হাথুরুসিঙ্গের চলে যাওয়ার আসল কারণ প্রকাশ করলেন ভারপ্রাপ্ত কোচ!
হাথুরুসিঙ্গের চলে যাওয়ার আসল কারণ প্রকাশ করলেন ভারপ্রাপ্ত কোচ!

হাথুরুসিঙ্গের চলে যাওয়ার আসল কারণ প্রকাশ করলেন ভারপ্রাপ্ত কোচ!

নয়া দিগন্ত অনলাইন

বাংলাদেশ ক্রিকেটের ভারপ্রাপ্ত কোচ রিচার্ড হ্যালস্যাল বলেছেন, চন্দিকা হাথুরুসিঙ্গের অনুপস্থিতির ফলে বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের দায়িত্ব বেড়ে গেছে।

হ্যালস্যাল ২০১৪ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে বাঙলাদেশের ফিল্ডিং এবং সহকারী কোচের দায়িত্ব পালন করছেন। শ্রীলঙ্কা ও জিম্বাবুয়েকে নিয়ে তিন জাতি ওয়ান ডে সিরিজের আগে নতুন প্রধান কোচ নিয়োগ করতে না পারায় বিসিবি তাকেই অন্তর্বর্তী দায়িত্ব দিয়েছে।

হ্যালস্যাল বলেন, চন্দিকার চলে যাওয়ার প্রধান কারণ ছিল, তিনি মনে করেছেন, তিনি এই মুহূর্তে খেলোয়াড়দের আর কিছু দিতে পারছেন না। এ কারণে আমি মনে করছি, হাথুরুসিঙ্গে এখন যেহেতু নেই, তাই খেলোয়াড়দেরই আর বেশি চিন্তা করার ও দায়দায়িত্ব প্রদর্শন করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ খুবই ভাগ্যবান এই কারণে যে তারা সাকিব, মাশরাফির মতো দারুণ দু্ই সিনিয়র খেলোয়াড়কে পেয়েছে। এছাড়া আছে মুশফিকুর, মাহমুদুল্লাহ ও তামিম। এসব খেলোয়াড় এখন আরো বেশি সম্পৃক্ত। আমি মনে করি, আপনার বয়স যত বাড়বে, দায়দায়িত্বও তত বাড়বে। এটা দারুণ ব্যাপার। আমি মনে করি, এটি সিনিয়র খেলোয়াড়দের জন্য বিশেষ ব্যাপার।

গত নভেম্বরে বাংলাদেশের কোচের পদ থেকে পদত্যাগ করে এবার হাথুরুসিঙ্গের শ্রীলঙ্কার কোচ হিসেবে বাংলাদেশে আসা নিয়ে অনেক কথা হচ্ছে।
হ্যালস্যাল বলেন, আমরা তার বিরুদ্ধে খেলব না, খেলব শ্রীলঙ্কার খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে। আর কৌশলের কথা? দক্ষিণ আফ্রিকায় আমাদের কৌশল কি কাজে লেগেছিল? খেলোয়াড়দের জন্য কৌশল অতি ক্ষুদ্র একটি বিষয়। ভালো খেললে জয় পাওয়া যাবে।

তিনি বলেন, দক্ষিণ আফ্রিকায় আমাদের ভালো খেলোয়াড় ছিল। কিন্তু আমরা ভালো খেলিনি।

সূত্র : ইএসপিএনক্রিকইনফো

ট্রাইনেশন জিততে চান মাশরাফি

ক্রীড়া প্রতিবেদক

খুব একটা সময় বাকি নেই! এরপরই প্রচণ্ড ব্যস্ততায় কাটবে জাতীয় দলের সময়। ত্রি-দেশীয় টুর্নামেন্ট, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্ট ও টি-২০ সিরিজের প্রস্তুতি নিচ্ছেন এখন ক্রিকেটাররা। কেমন হবে এ ম্যাচগুলোÑ এটা জানার আগ্রহ রয়েছে। বিশেষ করে সর্বশেষ দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে চরম ব্যর্থতার পর ঘরের মাঠের এ ম্যাচগুলোতে ওই সিরিজের ছায়া পড়বে কি না সেটা নিয়ে আলোচনা।

মাশরাফি অবশ্য এটা মানতে নারাজ। দেশে ও বিদেশে। জাতীয় দলের জন্য দু’টি স্থানের পার্থক্য অনেক। কাল সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘দেশে ও দেশের বাইরের সিরিজগুলোতে পার্থক্য আকাশ-পাতাল। ঘরের মাঠের সিরিজ আমরা জিততে চাই।’ দক্ষিণ আফ্রিকার সিরিজের পারফরম্যান্সের উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘একটা সিরিজ দিয়ে সবকিছু বিবেচনা করা ঠিক হবে না। আমাদের কাজ হলো সব কিছু ঠিকঠাক মতো করা।’ ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি স্পেশালভাবে ওয়ানডের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘এ ফরম্যাটে সাফল্য পাওয়া কঠিন হবে বলে মনে হয় না। আমরা চেষ্টা করব সেরাটা দিয়ে সাফল্য আনতে।’

বাংলাদেশ ত্রি-দেশীয় সিরিজ খেলার খুব বেশি একটা সুযোগ পায় না। ঘরের মাঠে দীর্ঘদিন পরই খেলছে তারা এমন সিরিজ। ত্রি-দেশীয় টুর্নামেন্টের কথা উল্লেখ করে মাশরাফি বলেন, ‘প্রতিপক্ষদের আমাদের বেশ ভালোই জানা। ঘরের মাঠে তাদের বিপক্ষে জেতার পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের। এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ সিরিজই হবে। বিশেষ করে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ফেরার পর সবাই হতাশ। এ সিরিজে ভালো কিছু হলে সে হতাশা কেটে পরিস্থিতির মোর ঘুরে যেতে পারে।’

দক্ষিণ আফ্রিকা সফর প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে ওয়ানডে অধিনায়ক বলেন, ‘আসলেই তো দক্ষিণ আফ্রিকা সফর আমাদের ভালো যায়নি। বাজে সময় আসতেই পারে। তবে সেটা চিন্তা করে বসে থাকলে তো চলবে না। এখন আমাদের মূল কাজ পেছনের সব কিছু ভুলে নিজেদের খেলাটা খেলা। আমার মনে হয় সবারই ওই বিষয়ের দিকে মনোযোগ দেয়া উচিত।’

আগের দিন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন জানিয়েছিলেন, মাশরাফি ও সাকিবই কোচ। একজন খেলোয়াড় হয়ে কোচের দায়িত্ব কিভাবে পালন করেন? মাশরাফি হেসেই জানালেন, ‘আসলে আমার মনে হয় না আমাদের আলাদা কিছু করতে হবে। উনি (বিসিবি সভাপতি) যা বুঝিয়েছেন, সেটা হলো সিনিয়র খেলোয়াড়দের দায়িত্বের বিষয়। আসলে এটা সব সময়ই থাকে। আলাদা কিছু করা সম্ভবপর না। তাতে সমস্যা বাড়বে। আমার মনে হয় যেভাবে চলছিল সব তাই ঠিক আছে।’


সাব্বির প্রসঙ্গ
গতকাল জাতীয় দলের জিম প্রোগ্রামে সাব্বিরের পাশাপাশিই ছিলেন মাশরাফি। দু’জনে দীর্ঘ আলোচনাও হয়। স্বাভাবিকভাবেই একজন সতীর্থ খেলোয়াড়ের বিপদের মধ্যে তাকে সান্ত্বনা দেয়া সিনিয়র ক্রিকেটারদের কর্তব্যও। তা ছাড়া মাশরাফি তো অধিনায়কও। তবে কী আলোচনা হয়েছে সেটা জানা না গেলেও মাশরাফি ওই প্রসঙ্গে বলেন, ‘সাব্বির থেকে আমাদের সবাইকেই শিক্ষা নিতে হবে। কারণ এটা মনে রাখা উচিত জাতীয় দলের প্রতিটা ক্রিকেটারই আইকন। সামনে যেন আমরা এমন ভুল আর না করি। শুধু সাব্বিরের যে শাস্তি হয়েছে এটা আর কারো যেন না হয়। সেদিকে অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে। আমাদের কাজ ঠিকঠাক মতো অনুশীলন করা ও মাঠে পারফর্ম করা।’

কোনো শিশুকে জিজ্ঞাসা করা হলে যে সে বড় হয়ে কী হবেন? এর উত্তরে অনেককেই বলতে শোনা যায় তারা ক্রিকেটার হবে। সাকিব হবেন মাশরাফি হবেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের সবাই অনুসরণ করে। তরুণ খেলোয়াড় যারা উঠে আসছেন। যাদের মধ্যে রয়েছে অনূর্ধ্ব-১৫, অনূর্ধ্ব-১৭, অনূধর্ব-১৯। তারাও আমাদের অনুসরণ করছে। ফলে শুধু মাঠেই নয়, মাঠের বাইরেও আমাদের সব কাজ ঠিকমতো করা উচিত।’ তিনি বলেন, ‘আমরা সবাই বিসিবির অধীন। এটা আমাদের মেনে নেয়া সবার দায়িত্বও।’

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.