ঢাকা, শুক্রবার,২৭ এপ্রিল ২০১৮

মধ্যপ্রাচ্য

ট্রাম্পের হুমকি : ফিলিস্তিনের প্রতিক্রিয়া

নয়া দিগন্ত অনলাইন

০৩ জানুয়ারি ২০১৮,বুধবার, ১৬:০২


প্রিন্ট
ডোনাল্ড ট্রাম্প

ডোনাল্ড ট্রাম্প

ফিলিস্তিনীরা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকি দ্বারা বিভ্রান্ত হবে না। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ফিলিস্তিনীদের অর্থ সহায়তা বন্ধের হুমকি দেয়ার প্রেক্ষাপটে বুধবার সিনিয়র একজন কর্মকর্তা এ কথা বলেন।

ফিলিস্তিনীদের সিনিয়র কর্মকর্তা হানান আশ্রাভি এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আমাদের বিভ্রান্ত করা যাবে না।’

তিনি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইচ্ছাকৃতভাবে আমাদের শান্তি,স্বাধীনতা ও ন্যায়বিচার অনুসন্ধানে ব্যাঘাত সৃষ্টি করতে ষড়যন্ত্র করছেন। এখন তিনি তার দায়িত্বহীন কর্মকান্ডের ভার ফিলিস্তিনীদের ওপর চাপিয়ে দেয়ার সাহস করছেন।’

পাকিস্তানের পর এবার ফিলিস্তিনকে হুমকি ট্রাম্পের
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফিলিস্তিন স্বশাসন কর্তৃপক্ষকে মানবিক সহায়তা বন্ধ করে দেয়ার হুমকি দিয়েছেন। ইহুদিবাদী ইসরাইলের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় ফিলিস্তিনের অনীহার অজুহাতে তিনি মঙ্গলবার কয়েকটি টুইটার বার্তায় ওই হুমকি দেন।

ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের সহায়তায় গঠিত জাতিসঙ্ঘের ত্রাণ সংস্থার তহবিলের একটা বড় অংশ আসে আমেরিকা থেকে। ২০১৬ সালে ওই সংস্থায় দেয়া মার্কিন সহায়তার পরিমাণ ছিল তিন হাজার কোটি টাকারও বেশি।

মঙ্গলবারের টুইট বার্তায় ট্রাম্প দাবি করেন, ‘শুধু পাকিস্তানই নয়, যাদের আমরা খামোখা কোটি কোটি ডলার দিই, এ রকম আরও অনেক দেশ আছে। যেমন আমরা প্রতিবছর ফিলিস্তিনকে শত মিলিয়ন ডলার দিই এবং কোনো প্রশংসা বা মর্যাদা পাই না। এমনকি তারা অনেক দিন ধরে ঝুলে থাকা বিষয়ে সমঝোতাও করতে চায় না।’

এর আগের দিন পাকিস্তানকে অর্থ সহায়তা দেয়ার কথা জানিয়ে এক টুইট করেছিলেন ট্রাম্প। তাতে তিনি বলেছিলেন, ‘গত ১৫ বছর ধরে আমেরিকা বোকার মতো পাকিস্তানকে ৩৩০০ কোটি ডলারেরও বেশি আর্থিক সহায়তা দিয়েছে এবং তারা মিথ্যাচার এবং প্রতারণা ছাড়া কিছুই আমাদের দেয়নি। আমাদের নেতাদের তারা বোকা ভেবেছে। তারা সেইসব সন্ত্রাসবাদীকে নিরাপদ আশ্রয় দেয় যাদের বিরুদ্ধে আমরা আফগানিস্তানে লড়াই করছি। আর নয়। পাকিস্তানকে যা অনুদান দেওয়া হয়েছে আপাতত তাতেই ইতি টেনে দিতে পারে আমেরিকা। সন্ত্রাসবাদীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণ না করা পর্যন্ত আর্থিক অনুদান পাওয়ার অভ্যাস ভুলে যাক পাকিস্তান।’

গত বছরের ৬ ডিসেম্বর বায়তুল মুকাদ্দাসকে (জেরুসালেম) আনুষ্ঠানিকভাবে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতির ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একইসঙ্গে তিনি তেল আবিব থেকে মার্কিন দূতাবাসকে জেরুজালেমে স্থানান্তরের পরিকল্পনার কথাও জানান।

ট্রাম্পের ঘোষণা প্রত্যাখ্যান করে ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস গত ২২ ডিসেম্বর বলেন, ‘শান্তি প্রক্রিয়ায় আমেরিকা নিজেকে 'অসৎ মধ্যস্থতাকারী' হিসেবে প্রমাণ করেছে এবং ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে প্রস্তাবিত কোনো পরিকল্পনা আমরা গ্রহণ করব না।’

তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প তার টুইট বার্তায় বলেন, ‘সমঝোতার সবচেয়ে কঠিন বিষয় জেরুজালেমকে আমরা আলোচনার টেবিলের বাইরে এনেছি, তা না হলে ইসরা‌লকে আরও বেশি মূল্য দিতে হতো। কিন্তু শান্তি আলোচনায় ফিলিস্তিনের কোনো আগ্রহ নেই। তাহলে কেন তাদের এই বিপুল পরিমাণের অর্থ দিয়ে যেতে হবে?’

বায়তুল মুকাদ্দাসকে ইসরাইলের রাজধানী ঘোষণার বিষয়ে ট্রাম্পের স্বীকৃতির পর বিশ্বজুড়ে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে পূর্ব জেরুসালেমকে ফিলিস্তিনের রাজধানীর স্বীকৃতি দেয় ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা ওআইসি। জাতিসঙ্গের সাধারণ পরিষদও ট্রাম্পের সিদ্ধান্তকে প্রত্যাখ্যান করে একটি প্রস্তাব পাস করে। এরপর থেকেই মার্কিন সরকার বিভিন্ন দেশকে আর্থিক সহায়তা বন্ধের হুমকি দিয়ে আসছে।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫