চা খেলে কি ত্বক কালো হয়ে যায়?

নয়া দিগন্ত অনলাইন

চা পান করলে কি গায়ের চামড়া কালো হয়ে যায়? নানাভাবে নানাজনে কথাটি বলে থাকেন। ফলে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দেয়া যায় না কথাটি। কিন্তু চা খেলে যদি বাস্তবিকই কেউ কালো হয়ে যেত, তাহলে তো ইংরেজ ও আইরিশদের গায়ের রং আগে চেঞ্জ হতো। কিন্তু এমনটা তো হয়নি। দিনে ১০-১২ কাপ খেলেও না। তাহলে?

আসলে কে কালো হবে, কে ফর্সা তা অনেকাংশেই নির্ভর করে ত্বকের অন্দরে থাকা মেলানিন নামে একটি উপাদানের উপর। আর এমন কোনো গবেষণা আজ পর্যন্ত হয়নি যা প্রমাণ করে যে চা খেলে মেলানিনের পরিমাণ বেড়ে যায়, ফলে ত্বক কালো হতে শুরু করে। তাই চা খেলে কালো হয়ে যাব- এই ধরণাটাকে কতটা গুরুত্ব দেয়া যে পারে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।

জিনগত কারণ এবং রোদে কতটা সময় কাটানো হচ্ছে, এই দুটি বিষয়ের উপর গায়ের রং অনেকাংশেই নির্ভর করে থাকে। তবে কোনো কোনো বিশেষজ্ঞ বলেন, আমাদের শরীরকে ভালো রাখতে লিকার চা এবং গ্রিন টি বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই কোনো কারণেই চা-কে ভিলেন না বানালেও চলে। তা-ই বলে চা আপনাকে পান করতেই হবে, তা বলা হচ্ছে না। চা পান করবেন কী করবেন না, তা আপনার ইচ্ছা।

অবশ্য অনেকে নানা গবেষণা, সমীক্ষার উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, চায়ের আছে নানা গুণ। তাদের বলা সেইসব গুণের কথা কি কিছু শুনবেন? তবে শুনুন :

চায়ে রয়েছে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট : একাধিক রোগের উপসমে এই উপাদানটি বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। সেই সঙ্গে ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতেও অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের কোনো বিকল্প হয় না বললেই চলে। পরিবেশ দূষণের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে ত্বক এবং শরীরকে বাঁচাতেও এই উপাদনটি বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই তো একথা বলতেই হয় যে, সুস্থ এবং সুন্দর থাকতে প্রতিদিন লাল চা অথবা গ্রিন টি খাওয়া শুরু করুন।

হার্ট অ্যাটাকের আশঙ্কা কমে : একাধিক গবেষণায় একথা প্রমাণিত হয়েছে যে প্রতিদিন ২-৩ কাপ গ্রিন টি পান করলে হার্ট অ্যাটাকের আশঙ্কা প্রায় ২০ শাতংশ এবং স্ট্রোকের আশঙ্কা প্রায় ৩৫ শতাংশ হ্রাস পায়। সেই সঙ্গে কমে হাই কোলেস্টেরলের মতো রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও।

হাড়ের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটে : একাধিক কেস স্টাডি করে দেখা গেছে, প্রতিদিন গ্রি-টি খেলে হাড় মজবুত হয়। সেই সঙ্গে এই সম্পর্কিত নানাবিধ রোগের প্রকোপও কমে।

দাঁত সুন্দর হয়ে ওঠে : জাপানে হওয়া এক গবেষণায় একথা প্রমাণিত হয়েছে যে লিকার চা পান করলে মুখ গহ্বরে পি এইচ লেভেল বেড়ে যায়। ফলে ক্যাভিটি হওয়ার আশঙ্কা কমে। শুধু তাই নয়, আরো বেশ কিছু মুখ গহ্বরের রোগ সারাতেও লিকার চা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।

হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটায় : হার্বাল চা খাওয়ার অভ্যাস করলে ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রম, বদ-হজম সহ একাধিক পেটের রোগের প্রকোপ হ্রাস পায়। তাই যারা এমন কোনো রোগে ভুগছেন, তারা আজ থেকেই হার্বাল টি খাওয়া শুরু করুন। দেখবেন দারুণ উপকার পাবেন।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উন্নতি ঘটায় : একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে লিকার চা পান করলে আমাদের শরীরে ইমিউন সেলের কর্মক্ষমতা বেড়ে যায়। ফলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এতটাই বেড়ে যায় যে নানাবিধ সংক্রমণের আশঙ্কা বহুলাংশে হ্রাস পায়।

 

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.