ছাত্রদলের সমাবেশ নিয়ে দিনভর উত্তেজনা

নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ছাত্রদলের ৩৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ছাত্রসমাবেশ ঘিরে গতকাল দিনভর উত্তেজনা বিরাজ করে। সমাবেশের অনুমতি থাকা সত্ত্বেও মিলনায়তনের গেটের তালা খুলে না দেয়ায় এই উত্তেজনা দেখা দেয়। এই ছাত্রসমাবেশে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া প্রধান অতিথি ছিলেন।
জানা যায়, গতকাল সকাল থেকেই ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন প্রাঙ্গণে জড়ো হতে থাকেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। তারা বিভিন্ন এলাকা থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে সেখানে উপস্থিত হতে শুরু করেন। কিন্তু মিলনায়তনের প্রবেশপথে তালা লাগানো দেখে নেতাকর্মীরা সেখানের কৃষ্ণচূড়া গাছের নিচে খোলা জায়গায় ট্রাকে অস্থায়ী মঞ্চ বানিয়ে অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। পর্যায়ক্রমে নেতাকর্মীদের ভিড় বাড়তে থাকে।
ছাত্রদলের ৩৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর ছাত্রসমাবেশ বেলা ২টায় এই মিলনায়তনে অনুষ্ঠান হওয়ার কথা থাকলেও ইনস্টিটিউশনের কর্তৃপ সুপ্রিম কোর্ট এলাকায় রাষ্ট্রপতির অনুষ্ঠানের কথা বলে মিলনায়তনে তালা ঝুলিয়ে দেয়। দুপুর ২টা থেকে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ইনস্টিটিউশন প্রাঙ্গণে জড়ো হন। হাজার হাজার নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে বেগম খালেদা জিয়া বিকেলে অনুষ্ঠানস্থলে এসে পৌঁছলে তুমুল করতালিতে স্থানটি মুখর হয়ে ওঠে।
একপর্যায়ে বিকেল ৫টা ১৭ মিনিটে ইনস্টিটিউশনের কর্তৃপ মিলনায়তন খুলে দেয়। সাথে সাথে হাজার হাজার নেতাকর্মী মিলনায়তনে প্রবেশ করে মঞ্চ সাজানোর কাজটি শেষ করে। বেগম খালেদা জিয়া ১২ মিনিট পরেই মঞ্চে আসেন। সকাল ১০টায় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা অনুষ্ঠানস্থলে মঞ্চ তৈরিসহ সার্বিক প্রস্তুতি নিতে গেলে অনুষ্ঠান বাতিলের বিষয়টি তাদের জানানো হয়। এরপরও অনুষ্ঠান হওয়ার আশায় সংগঠনের নেতাকর্মীরা সমাবেশস্থল ছাড়েননি। বেলা ১টায় তারা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনের সামনে বিােভ করেন। 
এ দিকে সকাল সাড়ে ১০টায় ওই এলাকায় একটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটে। তবে এতে কেউ হতাহত হননি। যেকোনো ধরনের অনাকাক্সিত পরিস্থিতি এড়াতে সেখানে পুলিশ মোতায়েন ছিল।
ছাত্রদলের সভাপতি রাজীব আহসানের সভাপতিত্বে ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদের পরিচালনায় বিকেলে মিলনায়তনের বাইরের সমাবেশে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ, আবদুল মঈন খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমান, কেন্দ্রীয় নেতা হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, ফজলুল হক মিলন, শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, শিরিন সুলতানা, কামরুজ্জামান রতন, এ বি এম মোশাররফ হোসেন, হাবিবুর রশীদ হাবিব, শফিউল বারী বাবু বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন, শামসুজ্জামান দুদু, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, রেহানা আখতার রানু, শাম্মী আখতার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। ছাত্রদল নেতাদের মধ্যে নাজমুল হাসান, আলমগীর হাসান সোহান, আবু আতিক আল হাসান মিন্টু, জহিরুল ইসলাম বিপ্লব, মফিজুর রহমান আশিক, রাজিব আহসান চৌধুরী পাপ্পুুসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ তাদের নেতাকর্মীদের নিয়ে উপস্থিত ছিলেন। ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ^বিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ, মহানগর উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব, পশ্চিমসহ বিভিন্ন এলাকার হাজারো নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে ছাত্রদলের সমাবেশের অনুমতি বাতিলের পর দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে এ ঘটনাকে গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব করার শামিল মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নির্ধারিত ছাত্রসমাবেশের অনুষ্ঠানের জন্য হল উন্মুক্ত করে দেয়ার আহ্বান জানান।
ছাত্রদলের সমাবেশস্থলের পাশে ককটেল বিস্ফোরণ
জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ৩৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশস্থলের পাশে দু’টি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল বেলা সোয়া ১১টার দিকে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট চত্বরে এ ককটেল বিস্ফোরণ হয়। ঘটনাস্থল থেকে আরো চারটি অবিস্ফোরিত ককটেল উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত কাউকে চিহ্নিত করতে পারেনি পুলিশ। তবে এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
ছাত্রদলের দফতর সম্পাদক আব্দুস সাত্তার পাটোয়ারী জানান, সমাবেশ উপলক্ষে সকাল থেকেই ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে জড়ো হতে থাকেন। সকাল সাড়ে ১০টা থেকে পৌনে ১১টার মধ্যে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট চত্বরে পরপর দু’টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। তবে এর সাথে ছাত্রদলের কেউ জড়িত নন বলে দাবি করেন তিনি।
শাহবাগ থানার ওসি আবুল হাসান জানান, প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি বাইরে থেকে দু’টি ককটেল ছুড়ে মারা হয়েছিল। পরে ঘটনাস্থলে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। ওই এলাকা থেকে চারটি অবিস্ফোরিত ককটেলও উদ্ধার করা হয়েছে। তবে জড়িত কাউকে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.