ঢাকা, শুক্রবার,২৭ এপ্রিল ২০১৮

এশিয়া

পরকীয়া সারাতে হাসপাতাল! উপচে পড়া ভিড়

নয়া দিগন্ত অনলাইন

০৩ জানুয়ারি ২০১৮,বুধবার, ১২:০৮


প্রিন্ট
প্রতিকী ছবি

প্রতিকী ছবি

সঙ্গী পরকীয়ায় জড়িত খবর পেলে স্বামী হোক বা স্ত্রী প্রথমেই বিবাহ বিচ্ছেদের কথা চিন্তা করেন। সারা বিশ্বে এই চল থাকলেও চীনে ঠিক এর উল্টো চল শুরু হয়েছে। শোনা যাচ্ছে, চীনে কেউ পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়লে তাদের হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

পরকীয়া সারাতে বিশেষ হাসপাতাল গড়ে উঠেছে চীনে। সেই হাসপাতালের লক্ষ্য রোগীর মন থেকে অবাঞ্ছিত তৃতীয় ব্যক্তির ভূত তাড়ানো। নতুন এই হাসপাতালের নাম ‘ওয়েইং লাভ হাসপাতাল’। সেখানে গিয়ে হাজার হাজার ডলার খরচ করে পরকীয়ায় আক্রান্তরা রোগ সারাচ্ছেন।

১৭ বছর আগে ‘লাভ হাসপাতাল’ গড়ে তুলেছিলেন শু শিন ও মিং লি। এ পর্যন্ত ১০ লাখের বেশি গ্রাহককে সেবা দিয়েছেন তারা।

শু শিন জানান, ‘মিসট্রেস’ তাড়াতে ৩৩টি কৌশল অবলম্বন করেন তারা। বদলি করে অন্য শহরে পাঠানো, পরিবার ও বন্ধুদের দিয়ে হস্তপে করানো কিংবা প্রেমিকের বদনাম ও বংশগতভাবে পাওয়া জটিল কোনো অসুখের কথা বলে তার প্রতি মন বিষিয়ে তোলাসহ বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করেন তারা।

লাভ হাসপাতালের দাবি, গত ১৭ বছর ধরে এই কাজ করে চলেছে তারা। শুধু রোগ সারানো নয়, তৃতীয় ব্যক্তিকে বুঝিয়ে সরিয়ে আনা, স্বামীর ট্রান্সফার রুখে সংসার ভাঙা বাঁচানো, স্বামী হোক অথবা স্ত্রীর মানসিকতা ও পারিবারিক ইতিহাস গবেষণা করে সারার উপায় বাতলানো। এসবই করে চলেছে হাসপাতালটি। বহু মানুষ হাসপাতালে আসেন যারা বুঝতে পারেন না সঙ্গীকে কীভাবে খুশি করতে হবে। সেটা জানতেই অনেকে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেন। স্ত্রী বা স্বামীর সঙ্গে সম্পর্ককে ঠিক করতে কী করা প্রয়োজন তা অনেকে ঠাহর করতে পারেন না। অনেকে ভুল করে সম্পর্কে জড়িয়ে অনুতপ্ত হয়ে মানসিকভাবে সুস্থ হতে এই হাসপাতালে আসছেন। আর সবাইকে পরিষেবা দিয়ে চলেছে লাভ হাসপাতাল।

হাসপাতালে সেবা নিতে আসা এক নারী বিবিসিকে জানান, পরকীয়ায় আসক্ত স্বামীকে ফেরাতে তিনি এখান থেকে সেবা নিচ্ছেন। তাকে শেখানো হয়েছে কীভাবে আরো ইতিবাচক, আরো দায়িত্বশীল ও ভালো স্ত্রী হয়ে ওঠা যায়।

ওই নারী বলেন, ‘আমি যখন (স্বামীর পরকীয়া) সম্পর্কের বিষয়টি ধরতে পারলাম, তখন বিবাদে জড়িয়ে পড়লাম। ঝগড়াঝাটির পর সে আমার সাথে আর কথা বলতে চাইত না। তখন আমি সহায়তার জন্য এখানে আসি।’

এরপর স্বামীর জীবন থেকে ওই নারীকে তাড়াতে ওয়েইকিংকে টাকা দেন তিনি। এ ক্ষেত্রে লোক লাগিয়ে তার স্বামীর প্রেমিকা ২৪ বছর বয়সী তরুণীকে বোঝানো হয়, দ্বিগুণ বয়সের ওই ব্যক্তির চেয়ে আরো ভালো কাউকে তিনি পেয়ে যাবেন। এ জন্য কয়েক হাজার ডলার খরচ হলেও স্বামীর সাথে বিচ্ছেদের চেয়ে এটাই ভালো হয়েছে বলে মনে করেন সেবাগ্রহীতা ওই নারী।

তিনি বলেন, ‘আমরা অনেক দিন ধরে একসাথে। আমি এসব কিছুকে হারাতে চাই না। আমি কখনো বিচ্ছেদের কথা ভাবিনি।’

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫