন্ট সিকিউরিটিজ বিক্রয় বাবদ ৮৩ কোটি ৫৮ লাখ টাকা আয় হয়েছে।
দুই পুঁজিবাজারে বেশির ভাগ খাতেই মূল্যবৃদ্ধি ঘটে গতকাল। চামড়া, তথ্যপ্রযুক্তি, সিরামিকস ও টেলিকমিউনিকেশন খাতে মূল্যবৃদ্ধি ঘটে শতভাগ কোম্পানির। এ ছাড়া ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতে ৭০ শতাংশের বেশি কোম্পানির মূল্যবৃদ্ধি ঘটে, যা প্রকারান্তরে দুই পুঁজিবাজার সূচককে এগিয়ে নেয়। রসায়ন, টেক্সটাইল ও প্রকৌশল খাতের আচরণ ছিল মিশ্র। ঢাকা শেয়ারবাজারে লেনদেন হওয়া ৩৩৬টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ১৯৫টির মূল্যবৃদ্ধির বিপরীতে দর হারায় ১০১টি। অপরিবর্তিত ছিল ৪০টির শেয়ারদর। অপর দিকে চট্টগ্রাম শেয়ারবাজারে লেনদেন হওয়া ২৩০টি সিকিউরিটিজের মধ্যে ১৪৩টির দাম বাড়ে, ৬৮টির কমে এবং ১৯টির দাম অপরিবর্তিত থাকে।
ডিএসইতে গতকালও লেনদেনের শীর্ষস্থানটি দখলে রাখে ইউনাইটেড পাওয়ার। ৫১ কোটি ৭৪ লাখ টাকায় কোম্পানিটির ২৭ লাখ ২ হাজার শেয়ার হাতবদল হয় গতকাল। ১৯ কোটি ১২ লাখ টাকায় ৯১ লাখ ৮৭ হাজার শেয়ার বেচাকেনা করে দ্বিতীয় স্থানে ছিল ড্রাগন সোয়েটার। ডিএসইর লেনদেনের শীর্ষ ১০ কোম্পানির অন্যগুলো ছিল যথাক্রমে গ্রামীণফোন, ইফাদ অটোস, ইসলামী ব্যাংক, লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট, স্কয়ার ফার্মা, ডরিন পাওয়ার, ন্যাশনাল টিউব ও ব্র্যাক ব্যাংক।

 

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫