বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও ডোনাল্ড ট্রাম্প
বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও ডোনাল্ড ট্রাম্প

পাকিস্তানের পর এবার ফিলিস্তিনকে হুমকি ট্রাম্পের

নয়া দিগন্ত অনলাইন

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফিলিস্তিন স্বশাসন কর্তৃপক্ষকে মানবিক সহায়তা বন্ধ করে দেয়ার হুমকি দিয়েছেন। ইহুদিবাদী ইসরাইলের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় ফিলিস্তিনের অনীহার অজুহাতে তিনি মঙ্গলবার কয়েকটি টুইটার বার্তায় ওই হুমকি দেন।

ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের সহায়তায় গঠিত জাতিসঙ্ঘের ত্রাণ সংস্থার তহবিলের একটা বড় অংশ আসে আমেরিকা থেকে। ২০১৬ সালে ওই সংস্থায় দেয়া মার্কিন সহায়তার পরিমাণ ছিল তিন হাজার কোটি টাকারও বেশি।

মঙ্গলবারের টুইট বার্তায় ট্রাম্প দাবি করেন, ‘শুধু পাকিস্তানই নয়, যাদের আমরা খামোখা কোটি কোটি ডলার দিই, এ রকম আরও অনেক দেশ আছে। যেমন আমরা প্রতিবছর ফিলিস্তিনকে শত মিলিয়ন ডলার দিই এবং কোনো প্রশংসা বা মর্যাদা পাই না। এমনকি তারা অনেক দিন ধরে ঝুলে থাকা বিষয়ে সমঝোতাও করতে চায় না।’

এর আগের দিন পাকিস্তানকে অর্থ সহায়তা দেয়ার কথা জানিয়ে এক টুইট করেছিলেন ট্রাম্প। তাতে তিনি বলেছিলেন, ‘গত ১৫ বছর ধরে আমেরিকা বোকার মতো পাকিস্তানকে ৩৩০০ কোটি ডলারেরও বেশি আর্থিক সহায়তা দিয়েছে এবং তারা মিথ্যাচার এবং প্রতারণা ছাড়া কিছুই আমাদের দেয়নি। আমাদের নেতাদের তারা বোকা ভেবেছে। তারা সেইসব সন্ত্রাসবাদীকে নিরাপদ আশ্রয় দেয় যাদের বিরুদ্ধে আমরা আফগানিস্তানে লড়াই করছি। আর নয়। পাকিস্তানকে যা অনুদান দেওয়া হয়েছে আপাতত তাতেই ইতি টেনে দিতে পারে আমেরিকা। সন্ত্রাসবাদীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণ না করা পর্যন্ত আর্থিক অনুদান পাওয়ার অভ্যাস ভুলে যাক পাকিস্তান।’

গত বছরের ৬ ডিসেম্বর বায়তুল মুকাদ্দাসকে (জেরুসালেম) আনুষ্ঠানিকভাবে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতির ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একইসঙ্গে তিনি তেল আবিব থেকে মার্কিন দূতাবাসকে জেরুজালেমে স্থানান্তরের পরিকল্পনার কথাও জানান।

ট্রাম্পের ঘোষণা প্রত্যাখ্যান করে ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস গত ২২ ডিসেম্বর বলেন, ‘শান্তি প্রক্রিয়ায় আমেরিকা নিজেকে 'অসৎ মধ্যস্থতাকারী' হিসেবে প্রমাণ করেছে এবং ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে প্রস্তাবিত কোনো পরিকল্পনা আমরা গ্রহণ করব না।’

তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প তার টুইট বার্তায় বলেন, ‘সমঝোতার সবচেয়ে কঠিন বিষয় জেরুজালেমকে আমরা আলোচনার টেবিলের বাইরে এনেছি, তা না হলে ইসরা‌লকে আরও বেশি মূল্য দিতে হতো। কিন্তু শান্তি আলোচনায় ফিলিস্তিনের কোনো আগ্রহ নেই। তাহলে কেন তাদের এই বিপুল পরিমাণের অর্থ দিয়ে যেতে হবে?’

বায়তুল মুকাদ্দাসকে ইসরাইলের রাজধানী ঘোষণার বিষয়ে ট্রাম্পের স্বীকৃতির পর বিশ্বজুড়ে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে পূর্ব জেরুসালেমকে ফিলিস্তিনের রাজধানীর স্বীকৃতি দেয় ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা ওআইসি। জাতিসঙ্গের সাধারণ পরিষদও ট্রাম্পের সিদ্ধান্তকে প্রত্যাখ্যান করে একটি প্রস্তাব পাস করে। এরপর থেকেই মার্কিন সরকার বিভিন্ন দেশকে আর্থিক সহায়তা বন্ধের হুমকি দিয়ে আসছে।

শক্ত অবস্থানে পাকিস্তান : ‘আমেরিকার সঙ্গে সম্পর্ক পর্যালোচনা করা হবে’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পাকিস্তান-বিরোধী বক্তব্যের পর আমেরিকার সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি পর্যালোচনা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসলামাবাদ। ট্রাম্পের বক্তব্যের পর পাক সরকার ওয়াশিংটনের বিষয়ে শক্ত অবস্থান গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছে ইংরেজি দৈনিক এক্সপ্রেস ট্রিবিউন।

কয়েকটি সূত্রের বরাত দিয়ে পত্রিকাটি জানিয়েছে, সন্ত্রাসবাদ-বিরোধী লড়াইয়ে পাকিস্তানের আত্মত্যাগের কথা গুরুত্ব দিয়ে কূটনৈতিক অঙ্গনে তুলে ধরার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসলামাবাদ। যদি আমেরিকা পাকিস্তানকে সহায়তা বন্ধ করে দেয় কিংবা কোনো রকমের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে তাহলে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে পুনর্বিবেচনা করতে পারে ইসলামাবাদ।

সূত্রগুলো বলছে, মার্কিন চাপের মুখে পাকিস্তান কোনো দাবি মেনে নেবে না এবং আরো বেশি কিছু করবে না; এমনকি সব ধরনের সহযোগিতা বন্ধ করে দিতে পারে। সূত্র বলছে, আমেরিকার ‘আরো বেশি কিছু করার’ দাবির মুখে পাকিস্তানের জবাব হবে ‘কিছুই করা হবে না’। পাশাপাশি পাকিস্তানের ভবিষ্যত নীতি হতে যাচ্ছে- ‘সহযোগিতার বিনিময়ে সহযোগিতা’ এবং সমতার ভিত্তিতে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা। সূত্র জানিয়েছে, পর্যায়ক্রমে এই নীতি গ্রহণ করা হবে।

পাকিস্তান সম্প্রতি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, জাতীয় নিরাপত্তার আলোকে সব সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। পাশাপাশি মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেমস ম্যাটিসের ইসলামাবাদ সফরের সময় পাক সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জাতীয় স্বার্থের বিরুদ্ধে মার্কিন সরকারের কোনো নির্দেশনা মেনে নেবে না পাকিস্তান। ট্রাম্প প্রশাসন যেসব চাপ সৃষ্টি করেছে তার একটিও মানবে না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসলাবামাদ।

সূত্র মতে, পাকিস্তান এ সিদ্ধান্তও নিয়েছে যে, বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমরিকার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প উৎসের সন্ধান করবে। পাশাপাশি চীন ও রাশিয়াসহ অন্য কয়েকটি দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক এবং বাণিজ্যসহ অন্যান্য সম্পর্ক বাড়ানোর কৌশল নেবে। সূত্র বলছে, বায়তুল মুকাদ্দাস ইস্যুতে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে আমরিকার বিরুদ্ধে পাকিস্তান ভোট দেয়ায় ব্যাপক চাপের মুখে পড়েছে ডোনাল্ড প্রশাসন।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.